বন্ধ হতে চলেছে রবীন্দ্রভারতীর বসন্ত উৎসব? চলতি মাসেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে রবীন্দ্রভারতী

বন্ধ হতে চলেছে রবীন্দ্রভারতীর বসন্ত উৎসব? চলতি মাসেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে রবীন্দ্রভারতী

রীতি মেনে শুধুমাত্র জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বসন্ত উৎসব, পালন করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • Share this:

#কলকাতা: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বসন্ত উৎসবে অশ্লীলতা বিতর্কের জেরে  পুরোপুরিভাবে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হতে চলেছে বসন্ত উৎসব? অন্তত এমনই সম্ভাবনা উঠে আসছে। চলতি মাসেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে বসবে। ওই বৈঠকে উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী কাউন্সিলের সদস্যদের মতামত এবং অধ্যাপকদের মতামত নিয়েই একপ্রকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বলেই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। মূলত পুরোপুরিভাবে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বসন্ত উৎসব পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করা হবে নাকি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে বসন্ত উৎসব করা হবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ওই বৈঠকে। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী জানান "আমরা পুরো বিষয়টা পর্যালোচনা করব। খুব শীঘ্রই এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকছি।"

গত বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসবে যোগ দেওয়া একদল তরুণ তরুণী নিজেদের বুকে ও পিঠে আবির দিয়ে "চাঁদ উঠেছিল গগনের" রবীন্দ্র সংগীতের পংক্তির কদর্য বিকৃতি করেছিলেন। এছাড়াও আরও কিছু অশালীন কুরুচিকর শব্দ লিখেছিলেন এবং সেইসব ছবি সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা প্রাঙ্গণে এমন অশ্লীল শব্দ নিয়ে় বিতর্ক উঠতেই ইস্তফার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। শুক্রবার সন্ধ্যেবেলায়় শিক্ষামন্ত্রী ও উচ্চ শিক্ষা সচিবকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। শনিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে অবশ্য ইস্তফা পত্র প্রত্যাহার না করলেও উপাচার্য জানান শিক্ষা মন্ত্রী ও পড়ুয়াদের অনুরোধেই তিনি  আপাতত উপাচার্য হিসেবে রবীন্দ্রভারতীর কাজ চালিয়ে যাবেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়় সূত্রে জানা গিয়েছিল এবারের বসন্ত উৎসবে গোড়া থেকেই বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য আপত্তি করেছিল উপাচার্য। কিন্তু উপাচার্যের কথায় বা আপত্তিতে গুরুত্ব না দিয়েই  কার্যত ৫০ হাজারের মতো পাস ছাপানো হয়। তবে তার চেয়েও বেশি বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ায় ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে জাল পাসের তত্ত্ব। তবে সামগ্রিক বিষয় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন উপাচার্য।

আগামী বছর থেকে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য পুরোপুরিভাবে বিটি রোড ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব এক প্রকার বন্ধ  হওয়ার সম্ভাবনা বলেই খবর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে। গত তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসেই বসন্ত উৎসব পালন করা হচ্ছে। মূলত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ভিড় এড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তুু এবার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করাই নয় পুরোপুরিভাবেই বসন্ত উৎসবে ইতি পড়তে চলেছে। চলতি মাসেই উপাচার্য এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর বৈঠক ডেকে কাউন্সিলের সদস্য ও অধ্যাপকদের এ বিষয়ে মতামত নেবেন। উপাচার্য জানিয়েছেন" এবারের বসন্ত উৎসবের ঘটনা ও আগামী বছর কি হবে তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক খুব শীঘ্রই আমরা করবো"।

 
First published: March 8, 2020, 12:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर