পা ভেঙে যাওয়া রোগীর উপস্থিত বুদ্ধিতে আগুনের হাত থেকে বাঁচলেন আরজি করের বহু রোগী

পা ভেঙে যাওয়া রোগীর উপস্থিত বুদ্ধিতে আগুনের হাত থেকে বাঁচলেন আরজি করের বহু রোগী
ফাইল ছবি

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দোতলায় ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি ছিলেন সঞ্জিত মন্ডল।

  • Share this:

#কলকাতা: পা ভেঙে যাওয়ায়  সকালেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আড়িয়াদহের বাসিন্দা সঞ্জিত মন্ডল। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির জেরেই আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেল বেশ কয়েকজন রোগী। হাসপাতালের  জরুরি বিভাগের দোতলায় ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ হঠাৎ করেই তিনি প্রথম ধোঁয়া দেখতে পান। চিৎকার করে প্রত্যেককে সতর্ক করলেও প্রথমে কেউ সেরকম গুরুত্ব দেয়নি। নার্স থেকে শুরু করে গ্রুপ ডি কর্মীরা প্রত্যেকেই ভাবেন, বাইরে আবর্জনার স্তূপে আগুন লেগে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কিন্তু সঞ্জিতবাবু নাছোড়বান্দা। ভাঙা পা নিয়েই তিনি অবিরাম চিৎকার করতে থাকেন।এরপরই ক্যাজুয়ালটি ব্লকের জানালা খুললে দেখা যায়, প্লাস্টিকের মধ্যে আগুন লেগে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আর সেই ধোঁয়া ক্যাসুয়ালটি ব্লকের সর্বত্র ঢুকতে শুরু করেছে। এরপরই রোগী এবং তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সমস্ত রোগীদেরকে পাশের মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করে। গোটা ওয়ার্ড মিনিট দশেকের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এক ফুট দূরত্বে কাউকে দেখা যাচ্ছিল না। আর কিছুক্ষণ যদি রোগীরা সেখানে থাকত, তবে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে হাসপাতাল কর্মীরাই দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসলেও তাঁদের কোন কাজ করতে হয়নি। আধঘণ্টার মধ্যেই অন্যত্র স্থানান্তরিত করা রোগীদেরকে আবার আগেকার জায়গাতেই আনা হয়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর অম্লানবদনে সনজিৎ মন্ডল জানান, "এ আর এমন কি! পা ঠিক থাকলে আমি একাই আগুন নিভিয়ে দিতাম। "

বেলগাছিয়া আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। উত্তর কলকাতার সবথেকে ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল। সবে মাত্র আউটডোর শেষ হয়েছে। বেলা আড়াইটা, হঠাৎ করেই ইমারজেন্সি বিল্ডিংয়ের দোতলার ক্যাসুয়ালটি বিভাগের পাশ থেকে গল গল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। শোরগোল পড়ে যায় রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে। দ্রুত খবর দেওয়া হয় হাসপাতালের সুপার, প্রিন্সিপালকে। ধোঁয়া দেখতে পেতেই হাসপাতালে থাকা টালা থানার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে দমকলে খবর দেওয়া হয়। দেখা যায়,জরুরি বিভাগের দোতলায় অবজারভেশন ওয়ার্ডের বাইরের দিকে প্লাস্টিক শেডের উপর গ্রিলের ওয়েল্ডিংয়ের কাজ হচ্ছিল, সেখান থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে পড়ে প্লাস্টিক ফেটে আগুন লাগে এবং ধোঁয়া তৈরি হয়। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সেই সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

ABHIJIT CHANDA

First published: March 12, 2020, 8:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर