‘আমি তিন মাস ঘুমোতে পারিনি, সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি তাড়া করেছে’, কৃতিকার সুইসাইড নোট নিয়ে একাধিক প্রশ্ন

‘আমি তিন মাস ঘুমোতে পারিনি, সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি তাড়া করেছে’, কৃতিকার সুইসাইড নোট নিয়ে একাধিক প্রশ্ন
Representational Image
  • Share this:

#কলকাতা: নামী স্কুল। উজ্জ্বল কেরিয়ার। বন্ধুবান্ধব। পুরো জীবনটাই পড়ে ছিল কৃতিকার সামনে। এসবের বাইরে কোনও যন্ত্রণা, চাপা ক্ষোভ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল কৃতিকাকে? তাই কী এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে? সুইসাইড নোটে ধরা পড়েছে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতিকার ক্ষোভ।

পড়াশোনার চাপ যতই থাক, মানসিক অবস্থা কোনও জায়গায় গেলে তিন মাস ধরে ঠিকমতো ঘুমোতে পারে না দশম শ্রেণীর কোনও ছাত্রী? কোন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেলে এই অবস্থা হয়? বেশ কিছুদিন ধরেই কৃতিকার জীবনে জড়িয়ে ছিল এই মানসিক টানাপোড়েন। তার পরিণতিও দেখা গিয়েছিল।

সে কথা স্কুলে জানায়নি কৃতিকার পরিবার। কেন? কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল কিনা তাও স্পষ্ট নয়। তবে কৃতিকার মানসিক টানাপোড়েন যে চরমে ওঠে, তা স্পষ্ট। তাই কী ওয়েব সিরিজে আত্মহত্যার দৃশ্য দেখে প্রস্তুতি নেওয়া?

৩ পাতার সুইসাইড নোটের বড় অংশ জুড়েই বাবা-মায়ের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছে দশম শ্রেণীর ছাত্রী। নোটের প্রথম দু-পাতার লেখা ঝরঝরে। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে কৃতিকা লেখে, ‘আমি চাই না তোমরা আমাকে বাঁচাও। তোমরা আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা কোর না। আমি তোমাদের দেখতে চাই না। আমি না থাকলে কোনও ক্ষতি নেই। আমি তিন মাস ঘুমোতে পারিনি। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভুলতে পারিনি ৷’ প্রশ্ন, কোন ভয়ঙ্কর ঘটনার স্মৃতি তাড়া করছিল কৃতিকাকে? ছাত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সুইসাইড নোটের অন্য একটি অংশও দেখেও চমকে গিয়েছেন মনস্তত্ববিদরা। কৃতিকা লিখেছে, ‘আমি ছোটবেলাতেই মরতে চেয়েছিলাম। তবে এভাবে মৃত্যু চাইনি ৷ অনেক দূর পর্যন্ত ভেবেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত, তাও সুইসাইড নোটে স্পষ্ট। মৃত্যুর পর আমায় নিয়ে মিডিয়ায় চর্চা হবে। পুলিশও চর্চা করবে। আমি আত্মহত্যা করেছি। আত্মহত্যার কথা বিশ্বাস না হলে ভেব খুন ৷’

Loading...

কৃতিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দাবি, ইদানিং মনমরা থাকলেও আগে মিশুকে হিসাবেই পরিচিত ছিল কৃতিকা। গত শুক্রবার বারুইপুরে একটি বিয়েবাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গেই এসেছিল সে। সেখানে সবার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলে দশম শ্রেণীর ছাত্রীটি।

মনস্তত্ববিদদের মত, এটাই স্বাভাবিক। এধরনের ক্ষোভ বা অভিমান প্রকাশ করেন না ভুক্তভাগীরা। নিজেদের তৈরি করা জগতে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেন। কৃতিকার ক্ষেত্রেই কী সেটাই ঘটেছে? কোনও কথাই বলতে চাইছেন না কৃতিকার বাবা-মা বা তার পরিবারের লোকেরা। ময়নাতদন্তের পরই শনিবারই বারুইপুরের বাড়িতে কৃতিকার শেষকৃত্য হয়।

First published: 07:04:56 PM Jun 22, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com