• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • এখনও শেষ দু' দফা একসঙ্গে চায় তৃণমূল, বিপক্ষে বিজেপি, পিছনে কোন রাজনৈতিক অঙ্ক

এখনও শেষ দু' দফা একসঙ্গে চায় তৃণমূল, বিপক্ষে বিজেপি, পিছনে কোন রাজনৈতিক অঙ্ক

পঞ্চম দফায় বুথে লাইন। দুই গজের দূরত্ব রাখা কঠিন। এখানেই আসছে ভোট সংযুক্তিকরণের প্রশ্ন।

পঞ্চম দফায় বুথে লাইন। দুই গজের দূরত্ব রাখা কঠিন। এখানেই আসছে ভোট সংযুক্তিকরণের প্রশ্ন।

ভোট সংযুক্তিকরণে সওয়ালের পিছনে লুকিয়ে আছে জটিল রাজনৈতিক অঙ্ক।

  • Share this:

#কলকাতা: দেশজুড়ে করোনা বিস্ফোরণ। এর মধ্যে কেন আট দফায় ভোট বাংলায় এই প্রশ্নটা প্রথম থেকেই উঠছিল, এখন তা আরও জোরালো হয়ে গিয়েছে। শেষ দফাগুলিকে জুড়ে দেওয়া নিয়ে কমিশন প্রথম থেকেই বলে আসছে, ভোটের মধ্য এভাবে নির্ঘন্ট বদল সম্ভব নয় আইনি এবং প্রক্রিয়াগত কারণে। তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের দাবি বা কমিশনের পাল্টা যুক্তি কোনওটাই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু প্ৰশ্ন অন্যত্র, সংযুক্তিকরণে কি রাজনৈতিক দলগুলির লাভ-ক্ষতির অঙ্ক লুকিয়ে রয়েছে? পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, হ্যাঁ, সংযুক্তিকরণ নিয়ে বিজেপি জোর গলায় সওয়াল করতে পারবে না ক্ষতির প্রশ্নেই।

কী সেই ক্ষতি? ২০২১ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট পেশ হতেই দেখা যায়, কাকতালীয় হলেও এমন ভাবেই সূচি তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রথম দিকের সেই অঞ্চলগুলিতেই ভোট হয়েছে যেখানে পদ্ম-হাওয়া বেশি। যেমন জঙ্গলমহল বা দু মেদিনীপুরের মতো অঞ্চল। অন্য দিকে ভোটের গাড়ি শেষের দিকে এমন অনেক অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছে যেখানে শেষ লোকসভা ভোটে দাঁতই ফোটাতে পারেনি বিজেপি। এই অবস্থায় সংযুক্তিকরণ মানে প্রচারে কোপ যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ব্য়ালট বক্সে। প্রচারের অধিকারের প্রশ্নে প্রার্থী তা মানবেন কেন?

করোনার কথা মাথায় রেখে বিজেপি অন্যান্য দলগুলির মতোই প্রচারে সতর্কতা অবলম্বন করছে ঠিকই, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সভাও হচ্ছে কোভিড বিধি মেনে। কিন্তু একেবারে প্রচারের আলো থেকে সরে গিয়ে খাল কেটে কুমীর আনতে রাজি নয় বিজেপি শিবির। মনে রাখতে হবে গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতায় ভালো ফল হয়নি বিজেপির। দুই চব্বিশ পরগণাতেও ফল ভালো হয়নি। শেষ বেলায় এই অঞ্চলগুলিতে সর্বোচ্চ ফায়দা তুলতে গেলে চাই পুরোদমে প্রচার, এমনটাই মত রাজ্য বিজেপির চেনামুখদের।

তবে বিজেপির দোলাচলও রয়েছে। কেমন সেই দোটানা? রাজনৈতিক বিশ্লেষক সম্বিত পাল বলছেন,"ভোটপর্ব সংযুক্তিকরণে বিজেপির প্রচারে কোপ পড়বে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই কারণেই বিজেপি এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। কিন্তু গোটা ভোট পর্বে এই শেষবেলায় করোনা একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেক্ষেত্রে দফা সংযুক্তকরণ না হওয়া থেকে ভ্যাকসিনের যোগান,সব মিলিয়ে বিজেপি বিরোধিতার যে হাওয়া তৈরি হচ্ছে সেটা বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তাই সংযুক্তিকরণে তাদের ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি। অন্য দিকে শেষ দফায় যেসব অঞ্চলে ভোট রয়েছে তার অধিকাংশতেই লোকসভার ফলের নিরিখে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে, কাজেই ভোটের দিন সংযুক্তিকরণ হওয়া না হওয়ায় তাদের ভোটবাক্সে হয়তো বড় প্রভাব পড়বে না। বরং করোনা পরিস্থিতি আর এই প্রলম্বিত সূচিকে তারা বিজেপি বিরোধিতার কাজে লাগাতে পারবে রাজনৈতিক ভাবে।"

বিজেপির অন্দরের যুক্তি,ভোট একবারে হলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যায় পরিস্থিতির কারণ। কিন্তু ভোট শতাংশের প্রশ্ন এলে বিষয়টি যথেষ্ট জটিল। তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল সিপিএম-বিরোধী ভোটে। কিন্তু গত দশ বছর সংগঠন মজবুত হয়েছে একটু একটু করে। বেশ কিছু নেতা দলত্যাগ করলেও, ,তৃণমূলের কোর ভোটার এখন অটুট। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে গত লোকসভা ভোটেই। এই ভাবে ভাবলে, বিজেপির কোর ভোটার এখনও তৈরি হয়নি এই রাজ্যে। তাদের ভরসা আবেগ, মোদি ম্যাজিক, মেরুকরণ ইত্যাদি। এক কথায় বললে ফ্লোটিং ভোটই গেরুয়া শিবিরের সহায়। এই ফ্লোটিং ভোটারকে বুথমুখী করতে সর্বাত্মক প্রচার ছাড়া আর কোনও অস্ত্র নেই বিজেপির হাতে। সংযুক্তিকরণ হলে সেই সুযোগেই কাঁচি চলবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মানছেন বলছেন করোনা পরিস্থিতিও তৃণমূলের পক্ষে যেতে পারে। কারণ এই পরিস্থিতিতেও দুর্গরক্ষায় মরিয়া তৃণমূলের কোর ভোটাররা দলকে ভোট দেবে। এই অবস্থায় বিজেপির চ্যালেঞ্জ শাসক বিরোধী ভোট ধরে রাখা, ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চৌম্বকশক্তি তৈরি করা। এক্ষেত্রে ভোটশতাংশ কমা মানেই কপালে ভাঁজ পড়বে গেরুয়া শিবিরে। আর করোনাই সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট যে ত়ৃণমূলের বড় ভোটব্যাঙ্ক এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গাই নেই। এদিকে গেরুয়া শিবির চূড়ান্ত মেরুকরণের রাজনীতি করলেও হিন্দু ভোট একত্রিকরণ যে হয়ে গিয়েছে এ কথা বলা যায় না এখনই। এই পরিস্থিতিতে করোনাও মেরুকরণের কাজ করতে পারে। অর্থাৎ এই কঠিন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূল যতটা ভালোভাবে ব্যালটবক্সে টানতে পারবে, ফ্লোটিং ভোটকে হিন্দুত্বের বন্ধনীতে এনে ব্যালটবক্স পর্যন্ত টানা তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত কঠিন কাজ। আর সেক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে যেতে পারে সংযুক্তিকরণ। এই কারণ সামলে রাখলে বিজেপি অবশ্যই চায় না ভোটপর্ব জুড়ে দেওয়া হোক। ঘুরিয়ে বললে তৃণমূল লাভের অঙ্ক কষেই সংযুক্তিকরণ পক্ষে আওয়াজ তুলেছে। যদিও পরিস্থিতি বেসামাল হলেও ভোট হবে নির্ঘন্ট মেনেই-এ কথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।‌‌‌

Published by:Arka Deb
First published: