ওভারচারজিংয়ের সমস্যা দূর করতে রেলের খাবার প্যাকেটেও এবার থাকবে QR কোড

ওভারচারজিংয়ের সমস্যা দূর করতে রেলের খাবার প্যাকেটেও এবার থাকবে QR কোড

বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ জমা পড়ল প্রায় ৫০০০ হাজার। তার পরেই কড়া হচ্ছে রেল এবং আই আর সি টি সি'র।   

  • Share this:

# কলকাতা : রেলের খাবারে "ওভারচারজিং" এর অভিযোগ। রেল মন্ত্রকে অভিযোগ জমা পড়েছে আড়াই হাজার। আইআরসিটিসি-র কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে আট হাজার অভিযোগ। এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ায় এবার কড়া হচ্ছে রেল মন্ত্রক।

খাবারের প্যাকেটে দামের উল্লেখ না থাকলে এবার বাতিল করে দেওয়া হবে সংস্থার লাইসেন্স। বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের খাবারের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কখনও পচা খাবার দেওয়ার অভিযোগ। কখনও আবার খাবারের মধ্যে পড়ে রয়েছে পোকামাকড়। এই নিয়ে নানা স্টেশনে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। এমনকি রেলের ক্যাটারিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মারধর করা হয়।

এসবের পাশাপাশি অভিযোগ জমা পড়েছে, রেলে যে পরিমাণ খাবার দেওয়ার কথা সেই খাবার দেওয়া হয় না। মানে কম ওজনের খাবার দেওয়া হয়। এই অবস্থায় যাত্রীদের অভিযোগ কমাতে সচেষ্ট হল ভারতীয় রেল ও আইআরসিটিসি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাজধানী, শতাব্দী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতেও খাবারের মান ও ওজন পরীক্ষা করা হবে। কারণ এই ট্রেনগুলোতে টিকিটের দামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া থাকে খাবারের দাম।

যদিও এই সব ট্রেনগুলোতে খাবারের পরিমাণ নিয়ে সমস্যা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আছে, যে সব ট্রেনে আলাদা করে খাবার কিনে খেতে হয়। প্যান্ট্রিকার থাকলেও, আইআরসিটিসি-র নাম করে ট্রেনে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েছে ১৯৬২ টি। এর সবকটি অভিযোগ বেশি দাম নেওয়ার। এর মধ্যে ৯৮৯ ক্ষেত্রে ক্যাটারিং সংস্থার বিরুদ্ধে জরিমানা করেছে রেল। জরিমানা বাবদ রেলের আয় হয়েছে ৭৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা।

সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৫২৬ ক্যাটারিং সংস্থারকে। ২৭৩ টি ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাবধান করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কী করতে হবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ৬৫ ক্ষেত্রে অভিযোগ জমা পড়লেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ যাত্রীদের অভিযোগ ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। আপাতত আইআরসিটিসি ঠিক করেছে খাবারের প্যাকেটে কুইক রেসপন্স বসানো থাকবে।

যা মোবাইলে স্ক্যান করলেই খাবারের প্যাকেট সংক্রান্ত সব তথ্য জানা যাবে। এছাড়া প্রতিটি কামরায় থাকবে খাবারের নাম ও দামের তালিকা। যা দেখে যাত্রীরা নিশ্চিত হতে পারবেন। গত একবছর ধরে ভারতীয় রেলে চালু করা হয়েছে, "নো বিল, দ্য ফুড ইজ ফর ফ্রি" প্রকল্প। যদিও তার কোনও প্রভাব যে ভারতীয় রেলে পড়েনি তা পরিষ্কার ভারতীয় রেলের এই অভিযোগের তালিকা থেকে। সমস্ত সমস্যা দুর করার জন্য তাই আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতি ট্রেনে অন বোর্ডে একজন করে আইআরসিটি  সি'র সুপারভাইজার থাকবে।

আবীর ঘোষাল

First published: February 11, 2020, 5:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर