পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনানো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, অস্বীকার স্কুল কর্তৃপক্ষের

পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনানো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, অস্বীকার স্কুল কর্তৃপক্ষের

পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনানো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, অস্বীকার স্কুল কর্তৃপক্ষের

  • Share this:

#কলকাতা: নামী স্কুল। ঝকঝকে চেহারা। বিদেশ নয়, এরাজ্যেই রমরমিয়ে চলছে একাধিক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে পড়ুয়াদের শিক্ষিত করার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতা, আদব কায়দা শেখানোর পাশাপাশি চলে নানা ধরনের ট্রেনিং ৷ দেশ দুনিয়ার রাজনীতি নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্য জেনে থাকতে হবে আপ-টু-ডেট ৷

সেই প্রচেষ্টাতেই নাকি ক্লাসে বসিয়ে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণ শোনানো হয় ৷ কলকাতার প্রথম সারির স্কুলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৷

বেসরকারি হাসপাতালের মতই বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ভুরি ভুরি অভিযোগ। ভর্তির সময় বিপুল ফি, পরেও নানা অছিলায় টাকা নেওয়ার মতো অভিযোগ্য নিত্যদিনের ঘটনা। গত কয়েক বছরে অভিযোগের তালিকা ক্রমশ লম্বা হয়েছে।

লাগামছাড়া অ্যাডমিশন ফি। কখনও কখনও তা কয়েক লক্ষ টাকা ৷ নতুন শ্রেণীতে ভর্তিতে বাড়তি টাকা, কসান ডিপোজিট, ডেভেলপমেন্ট ফি-নামে টাকা, স্পোর্টস ও কালচারাল অ্যাকটিভিটির নামে টাকা, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পোষাক, জুতো, খাতা কিনতে বাধ্য করা ৷ এব্যাপারে সমাধানসূত্র খুঁজতেই বুধবার টাউন হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই বৈঠকেই শ্রী শিক্ষায়তন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক ভাষণ শোনানোর অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ বৈঠকে উপস্তিত ছিলেন শ্রী শিক্ষায়তন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভাপতি ব্রততী ভট্টাচার্য ৷ তাঁকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি আপনাদের স্কুল প্রিন্সিপ্যাল সঙ্গীতা টন্ডন পড়ুয়াদের স্কুলে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতা শোনান ৷ আমি জানাতে চাই যে আমরা বিষয়টি জানি ৷ স্কুলে কেন রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনানো হবে? রাজনৈতিক নেতার ভাষণ শোনান কেন? ’

শ্রী শিক্ষায়তন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভাপতি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ করে জানান স্কুলে এমন কোনও কিছু পড়ুয়াদের শোনানো হয় না ৷

সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের অনুমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদির মন কি বাত অনুষ্ঠান পড়ুয়াদের শোনানোর কথাই নেতাদের রাজনৈতিক বক্তৃতা বলে বোঝাতে চেয়েছিলেন ৷ যদিও এটাও সত্যি মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে কোনও রাজনৈতিক নেতার নাম করেননি ৷

এতেই শেষ নয়, ১৯৫৪-তে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শিক্ষায়তন স্কুল কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরকম ঘটনা যেন আর না ঘটে ৷ বাচ্চাদের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতা শোনানোর কী প্রয়োজন ! আমি নিজেও শ্রী শিক্ষায়তন কলেজ(স্কুল কলেজের পরিচালন সমিতি একই) থেকে বিএড করেছি ৷ আমি চাই না পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনানোর জন্য বাধ্য করা হোক ৷ এমনকি কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি আমার ভাষণও চালানো হয়, তাও আমি প্রতিবাদ করব ৷ রাজনৈতিক ভাষণ থেকে শেখার কিছু নেই ৷ এটা শুধু মাত্র রাজনৈতিক খেলা ৷ ’

মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে শ্রী শিক্ষায়তন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভাপতি ব্রততী ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্কুলে এমন কোনও ঘটনার রিপোর্ট আমরা পাইনি ৷ ’ উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েই বলেন, ‘আমার কাছে খবর এসেছে ৷ এমনকি আপনাদের স্কুলেরই বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন ৷’

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ শুনে ব্রততী ভট্টাচার্য আরও একবার আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমাদের স্কুলে কখনই মন কী বাত অনুষ্ঠানের কোনও পর্ব চালানো হয়নি ৷ আমার মনে হয় রাজ্য সরকারের সঙ্গে এটা কোনও বড়ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে ৷’

উত্তপ্ত আলোচনা এখানেই শেষ হয় ৷ শুধু শ্রী শিক্ষায়তন নয়, লাগামছাড়া ফি-এর প্রশ্নে একাধিক প্রথম সারির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিরস্কৃত হন ৷

First published: 02:12:25 PM Jun 01, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर