ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা, রায়গঞ্জ থেকে কলকাতা হয়ে নয়াদিল্লি, ভোটের আগে ফিরে দেখা প্রিয়দাকে...

ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা, রায়গঞ্জ থেকে কলকাতা হয়ে নয়াদিল্লি, ভোটের আগে ফিরে দেখা প্রিয়দাকে...
Photo: News 18 Bangla
  • Share this:

#কলকাতা: ছাত্র রাজনীতি থেকে উত্থান। ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা। উত্তরের এক জেলা থেকে কলকাতা হয়ে নয়াদিল্লি। রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় অবাধ বিচরণ। এই শতাব্দীর শুরুতে বাম-কংগ্রেস জোট তৈরিতে প্রধান ভূমিকা নেন তিনি। জানেন কে সেই পাঁচবারের সাংসদ? কখনও চাবি দাশমুন্সি। কখনও মিথ্যা দাশমুন্সি। কুৎসা ছিল প্রচুর। তবু তিনি অপ্রতিরোধ্য। বিচক্ষণ রাজনীতিক। তুখোর বক্তা। রায়গঞ্জের ভোটে আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ভোট যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা রাজ্য রাজনীতির প্রিয়দা-কে।

ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজ্য রাজনীতির সক্রিয় কর্মী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

--১৯৭০ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন

--১৯৭১-য়ে ২৬ বছর বয়সে প্রথম সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ

--দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ হন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

Loading...

কংগ্রেসের দুই মুখ সুব্রত মুখোপাধ্যায়-প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি জুটি তখন বাংলার রাজনীতি কাঁপাচ্ছে। তারপর প্রায় চার দশক ধরে তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার একের পর এক নমুনা দেখেছে দেশ।

--১৯৮৪ সালে হাওড়ার সাংসদ নির্বাচিত হন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

--১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালের ভোটে অবশ্য হেরে যান তিনি

---১৯৯৬ সালে ফের হাওড়ার সাংসদ

লোকে বলে, হাওড়ায় লোকসভা ভোটের প্রচারের নেমে প্রিয়রঞ্জন বলেছিলেন,কোমরে রাখা চাবি দিয়ে শিল্পশহরের সব বন্ধ কারখানা খুলে দেবেন। সেই থেকে তিনি হাওড়ার চাবি দাশমুন্সি। ১৯৯৯ সালে কেন্দ্র বদল। এবার ভোটযুদ্ধ ঘরের মাঠেই।

---১৯৯৯ সালে রায়গঞ্জ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ভূমিপুত্র প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

--২০০৪ সালেও ফের রায়গঞ্জের সাংসদ

প্রিয়রঞ্জন আজও রায়গঞ্জের আবেগের নাম। রায়গঞ্জে ব্রড-গেজ লাইন থেকে গোয়ালপোখরের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ.....রায়গঞ্জের উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিশ্রুতি ছিল, রায়গঞ্জে তৈরি হবে এইমস। সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। আক্ষেপ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের। দক্ষ জনসংযোগ, নিমেষে মানুষের সঙ্গে আলাপ জমানোর ক্ষমতা, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতা। তীক্ষ্ম বাগ্মী। এই ছিল তাঁর ইউএসপি।।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব ছিল প্রিয়রঞ্জনের কাঁধে। প্রথম ইউপিএ আমলে তিনি ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম ক্রাইসিস ম্যানেজার। বামেদের সঙ্গে সমন্বয়ের সোনিয়া গান্ধির ভরসা। ইন্দিরা থেকে সনিয়া, অটলবিহারী থেকে করুণানিধি - সব নেতার কাছেই পছন্দের ব্যক্তিত্ব। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি অসুস্থ হওয়ার পর ২০০৯ সালে রায়গঞ্জের সাংসদ হন তাঁর স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি। এবারও প্রার্থী তিনি। ভরসা সেই প্রিয়দা।।

২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান প্রিয়রঞ্জন। দীর্ঘ ৯’বছর চিকিৎসার পর ২০১৭ সালের ২০-শে নভেম্বর শেষ হয় পথচলা। প্রিয়রঞ্জন নিজেই নিজের ট্রেডমার্ক। আজও রায়গঞ্জের ভোটে তিনি-ই কংগ্রেসের অক্সিজেন।

First published: 11:11:00 PM Mar 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर