ঠাকুরদালানটা আজ শূন‍্য, এবার কালিয়াগঞ্জের পুজোতে নেই প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

  • Share this:

    #কলকাতা: তিনি ছিলেন তারকা। তিনি ছিলেন পাশের বাড়ির ছেলে। তিনি ছিলেন পুজোর মূল আকর্ষণ। তিনি নেই। তাই এবার পুজোও হল না। মন ভাল নেই কালিয়াগঞ্জের। তার প্রিয় প্রিয়রঞ্জনই যে নেই!!

    তিনি ছিলেন, তখন পুজোয় ছিল আনন্দে ভেসে যাওয়া। তিনি নেই, ঠাকুরদালানটা আজ শূন‍্য তিনি ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের সকলের প্রিয়। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। পুজোর সময় ঠিক চলে আসতেন শ্রীকলোনিতে। ছোটবেলার বাড়িতে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, তখন তিনি ঘরের ছেলে। পাশের বাড়ির ছেলে। পুজোয় মগ্ন।

    পুরনো সেই দিনের কথা বার বার মনে পড়ে যায় কালিয়াগঞ্জের। তখন পুজোর দিনগুলি ছিল একেবারে অন‍্যরকম। ঢাকের তালে মন নেচে উঠত....রাজনীতির জগতে তিনি ছিলেন তারকা। তিনিই ছিলেন দাশমুন্সি পরিবারের পুজোর চুম্বক। প্রিয়রঞ্জনের পুজোয় তখন কালিয়াগঞ্জে ভিআইপিদের ভিড়।

    দুর্গাপুজো এলেই কালিয়াগঞ্জের মনে পড়ে যায় ২০০৮ সালের কথা। সেবারও পুজোয় মেতে ছিলেন প্রিয়। হঠা‍ৎ যে কী হল! অষ্টমীতে শরীর খারাপ। আর ভাল হননি। কয়েক বছর দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত বছর সেই লড়াইয়ের সমাপ্তি। ঘরে ফিরেছিল ঘরের ছেলের নিথর দেহ।

    এত বছর তিনি বাড়ির পুজোয় ছিলেন না। তবু বেঁচে তো ছিলেন। দাশমুন্সি ভিলায় পুজো না হলেও ঘট পুজো হত। গত বছর নভেম্বরে মারা যান প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। এবার তাই প্রিয়র বাড়ির পুজোও বন্ধ।

    প্রিয় নেই। তাই পুজো এলেও মন ভাল নেই শ্রীকলোনির। যে বাড়ি পুজোর সময় গমগম করত, আলোয়-আনন্দে ভেসে যেত, সেই বাড়িই আজ ফাঁকা।

    বাঙালির কাছে দুর্গা পুজো তো শুধুই পুজো নয়। এ এক প্রাণের উৎসব। এই পুজো কত কিছু ভুলিয়ে দেয়। কত কিছু মনে করিয়ে দেয়। কালিয়াগঞ্জেরও মনে পড়ে যায়। পুজো এলেই মনে পড়ে যায় প্রিয় মানুষটিকে। প্রিয়রঞ্জনকে। তাঁর সেই ফেলে আসা পুজো, আজ যেন নিভে যাওয়া পুজো।

    First published: