অপেক্ষা ফুরোল, প্রিয়রঞ্জনের দুই বাড়িরই আজ শূন্যতা সীমাহীন

অপেক্ষা ফুরোল, প্রিয়রঞ্জনের দুই বাড়িরই আজ শূন্যতা সীমাহীন
নিজস্ব চিত্র

তিনি ছিলেন না। তবুও তো ছিলেন। আশা-আশঙ্কার মাঝে ঘুমিয়েছিলেন সবার প্রিয় প্রিয়দা।

  • Share this:

#কলকাতা: তিনি ছিলেন না। তবুও তো ছিলেন। আশা-আশঙ্কার মাঝে ঘুমিয়েছিলেন সবার প্রিয় প্রিয়দা। কিন্তু কোথাও আশায় জল ঢেলে সত্যি হয়ে গেল আশঙ্কা। চিরঘুমে চলে গিয়েছেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। দু'হাজার আট সাল থেকে প্রতীক্ষায় ছিল কালিয়াগঞ্জ আর কলকাতার বাড়ি। আজ দু'বাড়িরই শূন্যতা সীমাহীন।

সেবার পুজোয় এই ঠাকুরদালান ছিল জমজমাট। ঢাকের তালে মেতে উঠেছিলেন তিনি। ২০০৮ এর পঁচিশে অক্টোবর। সেই শেষ। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছিল সব আনন্দ। তবুও অপেক্ষা ছিল। ফুলের বাগান, উঠোন প্রাঙ্গন চেয়েছিল তাঁদের প্রিয়দা আসবে উত্তর দিনাজপুরে। কালিয়াগঞ্জের শেঠ কলোনির বাড়িতে। কিন্তু না... সোমবার এসে পৌঁছয় দুঃসংবাদ। প্রয়াত হয়েছেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। অসুস্থ থাকায় আসতেন না ঠিকই। তবু আশা ছিল। জীবনে অনেক মিরাকল ঘটিয়ে হেরে যাওয়া লড়াই জিতে যাওয়ার অভ্যেস ছিল প্রিয়রঞ্জনের। কিন্তু নিজের জীবনের লড়াইয়ে কোনও মিরাকল ঘটল না। কখনও পাশের বাড়ির ছেলে। কখনও বন্ধু। কখনও দাদা। কাছের মানুষদের চোখে হারানোর অশ্রু।

কলকাতা পুরসভার ৮৮ নং ওয়ার্ড। সাদা ফলকের উপর লেখা বাড়ির ঠিকানা। প্রতাপাদিত্য রোডের বাড়ির আসবাব রোজ পরিষ্কার করেন সঞ্জিত িসংহ। কালিয়াগঞ্জ থেকে তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন প্রিয়দা। নাহ... আর হয়তো কাজে মন বসবে না। প্রিয়দার মনের মতো রান্নাও কি আর হবে এ'বাড়িতে?

আশুতোষ কলেজে ছাত্র পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। প্রিয়দার সঙ্গে সে'সময় থেকে আলাপ। তারপর কখনও নিজের দাদার থেকে আলাদা মনে হয়নি। আজ সেই ছাত্র প্রৌঢ়। স্মৃতিচারণায় শুধুই প্রিয়দা।

প্রতিবেশীরাও ছিলেন আপনজন। চায়ের দোকানে আড্ডা থেকে আত্মীয়তা। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি সবার কাছেই বড্ড ভালমানুষ। মুখের জরায় আর ঝাপসা চশমায় বার্ধক্যও ভোলেনি প্রিয়কে।

First published: 08:51:42 AM Nov 21, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर