• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • অবশেষে সমস্ত বাধা পেরিয়ে টেটের ফলপ্রকাশ, সায় দিল আদালত

অবশেষে সমস্ত বাধা পেরিয়ে টেটের ফলপ্রকাশ, সায় দিল আদালত

  • Share this:

    #কলকাতা: অবশেষে আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রকাশিত হতে চলেছে টেটের ফল ৷ প্রাথমিক টেটের ফলপ্রকাশে রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিচারপতি সিএস কারনান, টেট ফলপ্রকাশের উপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল তা এদিন তুলে নিয়ে জানান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টেটের ফলপ্রকাশ করতে হবে ৷  প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ফলপ্রকাশে আর কোনও আইনি বাধা রইল না ৷ রাজ্যের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়িই ৪০ হাজার শূন্যপদে  শিক্ষক নিয়োগ করা হবে ৷

    তবে নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন প্রশিক্ষিতরাই ৷ ২০১৫-এ টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সবার আগে চাকরি দেবে সরকার। এরপর শূন্যপদ থাকলে প্রশিক্ষণহীনদের চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে ভাবা হবে। নথি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থী রয়েছেন। ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে রাজ্য। এই রায়ে স্বভাবতই খুশি প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ৷

    আজকের রায়ে শুধু প্রাথমিকের নয় এসএসসি টেট সংক্রান্ত জটিলতাও কাটল ৷ তবে এখনও রয়ে গিয়েছে ছোট একটি জটিলতা ৷ রাজ্যের অবস্থান অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরিতে নিয়োগের পর যদি শূন্যপদ থাকে তাহলে নিয়োগ করা হবে অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ৷ কিন্তু অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নিয়োগের জন্য কেন্দ্রের দেওয়া সময়সীমা ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ ৷ বিচারপতি সিএস কারনান জানিয়েছেন, ‘৩১ মার্চ ২০১৬-এর পর নিয়োগ হবে কিনা, তা কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল ৷’

    ২০১৬ সালের ৩১ মার্চের পর অপ্রশিক্ষিত টেট প্রার্থীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন কিছু প্রশিক্ষিত টেট পরীক্ষার্থী ৷ সেই মামলার শুনানি শেষেই এদিনই টেট পরীক্ষার রায়দানের কথা ছিল ৷ কিন্তু ২০০৯-র পর থেকে টেট প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বেশিরভাগই স্বীকৃতিহীন ছিল বলে আজ আদালতে জানায় রাজ্য। বিচারপতির পালটা প্রশ্ন, রাজ্য স্বীকৃতিহীন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনত কী ব্যবস্থা নিয়েছে? মামলার শুনানি শেষ হলেও নতুন করে ওঠা এই সব প্রশ্নের ভিত্তিতে রায়দান আপাতত স্থগিত রাখেন বিচারপতি সিএস কারনান। শীঘ্রই রায়দান হবে , জানালেন বিচারপতি।

    রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক পদে প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগের আশা শেষ। ২০১৫-এ প্রাথমিক শিক্ষক পদে প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগে জন্য কেন্দ্রকে চিঠি দেয় রাজ্য। ছাড়পত্র দেয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। ২০১৬-র ৩১ মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে বলে কেন্দ্র। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগের বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করা হয়। ৩১ অগাস্ট হাইকোর্টে সেই মামলার চূড়ান্ত রায়দানের কথা ছিল।

    কিন্তু নতুন করে ওঠা কিছু প্রশ্নের ভিত্তিতে পিছিয়ে যায় রায়দান। শুনানির সময়ে রাজ্যের আইনজীবীর যুক্তি ---

    ------২০০৯-র পর ৪৩৭ টি টেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বেশিরভাগই স্বীকৃতিহীন ছিল

    ------সেই সব কেন্দ্রের পড়ুয়াদের শংসাপত্রও বৈধ নয়

    ----- ২০১৫-য়ে টেটের বিজ্ঞপ্তি জারির সময় তাই প্রশিক্ষিত প্রার্থীর অভাব ছিল

    রাজ্যের যুক্তিতে পাল্টা প্রশ্ন করেন বিচারপতি সিএস কারনান, ২০০৯-র পর থেকে রাজ্য সরকার এই স্বীকৃতিহীন প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আইনত কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

    জবাবে সরকারি আইনজীবী জানান,

    --এখন রাজ্য সরকারের অনুমোদিত স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আছে

    ----- কোর্স শেষ করতে সময় লাগবে আরও ২ বছর

    -----২০১৭-র মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থী প্রশিক্ষিত হয়ে যাবেন

    মামলাকারীর আইনজীবীরা এতে তীব্র বিরোধিতা করেন। আর এই সব প্রশ্নের ভিত্তিতে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি সিএস কারনান।

    শিক্ষণপ্রাপ্ত টেট উত্তীর্ণরা চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন। তারপরেও শূন্যপদ থাকলে প্রশিক্ষণহীনরা নিযুক্ত হবেন। হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন রাজ্যের আইনজীবী। তবে এই ঘোষণার পর প্রাইমারি টেট মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীরা ৷ টেট নিয়ে কেন্দ্রের দেখানো পথেই ঘুরে আসতে হল রাজ্যকে।

    শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিধ্বনিই এর আগের দিন শোনা যায় হাইকোর্টে বিচারপতির গলায়। আজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মামলা তুলে নিলেই রাজ্যে ৬৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে সরকার। আর এদিন কলকাতা হাইকোর্টে টেট মামলায় বিচারপতির মন্তব্য, মামলার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সব পক্ষ। জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। এরপরই ৩১শে অগাস্ট মামলার রায় দেবে বলে জানায় আদালত ।

    First published: