corona virus btn
corona virus btn
Loading

পেটে ৮ মাসের সন্তান নিয়েই হেঁটে চলেছেন রেখা, আশা বাড়ি ফিরে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেবেন

পেটে ৮ মাসের সন্তান নিয়েই হেঁটে চলেছেন রেখা, আশা বাড়ি ফিরে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেবেন
  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#কলকাতা: গনগনে রোদে, পুড়ছে জাতীয় সড়ক। তার তাপ গায়ে এসে লাগলে মনে হয় যেন কেউ জ্বলন্ত কয়লা ছুঁড়ে মেরেছে। যদিও সেই সব কিছুকে তোয়াক্কা না করে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে অনেকে। এদের কেউ পরিযায়ী শ্রমিক। আর কেউ কেউ.....জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁষে দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে হেঁটে চলেছেন রেখা দেবী। হেঁটে চলেছেন আরও একজনকে ভালভাবে এই পৃথিবীর আলো দেখাবেন বলে। সাহায্যের হাত ধরতে স্বামী আছেন। কিন্তু ফুলের যত্ন তো সেই গাছকেই নিতে হবে।

কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা অমৃত সাউ। স্টেশন এলাকায় তিনি টোটো চালান। বলা ভাল, টোটো চালাতেন তিনি। লকডাউনের জেরে বন্ধ টোটো চলাচল। ফলে কাজ নেই। নেই কাজ মানে, খাওয়া দাওয়া নেই। আগত সন্তানের জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। অমৃত আর রেখা তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সন্তানের জন্য হাঁটবেন। কিন্তু হাঁটবেন কেন? অমৃতের মা-বাবা নেই। সংসার বলতে স্ত্রী আর সাড়ে তিন ও আড়াই বছরের দুই কন্যা সন্তান। রেখার বাড়ি কাটিহারে। কিষাণগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে কেউ নেই। রেখা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করা যে কতটা মুশকিল তা ভালই বুঝেছেন রেখা।

‘‘কথা বলেছিলাম তো একটা টেম্পো চালকের সাথে। ১৭০০ টাকা নেবে বলেছিল। বলেছিল পুলিশ থেকে পারমিশন জোগাড় করে নেবে। তারপর আবার বেঁকে বসল।’’ এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেল অমৃত। স্বামীর কথার রেশ ধরে রেখা বলছেন, "আমি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জানি এই অবস্থায় এরকম ভাবে হাঁটাচলা করা ঠিক নয়। কিন্তু এই লকডাউন কবে উঠবে তা তো জানি না। তাই তো বাধ্য হয়েই আমরা হেঁটে চলেছি। মায়ের কাছে পৌঁছে গেলে কিছুটা সুরাহা হবে।

৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হেঁটে চলে যাচ্ছে রেখা। মাঝে মাঝে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার করে হাঁটা আর রাস্তার ধারের কোথাও বিশ্রাম। খিদে পেলে কখনও বিস্কুট, কখনও ফল এভাবেই ক্ষিদে মেটাচ্ছে পরিযায়ী রেখা, অমৃত। পুলিশ প্রশাসন থেকে সাহায্য নিলেন না কেন? রেখার ঝাঁঝালো উত্তর, "পুলিশ কি করবে? আমাকে তো সাহায্য করতে পারবে না। এতটা পথ পেরিয়ে এলাম, রাস্তায় কত পুলিশ আমাদের দেখল। কই তাঁরাও তো সাহায্য করল না।" অভিমান ঝরে পড়ছে রেখার গলায়। যদিও এই কঠিন পরিস্থিতিতে মান-অভিমানের সময় নেই রেখার কাছে। সে জানে ধীরে ধীরে তার শরীরে বেড়ে উঠছে আর একজন। সে জানে না লকডাউন, সে জানে না করোনা। একা মা'ই জানে এ সব কিছু। এক মা'ই কষ্ট সইতে পারে। সব মায়েদের প্রতিনিধি হয়ে ঝড়-জল-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হেঁটে চলেছেন রেখা। কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে হবে তো।

First published: May 3, 2020, 10:16 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर