• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • PRASHANT KISHOR WANTS TO IMPLEMENT WEST BENGAL MODEL TO REMOVE NARENDRA MODI FROM POWER DMG

Prashant Kishor: পিকে-র মাথায় 'পশ্চিমবঙ্গ মডেল', ২০২৪-এর জন্য কেন তৃতীয় বিকল্পের পক্ষে নন ভোট গুরু?

মোদিকে সরাতে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন প্রশান্ত৷

প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) মনে করেন, প্রথমেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্প হিসেবে মানুষের কাছে গেলে সেই শক্তির কোনও গ্রহণযোগ্যতাই থাকে না৷

  • Share this:

    #কলকাতা: ২০২৪-এ নরেন্দ্র মোদিকে পর্যুদস্ত করতে পশ্চিমবঙ্গ মডেলকেই হাতিয়ার করতে চান প্রশান্ত কিশোর৷ বিরোধীরা যে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ফ্রন্টের কথা বলছেন, বিজেপি-কে সরাতে সেই ফর্মুলা আদৌ কার্যকরী হবে না বলেই মনে করেন তিনি৷ নিউজ 18 বাংলাকে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন পিকে৷ তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো গোটা দেশেই মোদি বিরোধী ভোট এক জায়গায় আনতে পারলেই বিজেপি-কে হারানো সম্ভব৷ সেই কারণেই মমতার দেখানো পথেই রাজ্যভিত্তিক একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলায় জোর দিতে চান পিকে৷ তবে মমতা মডেলই যে ২০২৪-এর লড়াইয়ে প্রশান্তের তুরুপের তাস হতে চলেছে, তা এক রকম স্পষ্ট৷

    সোমবারও এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রশান্ত কিশোর৷ এই নিয়ে গত দু' সপ্তাহে দ্বিতীয় বার পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রশান্ত কিশোর৷ সেই বৈঠকে ২০২৪ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে বলে নিজেই স্বীকার করেছেন পিকে৷ প্রশান্ত কিশোর নিজেই জানিয়েছেন, '২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েই আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে৷ প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আমরা কথা বলেছি৷ তবে এই বৈঠকের সঙ্গে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্প শক্তির কোনও সম্পর্ক নেই৷ কারণ দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্পের যে কথা বলা হচ্ছে, তা অর্থহীন৷ ইতিহাসই বলছে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্প তৈরি করে বিজেপি-কে আটকানোর কৌশল সফল হয়নি৷' আর এই কারণেই এ দিন শরদ পাওয়ারের সঙ্গে অকংগ্রেসি বিরোধী দলগুলির বৈঠকেও হাজির থাকছেন না পিকে৷ তবে যেভাবে তিনি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আগামী দিনে অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রশান্ত৷ ২০২৪-এর লড়াইয়ে তিনিই যে চাণক্য হয়ে উঠছেন, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট৷

    প্রশান্ত কিশোর মনে করেন, প্রথমেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্প হিসেবে মানুষের কাছে গেলে সেই শক্তির কোনও গ্রহণযোগ্যতাই থাকে না৷ ফলে লড়াইয়ে নামার আগেই হার একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়৷ তাই মোদি বিরোধী মূল বিকল্পের উপরই জোর দিতে চান ভোট গুরু পিকে৷ দেশ জুড়ে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনিও স্বীকার করছেন৷ তবে দেশের সর্বত্র বিরোধীরা একক শক্তি হিসেবে লড়লে যে বিজেপি-কে হারানো সম্ভব নয় সে কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন পিকে৷ আর এখানেই অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে রাজ্য ভিত্তিক একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের উপর জোর দিতে চাইছেন প্রশান্ত কিশোর৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েও বিজেপি-র সঙ্গে এই সরাসরি লড়াইয়ের কৌশলেই জোর দিয়েছেন৷ অর্থাৎ, যে রাজ্যে যে দল শক্তিশালী সরাসরি তাদের সঙ্গেই বিজেপি-র একক লড়াই হোক৷ যাতে পশ্চিমবঙ্গের মতোই মোদি বিরোধী ভোট এক জায়গায় জড়ো করা যায়৷ আর তাহলেই ২০২৪-এ বিরোধীরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলেই আত্মবিশ্বাসী প্রশান্ত৷

    উদাহরণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ মডেলের কথাই তুলে ধরা যায়৷ কারণ এ রাজ্যে খাতায় কলমে সংযুক্ত মোর্চা লড়াইয়ে থাকলেও নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপি বিরোধিতার জন্য মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের উপরেই আস্থা রেখেছেন মানুষ৷ তাই জোট বাঁধলেও ধুয়ে মুছে গিয়েছে সংযুক্ত মোর্চা৷ অন্যদিকে মোদি বিরোধী প্রায় গোটা ভোটটাই তৃণমূলের ঝুলিতে যাওয়ায় বাংলায় বিজেপি-র বিধ্বস্ত হয়েছে৷ দেশের অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও বিজেপি-কে হারানোর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে৷ তাই বিরোধী শক্তিগুলিকে পশ্চিমবঙ্গ মডেলের গুরুত্বই বোঝাতে চান প্রশান্ত কিশোর৷ তবে বাংলার মতো জাতীয় স্তরেও মোদি বনাম মমতার লড়াই হবে কি না, তা হয়তো সময়ই বলবে৷

    আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, প্রশান্ত কিশোরের এই রণকৌশলে কংগ্রেসের ভূমিকা কী হবে? কারণ এখনও গোটা দেশে কংগ্রেসের উপস্থিতি এবং ভোট ব্যাঙ্ককে অস্বীকার করার উপায় নেই৷ দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রীয় মঞ্চের যে বৈঠক হচ্ছে, সেখানেও থাকছে না কংগ্রেস৷ তবে প্রশান্ত কিশোর কিন্তু কংগ্রেসকে নিয়েই এগোতে চাইছেন৷ তবে সেনাপতি হিসেবে নন, অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সহযোদ্ধা হিসেবে কংগ্রেসকে পাশে চাইছেন তিনি৷ কারণ অতীতেও দেখা গিয়েছে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিকল্পের কথা বলা হলেও আদতে তা কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটে পরিণত হয়৷ যার নেতৃত্বের মুখ হয়ে ওঠেন সনিয়া বা রাহুল গান্ধিরা৷ ফলে বিরোধীদের একজোট করার উদ্দেশ্যই অনেকটা ভেস্তে যায়৷ সবমিলিয়ে খাতায় কলমে তিন বছর বাকি থাকলেও ২০২৪-এর জন্য ঘুঁটি সাজানোর কাজটা ভাল ভাবেই শুরু করে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর৷

    Kamalika Sengupta
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: