Home /News /kolkata /
টাইলসের মেঝেতে বারবার গলা ঠুকে দু’টুকরো করা হয়েছিল! দায় এড়াচ্ছেন কাউন্সিলর

টাইলসের মেঝেতে বারবার গলা ঠুকে দু’টুকরো করা হয়েছিল! দায় এড়াচ্ছেন কাউন্সিলর

Representative image

Representative image

বেলা চারটের দিকে ফরেনসিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। রক্তের নমুনা থেকে আরম্ভ করে টাইলসের যে অংশে আঘাত গলায় লেগেছিল, সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করে।

  • Share this:
    SHANKU SANTRA
    #শোভাবাজার: দুই মদ্যপের ঝামেলা থামাতে গিয়ে হোলির দিন সন্ধ্যাবেলা খুন হতে হল এক ব্যক্তিকে। রীতিমত গলায় ধারাল অস্ত্রের কোপের আঘাত দেখা গিয়েছিল বলে দাবী স্থানীয়দের। ঘটনাস্থলে ওই আহত ব্যাক্তির মৃত্যু হলে, তিন জনকে আটক করে পুলিশ। দেহ আরজিকর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী, মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে।
    ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর কলকাতার শোভাবাজার এলাকার অরবিন্দ সরনীতে। ৯ ই মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ, ওই সরনীর ২২ নং বাড়ির সামনে অভিষেক গুপ্তা (২৭), সানু হালদার,(২৬) ও সান্টু হালদার (২৮) নামে তিন যুবক মদ্যপ অবস্থায় তর্ক ও হাতাহাতি করছিল। সেই সময় বিপরীত দিকে বসে থাকা প্রমোদ সাউ(৩৫) ওদের কাছে এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই ওই তিনজন প্রমোদকে রীতিমত মারধোর করতে থাকে।
    অভিযুক্ত অভিষেকের পরিবারের দাবি, পাশের নির্মীয়মান একটি অসম্পূর্ণ বেদীর ওপর প্রমোদের মাথা ঠুকে দিতে গিয়েছিল তিন বন্ধু। সেই সময় গলাটা এসে লাগে ওই জায়গাতে ৷ গভীর ভাবে কেটে যায় গলা। তারপরেও থামেনি অভিযুক্তরা ৷ গলা ধরে রীতিমত ওখানেই বারবার আঘাতের করতে থাকেন ৷ এতে গলা আরও গভীর ভাবে কেটে যায়। গলা থেকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের ফলে ঘটনা স্থলেই মারা যান প্রমোদ।
    প্রমোদের মায়ের দাবি, তিনি ছেলেকে মারধর করার খবর শোনা মাত্রই ছুটে গিয়ে দেখেন, ছেলের গলায় সানু ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। তাঁর দাবি, গলার গভীর ক্ষতের কারণ ছুরির আঘাত।
    ১৮ নং ওয়ার্ডের পৌরমাতা সুনন্দা সরকারের বলেন, সানু ও সান্টু দুই ভাই ৷ তাদের রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ট কেউ না। ওদের পরিচয় ওরা দুষ্কৃতী। অবৈধ পার্কিং থেকে টাকা আদায় করা, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের এনে পাড়ায় জমায়েত করা, হুমকি দেওয়া, ছিনতাই করা এমনই নানা অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তরা ৷ সুনন্দা দেবী এই দুই ভাই সম্পর্কে সবই জানেন আগে থেকে। প্রশ্ন, এতদিন তাহলে এরা কী ভাবে রাজত্ব চালালো?
    বড়তলা থানা অভিষেক গুপ্ত এবং সানু হালদারকে গ্রেফতার করে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলে। আদালত অভিযুক্তদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
    বেলা চারটের দিকে ফরেনসিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। রক্তের নমুনা থেকে আরম্ভ করে টাইলসের যে অংশে আঘাত গলায় লেগেছিল, সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করে।
    পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করেছে ওই দুজনের বিরুদ্ধে। সেই হিসাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রমোদের পরিবারের দাবি ছিল, ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
    এলাকার মানুষের দাবি, সানু ও সান্টুর উপদ্রবে এলাকা ভীত থাকে। যেহেতু পাশেই সোনাগাছির মত পতিতাপল্লী রয়েছে, সেহেতু প্রচুর সমাজ বিরোধী ওই এলাকাতে আশ্রয় নেয়। সেই সমাজ বিরোধীদের ভয়ে এলকার মানুষ ভীত, সন্ত্রস্ত। কাউন্সিলর সুনন্দা দেবী সব জেনেও চুপ থাকেন। অনেকে বলছেন, ভোটের আগে নিজের ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য সানুদের প্রায় না চেনার ভান করছেন তিনি। ভোটের সময় ওরাই নাকি ডান হাত সুনন্দা দেবীর।
    Published by:Simli Raha
    First published:

    Tags: Shova Bazar muder case

    পরবর্তী খবর