চার জনের নির্দেশে টাকা তুলতেন রাখাল! জেরায় স্বীকার, দাবি পুলিশ সূত্রের

ধৃত রাখাল বেরা৷

ধৃত রাখাল বেরার দিঘা এবং কাঁথিতে হোটেল রয়েছে৷

  • Share this:

    #কলকাতা: সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ধৃত রাখাল বেরাকে জেরায় চাঞ্চল্যকর উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ কলকাতা পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় রাখাল দাবি করেছেন, চার জনের নির্দেশে টাকা তুলতেন তিনি৷ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা তুলেছেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি৷

    সুজিত দে নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাখাল বেরাকে গ্রেফতার করে মানিকতলা থানার পুলিশ৷ অভিযোগ, সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন রাখাল বেরা৷ ধৃত রাখাল বেরার দিঘা এবং কাঁথিতে হোটেল রয়েছে৷ একা রাখাল বেরা নন, এই প্রতারণা কাণ্ডে চঞ্চল নন্দী নামে সেচ দফতরের প্রাক্তন এক কর্মীর খোঁজও চালাচ্ছে পুলিশ৷ অভিযোগ, চঞ্চল নন্দীর মাধ্যমেই চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ হত রাখালের৷

    পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তে রাখাল স্বীকার করে নিয়েছেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চার জনের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যক্তির থেকে টাকা তুলেছেন তিনি৷ ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে টাকা তোলার নির্দেশ আসে বলে দাবি করেছেন রাখাল৷ কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগণা এবং কাঁথি থেকে রাখাল এ ভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা তুলেছেন বলেও পুলিশ সূত্রে খবর৷ নগদেই টাকা নেওয়া হত বলে স্বীকার করেছেন রাখাল৷ ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে রাখাল বেরার কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ ওই সময়ে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কারা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, রাখালের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা৷ এর পাশাপাশি, রাখালের তোলা টাকা কোথায় গেল, তারও খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ৷ ওই টাকা কোনও অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, নাকি তা দিয়ে জমি বা অন্য সম্পত্তি কেনা হয়েছে অথবা হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ প্রয়োজন হলে রাখাল যে চারজনের কথা বলছেন, তাঁদেরকেও ডেকে পাঠাবে পুলিশ৷

    রাখাল সুজিতের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স কো-অপারেটিভ হাউসিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে বসে৷ যেটি রাখাল নিজের ফ্ল্যাট বলে দাবি করেছিলেন অভিযোগকারীর কাছে৷ অন্যদিকে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে আরও কুড়িটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে মানিকতলা থানায়৷ এই প্রতারণার সঙ্গেও রাখাল যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

    অভিযুক্ত রাখাল বেরাকে এ দিন শিয়ালদহ আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ৷ শেষ পর্যন্ত ১২ জুন পর্যন্ত রাখালকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত৷ রাখাল বেরার আইনজীবী কল্লোল দাস অভিযোগ করেন, 'এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে৷' একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দু' বছরের আগের ঘটনায় কেন এতদিন বাদে গ্রেফতার করা হল রাখালকে? রাখাল কীভাবে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেবেন তা না জেনেই কী ভাবে অভিযোগকারী রাখালকে অত টাকা দিলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন অভিযুক্তের আইনজীবী৷

    Sukanta Mukherjee
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: