• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • POLBA CAR ACCIDENT SOREN FAMILY SADDENED BY THE DEATH OF RISHAB AC

কোলে জড়িয়ে ছেলেটাকে তড়িঘড়ি তুলে দিয়েছিলেন অ্যাম্বুলেন্সে, ঋষভের পরিণতি মানতে সোরেন দম্পতি পারছেন না

মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে সচেতনতা ক্যাম্প। শুরু হওয়ার কথা ঋষভের স্কুল থেকে।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে সচেতনতা ক্যাম্প। শুরু হওয়ার কথা ঋষভের স্কুল থেকে।

  • Share this:

#কলকাতা: মন ভাল নেই বুকাই আর রুপার। ঋষভের মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে ৪৮ ঘন্টা। এখনও নিজেদের ঘরে আটকে রেখেছেন দিন মজুর এই স্বামী-স্ত্রী। অন্যদিকে, আগামীকাল থেকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় বিভিন্ন স্কুলে শুরু হচ্ছে পুলকার নিয়ে সচেতনতা শিবির। শুরু হবে ঋষভের স্কুল দিয়েই। বুকাই সোরেন, রোজগার বলতে ১০০ দিনের কাজ। সখ বলতে মুরগীর লড়াই খেলায় মেতে থাকা। দিল্লি রোডের ধারে, পোলবায় বসেছে শিব রাত্রির মেলা, ডাক এসেছিল মুরগীর লড়াই লড়ার জন্য। যদিও তাকে ঘর থেকে টেনে বার করতে পারেনি কেউই। গত দুদিন ধরে বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি। কারণ, মানসিক যন্ত্রণায় কুঁকড়ে রয়েছে সে ও তার পরিবার। "চোখ বুঝলেই তো ওই সময়টা মনে আসছে। পাঁকে মাখামাখি ছেলেটাকে কোলে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিচ্ছি। ভেবেছিলাম ওতো বাড়ি ফিরে যাবে। না পারলাম না তো বাঁচিয়ে আনতে।" ঘরের দাওয়ায় বসে হাউ হাউ করে কাঁদছে বুকাই। পোলবা থানার পুলিশ এসে স্বান্তনা দিয়ে গেছে তাকে। তাদের কাজের প্রশংসা করেছে সকলে। কিন্তু হেরে যাওয়া সৈনিকের মতো বসে আছে বুকাই। ঘটনার তদন্তে যুক্ত পুলিশ আধিকারিক দের একজনের কথায়, "ওই গাড়িতে তো একজন অভিভাবক ছিলেন। তাকে আমরা বারবার যোগাযোগ করছি, তিনি এতটুকু সাহায্য আমাদের করছেন না। আর এদের দেখুন, যখন যা সাহায্য চাইছি তাই করছেন। ওই বাচ্চাদের সঙ্গে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। তবুও এরা....." কথা বলতে বলতে গলা বুজে আসে আধিকারিকের। একই অবস্থা রুপা সোরেনের। তার শুধু একটাই কথা, "মা হয়ে একটা সন্তানকে তার মায়ের হাতে তুলে দিতে পারলাম না। ভগবান আমার কথা শুনল না।" আপাতত স্বামী-স্ত্রীর মনের ইচ্ছা একবার গিয়ে দেখা করে আসবেন ঋষভের মা-বাবার সাথে। পুলিশ তাদের সাহায্য করবে বলে তারা আশাবাদী। তবে বুকাই-রুপার একটাই আক্ষেপ, বছরের নানা সময় তাদের বাড়ির সামনে মোড়ে প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটেছে। একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আবেদন করছেন তারা। সোমবার সকাল থেকে অবশ্য দেখা গেল, পুলকার নিয়ে কোনও সচেতনতাই কাজ করেনি। ব্যক্তিগত গাড়িই ছুটছে পুলকার হিসাবে। এমনকি যে কয়েকটি গাড়ি বাণিজ্যিক গাড়ি হিসাবে পুলকার হয়ে দৌড়চ্ছে, তাদের গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে কোনও ফিটনেস সারটিফিকেট নেই। আপাতত এই সমস্ত গাড়ির মালিক, চালক ও তাতে যে সমস্ত বাচ্চারা যাতায়াত করে তাদের অভিভাবকদের সচেতন করার কাজ শুরু হচ্ছে। আগামীকাল থেকে ঋষভের স্কুল থেকেই এই সচেতনতা শিবির শুরু করতে চায় পুলিশ। খড়গপুর আই আই টি'র অধ্যাপক ভাগব মৈত্র‍্য, সাহায্য নেওয়া হয়েছে এই সচেতনতা শিবিরের জন্য। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যানরা তাদের পুর এলাকার বিভিন্ন স্কুল থেকে পুলকার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছেন। শুক্রবার ঋষভের শেষ কৃত্যের শেষে তার বাবা সন্তোষ সিং বলেছিলেন, পুলকার চলবে, এটা বাস্তব। তবে দেখতে হবে দ্বিতীয় ঋষভ যেন না হয়। সেই প্রচেষ্টা এবার শুরু করছে ঋষভের জেলা।

ABIR GHOSHAL

Published by:Ananya Chakraborty
First published: