তিলোত্তমার মুখ ঢেকেছে প্লাস্টিক

তিলোত্তমার মুখ ঢেকেছে প্লাস্টিক

বৃষ্টি শুরু হতে না হতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিস্তৃর্ণ এলাকা ৷ ব্যাহত হয় পড়ে যানচলাচল ৷ প্রশ্ন উঠে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে।

  • Share this:

#কলকাতা: তীব্র দাবদহের পর স্বস্তির বার্তা ৷ নির্দিষ্ট সময়ে আসছে বর্ষার বৃষ্টি ৷ হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বর্ষা ঢুকবে। অসহনীয় গরমের পর বর্ষা গোটা দেশের কাছে খুশির খবর।

তবে বর্ষাতেও কম হয়রানির মুখে পড়তে হয় না শহরবাসীকে ৷ বৃষ্টি শুরু হতে না হতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ৷ ব্যাহত হয়ে পড়ে যান-চলাচল ৷ প্রশ্ন ওঠে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে। তবে কখনও কি ভেবে দেখেছেন, শহরে জল জমার জন্য কিছুটা হলেও আপনি নিজেও  দায়ী ৷

প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের অপকারিতা জানা সত্ত্বেও বেশিরভাগ সময় বাজার দোকান থেকে প্লাস্টিকে করে জিনিসপত্র নিয়ে আনেন বেশিরভাগ মানুষ ৷ ব্যবহারের পর তাদের জায়গা হয় বাড়ির আর্বজনার ফেলার জায়গা ৷

waterlogged

সচেতন করার বহু প্রচেষ্টা করা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি প্লাস্টিক ব্যবহার ৷ প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলছে প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার। পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি খুচরো ব্যবসায়ীরা সবাই প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করেই চলেছেন।

প্রকৃতিতে প্লাস্টিক মিশে যেতে ১০০ থেকে ৫০০ বছর লেগে যায়৷ অণুজীবরা এগুলি নষ্ট করতে পারে না৷ আবহাওয়ার কারণে ছোট ছোট টুকরা হয়ে বাতাসে বা জলে ভাসতে থাকে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক ৷

বর্ষাকালে শহরে জল জমার একটি মূল কারণ হচ্ছে প্লাস্টিক ৷ প্লাস্টিক দূষণে ভুগছে গোটা দেশ ৷ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক অনেক সময় আটকে যায়  নর্দমার মুখে ৷ এর জেরে জল আটকে যায় এবং জল জমতে থাকে ৷

এর আগে প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে একাধিকবার ৷ কিন্তু কখনই ‘প্লাস্টিক ফ্রি’ হয়ে উঠতে পারেনি শহর কলকাতা ৷  তার একটা বড় কারণ হচ্ছে প্লাস্টিকের বিকল্প দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন ৷ প্লাস্টিককে বর্জন করতে হলে মানুষকে তার বিকল্প দিতে হবে ৷

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার ৷ কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নদর্মা বা ড্রেনে প্লাস্টিক ব্যাগ আটকে পড়ায় আটকে যায় জল ৷ ফলে ভারী বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা ৷

এবছর বর্ষা আসার সময় হয়ে গিয়েছে ৷ কিন্তু ভারী বর্ষায় জল জমার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কতটা তৈরি প্রাশাসন তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে শহরবাসীর মনে ৷

এই বর্ষায় একই সমস্যায় কি নাজেহাল হতে হবে শহরবাসীকে ?

পুরসভার আধিকারিকদের এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানান, যে জল জমার একটি মূল কারণ হচ্ছে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব ৷ অনেকেই এখনও রাস্তায় বা ড্রেনে আবর্জনা ফেলেন ৷ যার জেরে নালা ও নর্দমাগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৷ এবং কিছু কিছু জায়গায় এখনও খোলা ড্রেন রয়েছে যার জেরে বেশি বৃষ্টি হতেই জল উপচে বেরিয়ে আসছে রাস্তায় ৷

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে তারা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন করতে বিশেষ প্রোগ্রামের আয়োজন করছেন  ৷ তাই নাগরিক সচেতনাতায় বাড়তি জোর দেওয়া হলেও প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ করা হচ্ছে না ৷

যেহেতু কলকাতার মেয়র এবার পরিবেশ মন্ত্রী তাই সাধারণ মানুষের তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ৷ তাঁদের বিশ্বাস যে এবার হয়তো শহরকে ‘প্লাস্টিক ফ্রি’  করতে বেশি উদ্যোগী হবেন তিনি ৷

First published: 12:14:46 PM Jun 06, 2016
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर