শহরের মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভাররা,পাওয়ার আনন্দের থেকে না পাওয়ার বেদনা

শহরের মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভাররা,পাওয়ার আনন্দের থেকে না পাওয়ার বেদনা
  • Share this:

Shalini Datta

#কলকাতা: স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্ট যে কতটা নিষ্ঠুর, সেটা বাস্তবে উপলব্ধি করছেন প্রায় ১০ জন মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভার। অথচ বছরের শুরুর দিকে এঁরাই এক নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন যখন রাজ্যের শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের হাতে তুলে দেন পিঙ্ক ট্যাক্সির চাবি।

দিনটা ছিল ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ - নতুন গোলাপি সাদা ট্যাক্সির পাশে দাঁড়িয়ে গোলাপি ইউনিফর্ম পড়ে তারা মনে করেছিলেন, এবার হয়তো তাদের দুঃখের দিন শেষ হতে চলেছে। অভাবের সংসারে নতুন আলোর দিক দেখাবে এই নতুন প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই গোলাপি ট্যাক্সি প্রচলনের মূলে প্রধাণত দুটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত - শহরের মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষা প্রদান। বিশেষত কর্মরতা মহিলা যারা পুরুষ ড্রাইভারের ট্যাক্সিতে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তাদের একটি বিকল্প ব্যবস্থা প্রদান করা। এবং দ্বিতীয়ত কর্মহীন বেকার সম্প্রদায়কে কাজের সুযোগ করে দেওয়া। গোলাপি ট্যাক্সি, যা গতিধারা প্রকল্পের একটি অঙ্গ, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্মহীন মহিলা বা গৃহবধূদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা। এই পরিকল্পনা মতোই ১০ জন মহিলাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে - 10টি গোলাপি ট্যাক্সির চাবি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অথচ সময়ের সাথে বাস্তবের চেহারাটা যখন প্রকাশ পেল তখন তা কিন্তু যথেষ্ট স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ। 10জন ট্যাক্সি চালক প্রত্যেকেই দরিদ্র পরিবারের সদস্য। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিবাহিত এবং ঘরোয়া হিংসার শিকার। গোলাপি ট্যাক্সির উদ্বোধন এঁদের মধ্যে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস যুগিয়েছিল। এখন বাস্তব পরিস্থিতি এমনই যে সারাদিন ট্যাক্সি নিয়ে কলকাতার রাস্তায় ঘুরেও উপযুক্ত যাত্রী পান না তারা। দৈনিক 400 টাকা রোজগার করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এদের জন্য যদিও ভাড়া অন্যান্য সংস্থার থেকে কম।

কারণ হিসাবে জানা যায় যে উপযুক্ত বিজ্ঞাপন ও প্রচার এর অভাবে বেশির ভাগ মানুষ গোলাপি ট্যাক্সির ব্যাপারে জানেনই না। এবং এও জানা যায় যে গাড়িতে কোনোরকম বোর্ড না থাকায় গাড়িটিকে অনেকে কমার্শিয়াল ট্যাক্সি বলে চিনতেও পারেন না। কারণ হিসাবে আরও জানা যায় যে উপযুক্ত পার্কিং এর অভাবে ড্রাইভার রা গাড়ি পার্ক করতে পারেন না। উদ্বোধনের সময় সরকার গোলাপি ট্যাক্সির জন্য আলাদা পার্কিং এর ব্যবস্থার কথা বললেও বাস্তবে সেটা হয়নি। আরও একটি সমস্যার কথা জানা যায় - উপযুক্ত সংখ্যক মহিলা শৌচালয়ের অভাব এবং শৌচালয়ের সামনে গাড়ি পার্ক করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের অত্যাচারের শিকার হতে হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন যে বাড়িতে কথামত টাকা উপার্জন না করে ফিরতে পারায় ঘরোয়া হিংসার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় কিন্তু সরকারের উচিত এদের যথাযত সাহায্য করা যাতে এই উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য সফল হয়। আমাদের ও উচিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, সম্ভব হলেই গোলাপি ট্যাক্সিতে সফর করা যাতে এই পরিকল্পনা সফলতা লাভ করে।

First published: 11:35:26 PM Dec 08, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर