রোজ সকালে ২ লিটার করে দুধ লাগে! থলি হাতে বাজারে ছুটছে 'অবাধ্য' বাঙালি

রোজ সকালে ২ লিটার করে দুধ লাগে! থলি হাতে বাজারে ছুটছে 'অবাধ্য' বাঙালি
  • Share this:

SHANKU SANTRA

#কলকাতা: এটা কোন শহর? সভ্য শহর কলকাতা? গতকাল রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ শুরু করেছে  নাকা চেকিং। শুধু কলকাতা নয়, সারা বাংলা জুড়ে একই চিত্র। যেখানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি তরফে, সেখানে পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নাগরিকরা ছুটির দিনের আমেজেই, শহরের রাস্তায়, গলিতে রীতিমতো আড্ডায় মশগুল।  করোনা ভাইরাস প্রাণ কেড়েছে এ রাজ্যের একজনের। প্রতিদিন শহরে করনা ভাইরাসের রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যাঁদের করোনা সংক্রমণ হয়েছে ,তাঁরা প্রত্যেকেই এই সমাজেরই নাগরিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সবাই সাধারণ নাগরিকের কাছে, একটাই আবেদন রছে। দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে থাকার জন্য। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের ওপর আটক করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য রাস্তায় নেমে পড়েছিল। চিন ও ইতালি এই মহা বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচবার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছে, মাসের পর মাস। সেই শিক্ষা এখনও এই শহর নিতে পারেনি।  সকালবেলা রাজাবাজার ,পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর এই জায়গাগুলোতে যথেচ্ছভাবে মানুষকে বুঝিয়েও রাস্তা থেকে ঘরে ফেরাতে পারেনি পুলিশ। তার সঙ্গেও বড় বাজার, বটতলা, গড়িয়া, সোনারপুর, শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন জায়গাতে প্রতিটি মানুষেকে উৎসব আমেজের মেজাজ দেখা গিয়েছে। এমন কিছু জায়গাতে দেখা গেল পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যাচ্ছে জনতার দিকে। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হল পুলিশ।

সকালবেলা বাজারগুলোতে রীতিমত সবজি বাজার থেকে মাছের বাজারে মাছ-মাংস সব কিনল বাঙালিরা। কে জানে ১৫০ টাকা কেজি মাংসের বদলে ক 'জন পিঠে ঝুলিয়ে করোনাভাইরাস বাড়িতে নিয়ে গেলেন?  এর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তার অভিজ্ঞতা এই শহরে হয়তো কিছু মানুষের থাকতেও পারে। বেশিরভাগটাই বইয়ের পাতায় পড়া। আর এখন সারা বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধর থেকেও বেশি লড়াই করে চলেছে প্রতিটি মানুষ। এ লড়াই ভূখণ্ড বাঁচানোর নয়। লড়াই ,মানুষ জাতির অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াই। এ লড়াইয়ের শত্রু চোখে দেখা যাচ্ছে না। শুধু অনুভূতি। জ্বর ,কাশি আর শ্বাসকষ্ট।

সকাল ছ'টায় হাতে ছোট্ট থলি। পুলিশ জিজ্ঞেস করল বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন কেন? সোজা উত্তর প্রতিদিন আমার দু লিটার দুধ লাগে, আবার কেউ সকাল বেলা প্রতিদিন টাটকা সবজি খান, কেউ আবার ফল খান, না হলে পাউরুটি খান, খাওয়ার বিরাম নেই এই বাঙালির। পুলিশ কড়া হবে বললে, পরিষ্কার উত্তর, খাবারের দোকান তো খোলা থাকবে। বাজার তো খোলা থাকবে । সেটা তো সরকারের নির্দেশ। আর এই সুযোগ নিয়ে প্রত্যেকেই ভিড় জমিয়েছে রাস্তায় এবং রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানে।  বেলা ১১ টা। সবার ধারণা বাড়িতে ঢুকে যাবেন শহরের, রাজ্যের সভ্য নাগরিকেরা। কেন ঢুকবেন? কেউ পেট্রোল পাম্পে তেল ভরতে ছুটলেন, কেউ আবার হাতে প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাস্তায় আড্ডা দিতে গেলেন। ভিড় জমিয়ে বেশ মস্তি করে আড্ডা কিংবা গাড়ি নিয়ে এক পাড়া থেকে আরেক পাড়া। মাঝে মাঝে দেখা গেল সরকারি অফিসার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলেছেন সঙ্গে পরিবার। এই সমাজেরই মানুষ পুলিশ। আপনার আমার জীবন বাঁচানোর কিংবা সংক্রমণ থেকে রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালন করবে কেন এই পুলিশ? জীবন রক্ষা করা কিংবা পরিবারকে রক্ষা করার অঙ্গীকার দেখা যায়নি নাগরিকদের মধ্যে। তাহলে ওদেরকে কোনও জীবন বা পরিবার নেই?

রাত বারোটার পর থেকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ঘরের বাইরে পা দিলেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে। হতে পারে ৬ মাস থেকে দু'বছর পর্যন্ত জেল। উপরন্তু এক হাজার টাকা জরিমানা।  যদিও বামপন্থীরা এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছেন। তবে সমাজের দায়িত্ববান মুখ্যমন্ত্রী তিনি নিজেই সবাইকে সাবধান করছেন এবং বলছেন নিজের ঘরে নিজের পরিবারের সঙ্গে আবদ্ধ থাকতে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, করোনাতে আক্রান্ত যদি, সে তাঁর নিজের ঘরের মধ্যেই থাকে। তাহলে সেই পরিবারের ব্যাক্তির, করণা আক্রান্তে মৃত্যু হতে পারে বা সুস্থ হতে পারে। নইলে করোনা ভাইরাসের মৃত্যু হতে পারে। এই ভাবেই ভারতবর্ষকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত করার একটাই উপায়। এই সংক্রমণের চেন ভাঙতেই হবে। এটা প্রতিটি ভারতবাসীর সংকল্প হওয়া উচিৎ।

First published: March 25, 2020, 9:52 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर