ছাইয়ের স্তূপে চলছে সোনার খোঁজ! বাগবাজারের হাজার বস্তির মানুষ আজও আশায় বুক বেঁধে

ছাইয়ের স্তূপে চলছে সোনার খোঁজ! বাগবাজারের হাজার বস্তির মানুষ আজও আশায় বুক বেঁধে
বাগবাজারের হাজার বস্তির মানুষ হারিয়ে যাওয়া সম্পদ খুঁজতে চোখে জল নিয়ে হাতড়ে বেড়াচ্ছে

বাগবাজারের হাজার বস্তির মানুষ হারিয়ে যাওয়া সম্পদ খুঁজতে চোখে জল নিয়ে হাতড়ে বেড়াচ্ছে

  • Share this:

#কলকাতা: গত ১৩ই জানুয়ারি বাগবাজারে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যায় হাজার বস্তি। সেই সন্ধ্যার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা এখনও ভুলতে পারেনি এলাকার মানুষ। এখনও এলাকা জুড়ে শুধু কালো ছাইয়েরে স্তূপ। আর ওই ছাইয়ের নীচেই যেন চাপা পড়েছে ওই বস্তির বাসিন্দাদের অসংখ্য স্বপ্ন।

এখনও ওই বস্তির মানুষ ধ্বংস স্তূপের ছাই সরিয়ে, নিজেদের সম্বলটুকু খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালেও এই দৃশ্য দেখা গেল। দেখা যায়, অনেকেই এক মনে ছাই সরিয়ে শুধু খুঁজে যাচ্ছে। কিন্তু কী খুঁজছিলেন তাঁরা? দেখা যায়, সোনা, তামা, রূপো খুঁজে চলেছেন অনেকেই। যদি হারিয়ে যাওয়া সম্পদের কিছু অন্তত পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক খুঁজেও কূল পাচ্ছেন না কেউ কেউ। তবুও চেষ্টার শেষ নেই।

আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষেরই বসবাস ওই বস্তিতে। কেউ পেশায় বাড়ির পরিচারিকা, কেউ বা দীনমজুর। এঁদের কেউ কেউ মাসিক ২০০-৩০০ টাকা হারে সোনার দোকানে জমা দিয়ে সোনার গয়না বানিয়েছিলেন। সে সব এই অগ্নিকাণ্ডে খোয়া গিয়েছে। আর বের করা যায়নি। তবে যদি কিছু উদ্ধার করা যায়, সেই আশায় এখনও ছাড়েননি তাঁরা। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খুঁজে চলেছেন তাঁরা।


বস্তিতে নিঃস্ব এই মানুষদেক সম্বল বলতে সরকারি অনুদান ও সামান্য আয়। তাঁরা এই মুহুর্তে তাকিয়ে আছে কবে আবার এখানেই তৈরি হবে তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই মাটিতেই তৈরি করে দেওয়া হবে তাঁদের বাড়ি।

সুমন ভূইঞার বাবা দু - দিন আগে এন আর এস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। যখন বস্তিতে আগুন ধরেছিল, তখন ওরা হাসপাতালে ছিল। বাড়ির কোনও কিছু রক্ষা করতে পারেনি। মৃতদেহ নেওয়ার জন্য সামান্য নথি না জমা দিতে পেরে দেহ পর্যন্ত পাচ্ছিলেন না ছেলে। অবশেষে স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে দেহ পান তিনি। এখন গঙ্গার ঘাটে বাবার শ্রাদ্ধ ক্রিয়া করার টাকাটাও নেই সুমনের।

এমনই অবস্থা এখানকার বহু পরিবারের। অনেকেই জীবনের সবচেয়ে দামি সম্বলটুকুও বাঁচাতে পারেননি। বাগবাজারের ঘটনাস্থলে গেলে তাই এখনও শুধু চোখের জলের দৃশ্য। জেসিবি মেশিন আসবে কাজ করতে। আবার নতুন বিল্ডিং তৈরি হবে। মাটি খনন শুরু হলে আর ছাইয়ের মধ্যে থেকে খোঁজা যাবে না হারিয়ে যাওয়া সম্পদ। তাই আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে সোনা খোঁজার কাজ।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: