corona virus btn
corona virus btn
Loading

সেলিব্রিটি থেকে ছোট দোকানি, আকাশ ছোঁয়া বিদ্যুতের বিল নিয়ে নাজেহাল সকলেই   

সেলিব্রিটি থেকে ছোট দোকানি, আকাশ ছোঁয়া বিদ্যুতের বিল নিয়ে নাজেহাল সকলেই   

বিল আসত যেখানে ৮০০ টাকা। সেখানে বিল এসেছে ৯০০০ টাকা। গ্রাহকদের থেকে নানা অভিযোগ আসলেও তা মানতে নারাজ সিইএসসি।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#কলকাতা: কালীঘাটের ছোট পান দোকানের মালিক থেকে টলিউড স্টার। এক সূত্রে বাধা পড়েছেন কলকাতায়। সৌজন্যে সিইএসসি। কেউ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রর্দশন করছেন। কেউ আবার ট্যুইট করে সিইএসসি'র থেকে প্রতিকার আশা করছেন। এটাই এখন কলকাতার ট্রেন্ড। কী করে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে। বিশেষ করে যখন আমফানের সময়ে প্রায় ১৫ দিন বিদ্যুৎ থাকল না কলকাতা শহরে। হরিদেবপুরের বাসিন্দা গৌরহরি মাইতি। টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়িতে বসবাস করেন। ঝড়ে উড়েছে বাড়ির চালের একাংশ। স্ত্রী আর পুত্রকে নিয়ে এক ঘরেই থাকেন। বিদ্যুতের ব্যবহার বলতে একটা পাখা, একটা লাইট আর একটা টিভি। গরমকালে বিদ্যুতের বিল বাবদ মেটান প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কালীঘাট মন্দির চত্বরে  রয়েছে একটা পানের দোকান। সেখান থেকে যা রোজগার হয়, তা দিয়েই চলে সংসার। লকডাউনের কারণে সেই সংসারেও টান। আর তারই মধ্যে বিদ্যুতের বিল এসেছে ১৩০০ টাকা। এই টাকা দেওয়ার সার্মথ্য তার নেই।

গৌরহরি বাবু জানাচ্ছেন, "যে টাকা রোজগার করি, তা দিয়ে এই বিলের টাকা মেটানো আমার পক্ষে সম্ভব নয় কোনওভাবেই। আমি ওনাদের এত অঙ্ক বা মারপ্যাঁচ বুঝি না। ২০০ টাকা মাসের বিল কি করে ১৩০০ হয়ে গেল। যখন দেখলাম ১৫ দিন আমফানের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই।" একই অভিযোগ সোমনাথ কুন্ডুর। মাসে বিল মেটান সর্বাধিক ১০০০ টাকা। বিল এসেছে ৫৩২০ টাকা। সোমনাথ বাবুর স্ত্রী আর দুই ছেলে নিয়ে সংসার। রোজগার বলতে মোবাইলের রিচার্জ করা। ছোট বাড়ি। সারাদিন গরমের সময়ে পাখা চলেছে। গত কয়েকমাসেও বিল মিটিয়েছেন কখনও ৯০০ বা ১০০০ করে। সেখানে এক ধাক্কায় বিল চলে এসেছে ৫৩২০ টাকা। তাতে বেজায় ফাঁপড়ে পরেছেন তিনি। তার অভিযোগ, "ধরে নিলাম গত ছ'মাসের গড় দেখে মাঝের মাসের বিল এসেছিল। কিন্তু শীতকাল আর গরমের মধ্যে আমার অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার একটা পার্থক্য থাকে। সেটা কি করে ৫৩২০ টাকা হতে পারে? আমার জানা নেই।"

অভিযোগ রয়েছে টালিগঞ্জের গোমস পরিবারের। বাড়ির লোকের কাজ গিয়েছে লকডাউনে। আপাতত একটা ছোট দোকান খুলে সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁদের। এরই মধ্যে এক ধাক্কায় বিল এসেছে ৪৭০০ টাকা। যেখানে তাঁরা বিল মেটান ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। সেখানে এই বিপুল পরিমাণ টাকার বোঝা কিভাবে মেটাবেন তা নিয়ে চিন্তিত তাঁরাও। চন্দনা গোমস জানাচ্ছেন, "আমাদের পক্ষে তিনটে কিস্তিতে টাকা শোধ করাও ভীষণ কঠিন। কারণ আবার তো নতুন করে বিল আসবে। সেটা আবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। ফলে আমাদের ঘাড় থেকে এই বোঝা আর নামবে না।"

সবচেয়ে বেশি যিনি সিইএসসি নিয়ে প্রতিবাদ করে গোটা বিষয়টি নজরে এনেছেন তিনি হলেন হরিদেবপুরের ঋতু চক্রবর্তী। গোটা সংসারের দায়ভার তাঁর একার। মায়ের সদ্য বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বাবার পায়ে সমস্যা। তার ওষুধ চলে। বাড়িতে এসি, রেফ্রিজারেটর, ফ্যান, লাইট সবই আছে। তবে অসুস্থ থাকার কারণে এসি চলেনি। তাঁদের বিল আসত যেখানে ৮০০ টাকা। সেখানে বিল এসেছে ৯০০০ টাকা। ঋতুর বক্তব্য, "ন্যায্য বিল হলে আমি দিয়ে দেব। কিন্তু ৮০০ টাকা কি করে ৯০০০ হয়? এই ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। সেটা সিইএসসি খুঁজে বের করুক।" গ্রাহকদের থেকে নানা অভিযোগ আসলেও তা মানতে নারাজ সিইএসসি।

Published by: Simli Raha
First published: July 18, 2020, 10:19 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर