করোনার জেরে বন্ধ রেল পরিষেবা, শিয়ালদহ স্টেশনে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ

করোনার জেরে বন্ধ রেল পরিষেবা, শিয়ালদহ স্টেশনে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ

৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা। এর জেরে বহু যাত্রী এসে বিপদে পড়েছেন শিয়ালদহ স্টেশনে।

  • Share this:

#কলকাতা: সকাল হতেই শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে অসহায় মানুষের ভিড় যেন বেড়েই চলেছে । রেল পুলিশের তরফ থেকে মাইক নিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা। এর জেরে বহু যাত্রী এসে বিপদে পড়েছেন শিয়ালদহ স্টেশনে। স্টেশনে ঢোকার আগেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা রয়েছে। সাটার নামানো রয়েছে স্টেশনের। বর্তমানে করোনা আক্রান্তে বন্ধ রেল পরিষেবা।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর মানুষ শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে এসে ট্রেন ধরার জন্য জড়ো হয়েছেন। রেল পুলিশের ঘোষণা শুনে তারা প্রত্যেকেই হতবাক হয়ে পড়েন এবং বিপদের সম্মুখিন হন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সোমবার সকালে ভিন রাজ্য থেকে ট্রেনে করে এসে পৌঁছেছেন। এই মানুষের ভিড়ের মধ্যে দেখা গেল তাদের মেয়েকে নিয়ে বিষন্ন মুখে তাকিয়ে রয়েছেন এক দম্পতি। তারা বেঙ্গালুরুতে মেয়ের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। চিকিৎসা করিয়ে ভোরবেলা পৌঁছেছেন হাওড়া স্টেশনে। ভদ্রলোকের নাম দেবদাস মন্ডল। হাওড়া থেকে শিয়ালদহ ৪০০ টাকা ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে কোনও মতে পৌঁছেছেন ।

দেবদাস বাবু বাংলাদেশের বাসিন্দা। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে যাওয়ার জন্যই এসেছিলেন। শিয়ালদহ স্টেশনে এসে বিপদে পড়ে যান। মেয়ে অনন্যা বয়স ১৪ বছর। ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছিল না ,কারন তার হার্টে ছিদ্র রয়েছে। নিরুপায় দেবদাস শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ যাওয়ার জন্য যতগুলি ট্যাক্সির সঙ্গে কথা বলেছেন সবাই ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দাবি করেছে। খেটেখাওয়া দেবদাস মন্ডলের সেই ভাড়ার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই বলে জানান।

কলকাতায় থেকে যেতে হলে ,তাহলে কতদিন থাকতে হবে ?হোটেল ভাড়া ,খাওয়া ,অনেক বেশি টাকা খরচা ।সেই পরিমাণ টাকা ওনার কাছে নেই। পুলিশের কাছে অনুরোধ করেও কোনও লাভ হয়নি। কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি। কারণ, বেলা পাঁচটার পর,আর সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ যেতে পারবেন না।সেই সময় একটি অ্যাপ ক্যাব , তাদের আবেদনে সাড়া দেন। মাত্র ২০০০ টাকায় বনগাঁ পেট্রাপোলে নিয়ে যেতে রাজি হন। সকালবেলায় যারাই শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরতে এসেছিলেন প্রত্যেকের একটাই দাবি ।আগে থেকে তারা সঠিক তথ্য জানত না। যার ফলে বিপদের সম্মুখিন হয়েছেন সবাই। আর সেই সুযোগের অপব্যবহার করছেন ট্যাক্সি ও ভাড়ার গাড়িগুলো। সকালবেলা শিয়ালদহ চত্বরে এই সমস্যার দেখভাল এবং মানুষকে পথনির্দেশিকার সাহায্য করতে, কোনও পুলিশকর্মীকে দেখা যায়নি। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বেলা ৪টের পরে লকডাউন হবে সারা পশ্চিমবাংলায়। রাস্তায় কাউকে দেখা গেলে পুলিশ আইনত পদক্ষেপ নেবে। সেই ভয়ে সবাই বেলা ৫টার মধ্যে বাড়িতে ঢুকে যেতে চাইছেন। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে বেশ কিছু অসাধু ট্রান্সপোর্ট কর্মীরা।

First published: March 23, 2020, 11:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर