হোম /খবর /কলকাতা /
নিয়োগ দুর্নীতির ED মামলায় পার্থ-অর্পিতার ভার্চুয়াল শুনানি, আদালতে যা যা হল...

নিয়োগ দুর্নীতির ED মামলায় পার্থ-অর্পিতার ভার্চুয়াল শুনানি, বুধবার আদালতে যা যা হল...

বুধবার ছিল পার্থ-অর্পিতার ভার্চুয়াল শুনানি! নিয়োগ দুর্নীতির ED মামলায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি হয় পার্থ-অর্পিতার। অন্যদিকে, CBI মামলায় ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত পার্থের।

  • Share this:

#কলকাতা: বুধবার ছিল পার্থ-অর্পিতার ভার্চুয়াল শুনানি! নিয়োগ দুর্নীতির ED মামলায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি হয় পার্থ-অর্পিতার। অন্যদিকে, CBI মামলায় ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত পার্থের।

বুধবার আদালতে পার্থর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ''ইডি কি করছে তদন্তের নামে? তদন্ত চলছে, এই বলে এসেছে। তাহলে কি তদন্ত চলছে বলেই জেল হেফাজতে রেখে দিতে চাইছে ইডি? পিএমএল অ্যাক্টে বলা আছে চার্জশিট জমা পড়ার পরও তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু কোথাও বলা নেই যে ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আটকে রাখতে হবে। ইডি কি করছে ?'' পার্থের আইনজীবীর অভিযোগ, ''যে কপি জমা পড়ছে তাতে নতুন কিছু নেই। তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। বাকি অভিযুক্তদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হল! ১৩১ দিন হয়ে গেল, আমার মক্কেলের নৈতিক অধিকার আছে জামিন পাওয়ার। শুধুমাত্র পিএমএল অ্যাক্টে মামলা বলে আটকে রাখতে হবে, এর কোনও মানে হয় না। চার্জশিট জমা পড়ার পর ইডির মধ্যে কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার। এটা যদি এতটাই জঘন্যতম অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তো তাদের মধ্যে তৎপরতা দেখা যেত!''

আইনজীবী আরও বলেন, '' চার্জশিট মানেই তো অভিযুক্ত দোষী নন। যদি তদন্ত চলে, চলুক। এই অবস্থায় অভিযুক্তকে দোষী বলা যাবে না।'' অন্যদিকে, অর্পিতার আইনজীবী নিলাদ্রী ভট্টাচার্য বলেন, '' চার্জশিট জমা পড়েছে। তদন্ত চলছে। মানছি। তদন্তের স্বার্থে বলা হচ্ছে জেরা করা প্রয়োজন। তাহলে কেস ডায়েরিতে অগ্রগতি কোথায়? ১০০ দিনের বেশি জেল হেফাজতে আছেন আমার মক্কেল। কত বার এসে জেরা করেছে ইডি?রিমান্ডে বলা হচ্ছে জেল হেফাজতের কথা। কিন্তু কেন চাওয়া হচ্ছে? তা বলা হচ্ছে না! কেন দীর্ঘদিনের রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে? টানা এক মাসের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। ৩১অক্টোবরের পর ৩০ নভেম্বর। কেন? কোনও উত্তর আসেনি ইডির থেকে ''

পার্থ ও অর্পিতা আইনজীবীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ইডি-কে প্রশ্ন করেন, '' কেন এমন হচ্ছে? কেন সাত দিন বা দশ দিন নয়?'' উত্তরে ইডি-র আইনজীবী জানান, '' কয়েকটা সেকশন গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায়।

অভিযুক্তদের তরফে বলা হচ্ছে অপরাধ হয়েছে, তাড়াতাড়ি ধর, সিজার কর। বিচার প্রক্রিয়া শুরু কর। কিন্তু স্পেশাল ল-এর ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। পিএমএল অ্যাক্টের কিছু ধারাতে বলা আছে, তদন্তে রিকভারি হলে তার উৎস কোথায় সেই পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। ধরুন ডাকাত দল ডাকাতি করে টাকা বিদেশে পাচা করে দিয়েছে! সেখানে পৌঁছতে গেলে অপরাধের গভীরে পৌঁছতে হবে। এখানেই সাধারণ অপরাধ ও মানি লন্ডারিংয়ের মধ্যে পার্থক্য।''

ইডি-র আইনজীবী আরও বলেন, '' টাকা উদ্ধার হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করুন বলা হচ্ছে। কিন্তু এই টাকা তো অনেকের কাছে বিনিয়োগ হয়ে আছে। সেখানে পৌঁছতে হলে তো তদন্ত করতেই হবে। একাধিক বেনামে লগ্নি আছে, একাধিক সেল কোম্পানি। ড্রাইভারকে ডিরেক্টর করে রাখা আছে। বেতন দেওয়া হয়। এগুলো তো সাবমিশনে দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ না তদন্ত শেষ করে সম্পূর্ণ অপরাধ বেরিয়ে আসছে, ততক্ষণ চলবে এই তদন্ত, আইনে বলা আছে। এই কারণেই বলা হয় তদন্ত চলছে (ফারদার ইনভেস্টিগেশন)।''

বিচারক ফের ইডি-র আইনজীবীর কাছে জানতে যান, একমাসে তদন্তের কী উন্নতি হয়েছে? উত্তরে আইনজীবী জানান, '' তদন্তকারী আধিকারিক এখানে আছেন। তদন্ত করতে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতরা করা হয়েছে। তার সঙ্গে পার্থ চট্টাপাধ্যায়ের যোগ পাওয়া গিয়েছে । তদন্তের অগ্রগতি হিসেবে একাধিক বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের হদিশ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ছাত্র ভর্তির নামে টাকার লেনদেন হয়েছে । টাকার বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়েছে। একাধিক সেল কোম্পানির মাধ্যমে সেই সকল টাকা বিভিন্ন ভাবে বিনিয়োগ হয়েছে । কিছু বেসরকারি ল’কলেজ ও কিছু বেসরকারি বি- ফার্ম কলেজ খোলার অনুমোদন করার ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে।''

আইনজীবীর আরও দাবি, '' বিভিন্ন প্রাইভেট ল’ কলেজ ও বি ফার্ম কলেজ খোলার ক্ষেত্রে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে এই সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয়েছেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়।''

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

Tags: Partha Chatterjee