corona virus btn
corona virus btn
Loading

দ্রুত গতিতে কাজ এগোচ্ছে বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের, তৈরি হচ্ছে মাটির নীচে সবচেয়ে বড় মেট্রো স্টেশন

দ্রুত গতিতে কাজ এগোচ্ছে বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের, তৈরি হচ্ছে মাটির নীচে সবচেয়ে বড় মেট্রো স্টেশন

কলকাতা বিমানবন্দরে গড়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম এই মেট্রো স্টেশন। স্টেশন তৈরির পাশাপাশি ইয়ার্ড ও তৈরি করা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দরে।

  • Share this:

#কলকাতা: অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে এগোচ্ছে বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজ। নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর ও গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। অবশেষে লকডাউন অধ্যায়ে সেই কাজ অনেকটা গতি পেয়েছে। প্রায় ৭ কিমি দীর্ঘ অংশে যশোর রোডের কাছে কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে।  ফলে দেশে মাটির নীচে সবচেয়ে বড় মেট্রো স্টেশন তৈরির বাধা কেটেছে। ইতিমধ্যেই দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিমানবন্দর অবধি লোকাল ট্রেন যাতায়াতের জন্যে যে পিলার ছিল তা ভেঙে, সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই পিলারের একাংশ অবশ্য ব্যবহার হবে নোয়াপাড়া থেকে এয়ারপোর্ট অবধি মেট্রো লাইনের জন্যে।

দেশে মাটির নীচে সবচেয়ে বড় মেট্রো স্টেশন। এশিয়া মহাদেশেও মাটির নীচে এত বড় মেট্রো স্টেশন খুবই অল্প আছে। অবশেষে সেই মস্ত বড় স্টেশন তৈরি হচ্ছে কলকাতায়। কলকাতা বিমানবন্দরে গড়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম এই মেট্রো স্টেশন। স্টেশন তৈরির পাশাপাশি ইয়ার্ড ও তৈরি করা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দরে।কলকাতা শহরের মধ্যে থাকা চক্র রেলকে যুক্ত করা হয় বিমানবন্দরের সাথে। ১৫ বছর আগে ২৯ জুলাই ২০০৬ সালে বিমানবন্দর অবধি চক্র রেল পরিষেবা চালু হয়। তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব উদ্বোধন করেন। রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সেই কাজ সম্পন্ন হয়। দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ওভারহেড লাইন বানানো হয়। সারা দিনে বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করত এই পথে। যদিও যাত্রী না হওয়ার কারণে শিয়ালদহ থেকে দমদম বিমানবন্দর বা মাঝেরহাট থেকে দমদম বিমানবন্দর অবধি যাত্রী বাহী ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই লাইনকে মেট্রো রেলের লাইন হিসেবে বদলে ফেলা হবে। এতে অবশ্য বাধা দেয় এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তাদের তরফ থেকে জানানো হয় মাটির ওপর দিয়ে লাইন গেলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই জানানো হয় মাটির নীচে স্টেশন করতে হবে। নকশা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে জটিলতা চলতে থাকে। অবশেষে,২০১৬ সালে কলকাতা বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনে কাজের সূচনা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাংশন স্টেশন হবে এটি। নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত অবধি মেট্রো রুটের অন্যতম স্টেশন হবে এটি। অপরদিকে গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর অবধি মেট্রো রেলের প্রান্তিক স্টেশন হবে এটি৷ যেহেতু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেট্রো স্টেশন। তাই প্রচুর যাত্রী হবে এটা ধরে নেওয়াই হচ্ছে।

অন্যদিকে দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ করার জন্য রেল মন্ত্রক কাজ চালিয়ে যেতে বলেছে। যদিও এই মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের শেষে। ২০২০ সালে তিন মাস কাজ বন্ধ হয়ে যায় কোভিড ১৯ এর জন্যে। অবশেষে সেই কাজ শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার গৌতম শিকদার জানিয়েছেন, "২০২২ সালের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। তাই অল্প কর্মী হলেও তাদের নিয়ে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।" অন্যদিকে নোয়াপাড়া থেকে বারাসত মেট্রো প্রকল্পের জন্যে, চক্ররেলের যে লাইন ছিল তা খুলে ফেলা হচ্ছে। পিলারগুলোকে না ভেঙে ডায়মন্ড কাটিং পদ্ধতিতে তা কাটা হচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলিকে ক্রেন দিয়ে সরানো হচ্ছে। আপাতত বিমানবন্দরের রাস্তায় সেই কাজ হচ্ছে। ধাপে ধাপে খুলে ফেলা হবে বিমানবন্দর স্টেশন।কেমন দেখতে হচ্ছে বিমানবন্দর স্টেশন। মাটির ১৪ মিটার নীচে হচ্ছে এই স্টেশন। থাকছে ৬টি প্ল্যাটফর্ম। বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ১৮০ মিটার করে লম্বা হবে। তবে সম্পূর্ণ স্টেশন এলাকা হচ্ছে ৩২০ মিটার। ৬৩৩ মিটার এলাকা জুড়ে এই স্টেশন বিল্ডিং বানানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে দ্রুত চলছে বিমানবন্দরের স্টেশনের ইয়ার্ড বানানোর কাজ। এখানে থাকছে ৫ টি লাইন। ইয়ার্ড চওড়া হবে ৪৮ মিটার। স্টেশনের মধ্যে থাকছে একটা ক্রস প্যাসেজ। স্টেশনের একদিকে যশোর রোড, অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌছনো যাবে। কিছুদিনের মধ্যেই স্টেশনের নকশা তৈরি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দর স্টেশনের উপরের অংশের ছাদের ঢালাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এই স্টেশন এলাকার কাজ ২০২৩ সালে শেষ করা হবে।

Published by: Dolon Chattopadhyay
First published: August 24, 2020, 9:45 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर