অঙ্গদানের অঙ্গীকার বর-কনের, নবদম্পতিকে দেখে নিমন্ত্রিতরাও এগিয়ে এলেন দেহদানে

অঙ্গদানের অঙ্গীকার বর-কনের, নবদম্পতিকে দেখে নিমন্ত্রিতরাও এগিয়ে এলেন দেহদানে

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের তুলিকা বসু,বারাসতে বেসরকারি স্কুল শিক্ষিকা।

  • Share this:

#কলকাতা: বেলগাছিয়া দত্তবাগানের বাসিন্দা সৌম্য মিত্র,পেশায় গ্রাফিক ডিজাইনার,সখের ফটোগ্রাফার। বেসরকারি সংস্থায় চাকুরিরত সৌম্য পশুপাখিদের ছোট থেকেই খুব পছন্দ করে। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের তুলিকা বসু,বারাসতে বেসরকারি স্কুল শিক্ষিকা।

দু’জনের প্রেম বেশ কিছুদিনের। ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিয়ে আর ৫ ফেব্রুয়ারি,বুধবার বৌভাত ছিল। নিমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি বিয়ের কার্ডে অনুরোধ ছিল,কেউ যেন কোনও উপহার না আনে।চমক শুধু এটাই ছিল না। বিয়েবাড়িতে এসে সবাই অবাক,বর বউ দু’জনেই মালাবদলের সময় মরণোত্তর অঙ্গদানের অঙ্গীকার করে।

প্রেমপর্ব থেকেই দু’জনের স্বপ্ন ছিল,মৃত্যুর পর জন অন্যের শরীরে আমার হয়ে থাকে তারা, আরও বেশ কয়েকজনকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখবেন তারা।সেজন্যই বিয়ের দিন এই ব্যতিক্রমী কাজ। আর নিমন্ত্রিত অতিথিরাও এই ঘটনায় শুধু বিস্মিত হয় নি,অনেকেই বর বউ-এর কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও অঙ্গদানে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। বেঙ্গল অর্গান ডোনেশন সোসাইটি এর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা ওই দিন উপস্থিত থেকে অঙ্গীকার পত্র সংগ্রহ করেন। সংস্থার সভাপতি ক্যাপ্টেন ভিএম স্বামী জানান,এই পরিবারের এই রকম মানসিকতা সত্যি ব্যতিক্রমী, এদের মতো যদি সমাজের আরও মানুষ এগিয়ে আসে ৷ তবে বহু মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে।

অন্যদিকে ভেগান সৌম্য লাজুক মুখে জানান,এই ঘটনায় যদি আরও বেশি মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়,তবেই সার্থকতা। আর নববিবাহিত তুলিকাও দু’হাত তুলে জানান দেন যে,আগামী দিনে তারা অঙ্গদান এর সচেতনতা নিয়ে আরও মানুষকে বোঝাবে। সবথেকে বড় কথা,সৌম্য তুলিকা এর এই অঙ্গদান এর অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়াকে আমন্ত্রিত সবাই স্বাগত জানান। পরিবারের বহু  বয়স্ক সদস্যও সমস্ত সংস্কার দূরে সরিয়ে নবদম্পতির এই কাজে  মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন। প্রত্যেকেই একবাক্যে বলছেন,এই কাজ করতেই সার্থকতা জীবনের। শুভ দিন এ অন্যের পাশে থাকার দায়বদ্ধতা শুধু নয়,আরও বহু মানুষকে উজ্জীবিত করার মহান কাজ করলো এই নব দম্পতি।

Abhijit Chanda

First published: February 6, 2020, 9:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर