• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ব্রিগেডে একজোট বিরোধীরা, নেতৃত্বে মমতা, নেই শুধু বামেরাই

ব্রিগেডে একজোট বিরোধীরা, নেতৃত্বে মমতা, নেই শুধু বামেরাই

Courtesy: REUTERS

Courtesy: REUTERS

উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ ভারত, কাশ্মীর থেকে বাংলা, ব্রিগেডের মঞ্চ এদিন যেন এক টুকরো মিনি ভারত

  • Share this:

    লক্ষ্য উনিশের লোকসভা নির্বাচন৷ ৷ তার আগে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের ঐতিহাসিক সমাবেশ । এক মঞ্চে ২৩টি রাজনৈতিক দল ৷ নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মোদি বিরোধী শিবিরকে একজোট করে একের বিরুদ্ধে একের লড়াই ৷ যেখানে প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বিভিন্ন দলের নেতাদের একটাই বার্তা, কেন্দ্রের সিংহাসন থেকে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে উৎখাত করা ৷ দেশের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই শনিবার ব্রিগেডে হাজির হয়েছিলেন নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও ভিন রাজ্যের মন্ত্রীরাও ।

    ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া ৷ ছিলেন বাজপেয়ী সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা ৷ রাজনীতির মাঠে একেবারে নতুন মুখ হার্দিক পটেল, জিগ্নেশ মেবাণী বা তেজস্বী যাদবের মতো নেতারাও মমতার ডাকে পৌঁছে গেছিলেন ব্রিগেডের মঞ্চে ৷ মঞ্চে উঠে মমতার বার্তা-' বাতিল ওষুধের মতো মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে'। নোটবন্দি থেকে জিএসটি, সিবিআই দুর্নীতি, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বশাসনে হস্তক্ষেপ- জনতার কাছে মোদি সরকারের একাধিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন বক্তারা । উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের কথায় দেশের মানুষ এখন এক নতুন প্রধানমন্ত্রীকে চায় ও খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন সাধারণ মানুষ । দেশের যুব সমাজের মধ্য বিভাজন সৃষ্টি করছেন নরেন্দ্র মোদি, ব্রিগেডের মঞ্চে অভিযোগ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের । মোদি-শাহ জুটি দেশকে ক্রমশ বিভাজনের পথে নিয়ে চলেছে যা বিপজ্জনক, মন্তব্য কেজরিওয়ালের । ব্রিগেডের সমবেত কন্ঠস্বরে একটাই আওয়াজ জোরাল হয়ে উঠল -২০১৯ এর নির্বাচনে মোদি সরকারের অবসান ঘটাতে হবে ।

    তবে ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যাবে দীর্ঘকাল ধরেই তৎকালীন সরকারগুলির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার মুক্তাঙ্গন কিন্তু এই ব্রিগেডের মাঠ । ঘটনাচক্রে, বাংলায় ৩৪ বছরের বাম সরকারের অবসান ঘটাতে এই ব্রিগেডেই সেই প্রতীকী বামেদের মৃত্যুঘন্টায় বাজিয়েছিলেন তখনকার বিরোধী নেত্রী মমতা ।

    সেক্ষেত্রে আজকের এই সমাবেশ কেন ঐতিহাসিক তকমা পেয়েছে ? কারণ অন্য বিরোধী রাজনীতির থেকে একটু হলেও আলাদা ধরনের ছবি কিন্তু তুলে ধরেছে আজকের এই ব্রিগেড সমাবেশ । রাজনৈতিক মহলের মতে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের বিরুদ্ধে ২৩টি রাজনৈতিক দল একই মঞ্চে- এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম । ভারতীয় রাজনীতিতে অবশ্যই নানা ধরনের বিভেদ রয়েছে। ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিভেদ থাকলেও আজকের সমাবেশে কিন্তু সংবাদমাধ্যমের যাবতীয় স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছে আঞ্চলিক দলগুলিই । জাতীয় নির্বাচনের আগে এটাই একটি বিশাল মাইলস্টোন ।

    নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, জিগনেশ মেবাণী ও হার্দিক পটেলের মত যুব নেতাদের উপস্থিতিও এই সমাবেশকে অনেকটাই বাড়তি প্রাসঙ্গিকতা দিয়েছে । রাজনৈতিক মতাদর্শ দূরে সরিয়ে রেখে তেইশ দলের একত্রিত হওয়াটাই এই সমাবেশকে অন্য মাত্রা দিয়েছে ।

    উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ ভারত, কাশ্মীর থেকে বাংলা, ব্রিগেডের মঞ্চ এদিন যেন এক টুকরো মিনি ভারত ৷

    জণগনের উদ্দেশে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার বার্তা-' বিজেপি’র শাসন জম্মু-কাশ্মীরকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে ৷ এক সময়ের ডাকসাইটে বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথ্যকে বিকৃত করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার ৷

    রেকর্ড ভিড় বা রাজনৈতিক ভাষণ-কোনওটাই এই সমাবেশের সাফল্যকে নির্ধারণ করবে না । আরও একবার নতুন করে ভারতীয় রাজনীতির প্লুরালিজম তথা বহুত্ববাদকে নতুন করে তুলে ধরেছে এই সমাবেশ । জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দেশের বৈচিত্রকে বিসর্জন দেওয়ার প্রয়োজন নেই- এই বার্তাকেই নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে আজকের ব্রিগেড।

    তবে সবশেষে, নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান-এই কয়েকটি শব্দকে বিপুল প্রাসঙ্গিকতা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বাংলার মাটিই যে ভবিষ্যৎ ভারতকে পথ দেখাবে সেটাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে নেতাদের বক্তব্যে, কথায় ৷ তাঁর কৃতীত্বও জননেত্রী মমতারই ।

    First published: