অসম্ভব যন্ত্রণার ২ মাস, দাঁতালের পায়ে অস্ত্রোপচার, তারপর...

Elephant - Photo- File

মাস দুয়েক আগে ঝাড়খন্ড থেকে এ রাজ্যে ঢুকে পড়েছিল এই দাঁতালটি। তার আগে থেকেই ওই লোহার চেন পায়ের মধ্যে ঢুকেছিল। এখানে এসে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছিল দাঁতালটি।

  • Share this:

#কলকাতা: দু'মাস ধরে পায়ের ভিতরে একটি মোটা লোহার চেনের অংশ আটকে ছিল একটি দাঁতাল হাতির। শেষমেশ বৃহস্পতিবার ওই দাঁতাল হাতির পায়ে অস্ত্রোপচার করে ওই চেনের অংশটি বের করেছেন বন দফতরের চিকিৎসকেরা।

বন দফতর সূত্রে খবর, মাস দুয়েক আগে ঝাড়খন্ড থেকে এ রাজ্যে ঢুকে পড়েছিল এই দাঁতালটি। তার আগে থেকেই ওই লোহার চেন পায়ের মধ্যে ঢুকেছিল। এখানে এসে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছিল দাঁতালটি। স্বভাবতই এই নিয়ে খুবই ভুগছিল দাঁতালটি। আহত হওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই ঝামেলা পাকাত দাঁতালটি। বন দফতরের এক অফিসার বলেন, "আমরা অনেক দিন ধরেই দাঁতালটিকে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছিলাম। শেষমেশ বৃহস্পতিবার আমরা সফল হয়েছি।"

দাঁতালটির চিকিৎসার জন্য প্রথমে ছ'জন পশু চিকিৎসকের একটা দল তৈরি করা হয়। তার পরে ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে হাতিটিকে অচৈতন্য করে দেওয়া হয়। তার পরে ওই দাঁতালটিকে আবার চেন দিয়ে বাঁধা হয়। কয়েকজন বন দফতরের কর্মী দাঁতালটিকে বাঁশ দিয়ে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এর পর দাঁতালের ডান পায়ের পিছনের অংশের মাংস কেটে আটকে থাকা লোহার চেনটি বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। পুরো অস্ত্রোপচারটি হয়েছে বাঁকুড়ায়।

দাঁতালের দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বেশি দিন দাঁতালটি এই অবস্থায় ঘুরলে শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া শুরু হত। তারপরই হয়ে এই অস্ত্রোপচার  কয়েকজন বন দফতরের কর্মী দাঁতালটিকে বাঁশ দিয়ে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর দাঁতালের ডান পায়ের পিছনের অংশের মাংস কেটে আটকে থাকা লোহার চেনটি বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। পুরো অস্ত্রোপচারটি হয়েছে বাঁকুড়ায়।  তাতে দাঁতালটির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। এখন অস্ত্রোপচার করে দেওয়ায় ধীরে ধীরে দাঁতালটি সুস্থ হয়ে যাবে। এখন পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দাঁতালটিকে কড়া নজরদারিতে রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বন দফতরের কর্তারা।

SHALINI DATTA

Published by:Debalina Datta
First published: