অনলাইনে জৌলুস হারাচ্ছে শৈশব, মনোবিদদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ

এই ছহিটা হারিয়ে গিয়েছে বহুদিন। ছোটদের নিয়ে চিন্তায় বড়রা।

গত বছর থেকে লাগাতার অতিমারীর অভিঘাতে স্কুলের তালা খোলেনি। স্কুলমুখো হয়নি শৈশব।

  • Share this:

#কলকাতা: শৈশব মানে স্কুল, আর স্কুল মানেই বন্ধু। সেই সব বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় শৈশবের ভিত্তিও। অনলাইন শিক্ষায় সে সবই এখন ধূসর স্মৃতি। গত বছর থেকে লাগাতার অতিমারীর অভিঘাতে স্কুলের তালা খোলেনি। স্কুলমুখো হয়নি শৈশব। আর তাতেই সমস্যা বাড়ছে, আপাত ছোট হয়ে আসা বাঙালি মধ্যবিত্তের পরিবারগুলিতে। এখন স্কুল না থাকায় বন্ধু আর বাইরের আকাশ বলতে শুধুই বাবা-মা। বন্দি চার দেওয়ালের মধ্যে। কাজেই অনেক ক্ষেত্রে শিশু হয়ে যাচ্ছে খিটখিটে। ছোট ছোট বিষয়ে ঝগড়া করছে বাবা-মার সঙ্গে। অনেক সময়ে একা থাকতে থাকতে বিরক্ত এতটাই বাড়ছে যে নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা বাড়ছে ওই সব শিশুদের মধ্যে। সহিংস হয়ে উঠছে ওরা। এমনকি বাবা-মায়ের থেকে কিছুটা সময় দূরে না থাকাটাও সর্বনেশেই হয়ে উঠছে ওদের জন্য।

নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা পঞ্চম শ্রেণির আকাঙ্খার ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হয়নি। বলছে, "বাড়িতে থাকতে ভাল লাগে না। খেলা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়নি কত্ত দিন। মন খারাপ তো হয়ই।" আকাঙ্খার বাবা অমিতাভর কথায়, "গত বছর তা-ও বোঝানো হয়েছিল, এ বার কোনও রকমে কষ্ট করে কাটিয়ে দিলেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু সে আর হল কই! তার ওপর আবার আর একটা লকডাউন। এ বার সত্যি সামলানোই মুশকিল হয়ে যাবে।"

মানসিক রোগের চিকিৎসক জয়রঞ্জন রামের কথায়, "অনেকে মনঃসংযোগ করে পড়াশোনাই করতে পারছে না। সে জন্য আমাদের কাউন্সেলিং করতে হচ্ছে। আবার অনেক শিশু বাইরে মেলামেশা না করায় কথা শিখছে এবং বলছে দেরিতে। সামাজিক মেলবন্ধন বাচ্চাদের এতটাই কমে গিয়েছে যে তাতে নানা বিপত্তি দেখা দিচ্ছে।" কপালে চিন্তার ভাঁজ জয়রঞ্জনের মতো বহু মনোবিদেরই।

কিন্তু শৈশবের এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলবে কবে! কবেই বা আবার খোলা আকাশের নীচে খিলখিল করে হেসে উঠবে শৈশব! কোভিডের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইয়ে আপাতত চাপা পড়ে গিয়েছে ওই সব প্রশ্নের উত্তর। স্কুলমুখো হয়নি শৈশব। আর তাতেই সমস্যা বাড়ছে আপাত ছোট হয়ে আসা বাঙালি মধ্যবিত্তের পরিবারগুলিতে।

Published by:Arka Deb
First published: