মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনে মিলল সুফল, ভর্তুকিতে পেঁয়াজ মিললেও ঝাঁঝে চোখের জল অব্যাহত

মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনে মিলল সুফল, ভর্তুকিতে পেঁয়াজ মিললেও ঝাঁঝে চোখের জল অব্যাহত
  • Share this:

Venkateswar Lahiri #কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সুফল বাংলা স্টল থেকে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হল। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার পরিদর্শনে গিয়ে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি কতটা প্রভাব পড়েছে এই বাজারে তার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পেঁয়াজের দাম নিয়ে বিক্রেতাদের পাশাপাশি কথা বলেন ক্রেতাদের সঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী ক্রেতাদের কাছে জানতে চান, সেই বাজারে সুফল বাংলার কোনও স্টল রয়েছে কিনা। উত্তরে ক্রেতারা বলেন, না এই ধরনের কোনো স্টল তাদের নজরে আসেনি। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সুফল বাংলা স্টল থেকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হল। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার পরিদর্শনে গিয়ে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি কতটা প্রভাব পড়েছে তার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পেঁয়াজের দাম নিয়ে বিক্রেতাদের পাশাপাশি কথা বলেন ক্রেতাদের সঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী ক্রেতাদের কাছে জানতে চান, রাজ্য সরকারের ভর্তুকি দেওয়া পেঁয়াজ সেই বাজারে সুফল বাংলার কোনও স্টল থেকে মিলছে কিনা। উত্তরে ক্রেতারা বলেন, না এই ধরনের কোনো স্টল তাদের নজরে আসেনি। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে যদুবাবুর বাজারে সুফল বাংলার ভ্রাম্যমান স্টল বসানোর নির্দেশ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গেল সুফল বাংলার স্টলের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। পেঁয়াজের চাহিদা থাকায় আপাতত সুফল বাংলা স্টল থেকে মাথাপিছু ৫০০ গ্রাম করে পেঁয়াজ বিক্রি চলছে। প্রতি কেজি ৫৯ টাকা দরে পেঁয়াজ পাওয়ায় খুশি ক্রেতারা। তাঁদের কথায় গত প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের ঝাঁজে জেরবার হয়ে পেঁয়াজের স্বাদই ভুলতে বসেছি। শেষমেষ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সামান্য হলেও পেঁয়াজ কম দামে পাওয়ায় হেঁসেলে পেঁয়াজের আকাল কিছুটা হলেও মিটলো। সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আর্জি, যতদিন না পর্যন্ত পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সুফল বাংলার সুফল তাঁরা যেন পান। সুফল বাংলার পাশাপাশি কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন রেশন দোকান থেকেও এদিন ভর্তুকির পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৯ টাকায় ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রতি কেজি ৫৯ টাকা দরে কিনতে রেশন দোকান গুলিতেও লম্বা লাইন। কলকাতার ৯৫০ টি রেশন দোকান থেকে ভর্তুকির পেঁয়াজ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে রেশনের মালিকপক্ষের অ্যাসোসিয়েশন। তাঁদেরই একজন নারেশ আগারওয়াল বলেন, ‘‘যেভাবে খোলা বাজারে পেঁয়াজের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, তাতে পেঁয়াজের চাহিদা এখন তুঙ্গে। প্রতিদিন খোলা বাজারে যেভাবে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তাতে এই মুহূর্তে সমস্ত গ্রাহককে কিছুটা সুরাহা দিতেই পরিবার পিছু ১ কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করছি আমরা ৷’’ কলকাতা শহরের যে ক'টি রেশন দোকান আছে, তার অধিকাংশ দোকানে গিয়ে সকালে দেখা গেল দোকান খোলার অনেক আগে থেকেই গ্রাহকরা লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কম দামে পেঁয়াজ মিলবে এই আশায়। দাম বাগে আনতে আপাতত রাজ্যের ১৩১ টি সুফল বাংলা স্টল, কলকাতার ৯৩৪ টি এবং শহরতলীর ৫০০ টি রেশন দোকানের পাশাপাশি ১০৫ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি হবে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে এক সরকারি আধিকারিক জানান। ইতিমধ্যেই পেঁয়াজ বন্টন নিয়ে রাজ্য সরকারের মুখ্য কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ছুটির দিনেও রেশন দোকান খোলা রাখা হবে ক্রেতাদের সুবিধার্থে। মঙ্গলবারও কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দাম খোলা বাজারের সর্বোচ্চ কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ৷ তবে কতদিনে পিঁয়াজের ঝাঁঝে অনবরত চোখের জল পড়া বন্ধ হবে আমজনতার তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

First published: December 10, 2019, 10:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर