ইন্দ্রনীল নেই, মমতার অনুরধে গান ধরলেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়

ইন্দ্রনীল নেই, মমতার অনুরধে গান ধরলেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়

CAA ও NRC ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে গান শোনালেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়

  • Share this:

#কলকাতা: তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলান। এবার থেকে দলের নতুন দায়িত্ব এসে পড়ল তার কাঁধে। দলের তৈরি ইস্যুতে যে গান বিভিন্ন জনসভায় শোনানো হয়, সেই গান গেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ থেকে গায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। তার গানের সঙ্গে এদিন কাঁসর বাজিয়ে তাল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে দলীয় সভা ছিল তৃণমুল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভা ভোটে এই জেলায় খারাপ ফলের পর, জেলার সাংগঠনিক রদবদল করা হয়। দায়িত্বে নিয়ে আসা হয় রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। ফলে দলীয় নেত্রীর সভা আয়োজনের কাজে গত দুদিন ধরেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন। বুধবার সকালেও তিনি সকাল থেকে হাজির ছিলেন বুনিয়াদপুর ফুটবল মাঠে। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হেলিকপ্টারে করে বুনিয়াদপুরে এসে পৌছন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণত তার সফরে সাথে থাকেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সিএএ ও এন আর সি- বিরোধিতায় তিনি যে গান রচনা করেছেন, সেগুলি তিনি সভা শুরু বা শেষে শোনান। এই সফরে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ছিলেন না ইন্দ্রনীল সেন। ফলে দলীয় সভায় গান কে গাইবে তা নিয়ে শুরু হয় টেনশন। জেলার বিভিন্ন শিল্পীরা হাজির থাকলেও মঞ্চ থেকে কে গান ধরবেন তা নিয়ে শুরু হয় খোঁজ। তখনই নিজে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। রাজীবের প্রস্তাব ফেরাননি তিনি। তারপরে মঞ্চে সবাই উঠে গেলেও মঞ্চের পিছনে রিহার্সাল শুরু করে দেন তিনি। কিছু সময় পরে অবশ্য রাজীবের খোঁজ পড়ে মঞ্চে। এদিনের সভার ঘোষক তথা বালুরঘাটের প্রাক্তন সাংসদ, যিনি নিজেও একজন নাট্যকর্মী অপিতা ঘোষ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ডেকে নেন দক্ষিণ দিনাজপুরের দলীয় পযবেক্ষক রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। তিনি ছয় মিনিট বক্তৃতাও করেন। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক ধরতেই, ফের মঞ্চের নিচে চলে যান তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তৃতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে সবাইকে অবাক করে তিনি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে গান গাওয়ার জন্য ডেকে নেন। নেত্রীর আদেশ মতো রাজীব গান ধরেন, 'চিনি না চিনি না, এ দেশটা চিনি না।' তার গানের সাথে কাঁসর বাজাতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গান শেষে রাজীবের প্রশংসা শোনা যায় তার গলায়। একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীব ব্যানার্জিকে পরামর্শ দেন দুটি জায়গায় সুর ধরে একটু টেনে গান গাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম সারেন রাজীব। আর এই গোটা এপিসোডের কারণে দলে গায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিভিন্ন সময়ে গান গেয়ে দলের কাজ করেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গান গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন আর এক মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। মুখ্যমন্ত্রীও নিজে বিভিন্ন সময় বাদ্যযন্ত্র বাজান। গান, কবিতা লেখেন। পুজোর সময় তার লেখা গান থিম সং হিসাবে রেকর্ড করেছে। এবার সেই দলে নাম লেখালেন বনমন্ত্রী। যদিও তিনি বলেন, "দলের সৈনিক আমি, দল যখন যা করতে বলবে আমি তা করব। এদিন ইন্দ্রনীল দা ছিলেন না তাই আমি গান গেয়েছি।" রাজীবের গান গাওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেরই বক্তব্য, ভোটের প্রচারে ব্যবহার করা যায় রাজীবের গানের গলা। বিশেষ করে বাংলায় বিজেপি নেতা-সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় দলের হয়ে গান বাঁধেন ও করেন। এর আগেও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে গান গেয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তিনি গান গাওয়ার জন্য এখন প্রশ্ন গায়ক হিসাবে জোর টক্কর দিতে চলেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও রাজীবের বক্তব্য, "আমি কোনো প্রতিযোগিতায় নেই, কারও সাথে আমার প্রতিযোগিতা নেই।" মুখে স্বীকার না করলেও দলের অন্দরে জোর আলোচনা গানের লড়াইয়ে ইন্দ্রনীলকে জোর টক্কর দেবেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে গায়ক রাজীবের দিকেও তাই চেয়ে অনেকে।

ABIR GHOSHAL

First published: March 4, 2020, 5:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर