শিক্ষকদের বদলি এবার অনলাইনেই, দিতে হবে না কোনও "নো অবজেকশন সার্টিফিকেট", ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবস্থান স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন " মিউচুয়াল ট্রান্সফারে অফিস বদলির জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোন শুনানি বা হাজিরা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে হবে।"

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবস্থান স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন " মিউচুয়াল ট্রান্সফারে অফিস বদলির জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোন শুনানি বা হাজিরা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে হবে।"

  • Share this:

#কলকাতা: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির নিয়মে আর কোনও জটিলতা চায় না রাজ্য সরকার। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মিউচুয়াল ট্রান্সফার বা অফিস বদলির জন্য অনলাইন পোর্টালের উদ্বোধন করলেন। এবার থেকে যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা মিউচুয়াল ট্রান্সফারে জন্য আবেদন করবেন তারা এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবস্থান স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন " মিউচুয়াল ট্রান্সফারে অফিস বদলির জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোন শুনানি বা হাজিরা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে হবে।"

মিউচুয়াল ট্রান্সফারের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন এতদিন পর্যন্ত যে সমস্ত মিউচুয়াল ট্রান্সফারে আবেদনপত্র পড়ে রয়েছে সেগুলি ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি স্টেটাস রিপোর্ট শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠাতে হবে বলে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন  পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয় এবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির জন্য কর্মরত স্কুল থেকে কোনরকম নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন " অভিযোগ আসছে বেশ কিছু স্কুল নো অবজেকশন সার্টিফিকেট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিচ্ছে না। এবার থেকে স্কুলের বদলির আবেদনের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগবে না। স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শকদেরও সেটা জানিয়ে দিতে চাই।"

বুধবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরো জানান " মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মাফিক বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের তাদের নিজেদের বাড়ির জেলা বা পার্শ্ববর্তী জেলাতে বদলি করা হবে।৬০০০ প্রাথমিক শিক্ষককে ইতিমধ্যেই বাড়ির কাছাকাছি বদলির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।"

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রী স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির নির্দেশিকা জারি করা হলেও কেন স্কুলগুলি শিক্ষকদের স্কুল থেকে ছাড়ার ব্যাপারে সম্মতি দিচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন করেন শিক্ষা মন্ত্রী। এদিন আক্ষেপের সুরে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন " অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা ঝাড়গ্রাম যেতে চাইছেন না, সুন্দরবন যেতে চাইছেন না, কাকদ্বীপ যেতে চাইছেন না,সবাই কলকাতাতে আসতে চাইছেন। তাই পুরো বিষয়টি দেখেই বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"

২০১১ পর থেকেই মিউচুয়াল ট্রান্সফারে এবং তারপরে আবেদনের ভিত্তিতে বদলি এই দুই প্রক্রিয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চালু করে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। মিউচুয়াল ট্রান্সফারে যাবতীয় প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হত। আবেদনের মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়াও এসএসসি করতো। সম্প্রতি রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত প্রক্রিয়াতে একাধিক সরলীকরণ করেছে। এবার "নো অবজেকশন সার্টিফিকেট" না দেওয়া তার সঙ্গে অনলাইনেই বদলির সুযোগ করে দেওয়াতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে বদলির প্রক্রিয়া আরো সহজ হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Elina Datta
First published: