‘বিভেদ নয়, শান্তি চাই,’ CAA বিরোধীতায় রাজপথে রাজ্যের পুরোহিতরা, সামিল রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও

‘বিভেদ নয়, শান্তি চাই,’ CAA বিরোধীতায় রাজপথে রাজ্যের পুরোহিতরা, সামিল রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও

কোন রাজনৈতিক দলীয় পতাকা ছাড়া অরাজনৈতিক সংগঠন থেকে নাগরিক আইনের বিরোধিতা ইঙ্গিতপূর্ণ বটে।

  • Share this:

ARNAB HAZRA

#কলকাতা: নয়া নাগরিক আইনের বিরোধিতা করে এবার রাজপথে নামলেন রাজ্যের পুরোহিত ও পূজারীরা।  রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের ডাকে সোমবার পথে প্রতিবাদে সামিল হলেন হাজার হাজার পুরোহিত। এদিন সকাল থেকেই রানী রাসমণি এভিনিউতে জমায়েত শুরু করেন পূজারীরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল সকাল এসে পৌঁছে যান তাঁরা। সকলের দাবি একটাই, ‘রাজ্যের শান্তি নষ্ট করা যাবে না। বিভেদ নয়, শান্তি চাই। সনাতন ধর্ম  সকল সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে চলার।"

দুপুর একটা নাগাদ পুরোহিতদের সমাবেশে যোগ দেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রানী রাসমণি এভিনিউ থেকে শুরু হয় মিছিল। কোন রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই এই মিছিল এগোতে থাকে। মিছিল শেষ হয় গান্ধী মূর্তির নিচে। সেখানে পুরোহিতদের সামনে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মন্ত্রীর কথায়,  ‘এনআরসি, সিএএ বিরোধিতা করতেই আপনাদের এই শান্তি মিছিল। দীর্ঘদিন ধরেই আপনাদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। দেশে যখন বিভেদ, হিংসার পরিবেশ ছড়িয়েছে ঠিক সেই সময় পুরোহিতরা সনাতন ধর্মের গুরুত্ব সামনে রেখে পথে নেমেছে। এই রাজ্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য। সংখ্যাগুরু এবং উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি হয়ে আপনারা শান্তি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের প্রতিবাদকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করছি ।’

খুব অল্প পরিমাণ রাস্তায় পূজারীদের শান্তি মিছিল হলেও, মিছিলের মেজাজ ছিল আকর্ষণীয়। হলুদ পতাকায় সনাতন ধর্মের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে শান্তি মিছিল থেকে। রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট-এর সম্পাদক শ্রীধর মিশ্রে'র কথায়, ‘আমরা NRC-CAA বিরোধিতা করছি। যে আইন দেশে, রাজ্যে হিংসা ডেকে আনে ভেদাভেদ তৈরি করে তাকে ভালো বলি কি করে। আমরা শান্তি চাই তাই শান্তির উদ্দেশ্যে আমাদের শান্তি মিছিল।’

রাজ্যে সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২.৭৩ লক্ষ। পিছিয়ে পড়া পুরোহিতদের জন্য সরকারি সাহায্যের আবেদন দীর্ঘদিনের। সেইসব দাবি-দাওয়াতেও এদিন জমায়েতের ডাক দেওয়া। তবে "নাগরিক" হওয়ায় এদিনের শান্তি মিছিল হয়ে দাঁড়ায় এনআরসি,  সিএএ বিরোধিতার মিছিল। অস্থায়ী মঞ্চ থেকে রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতার কথা জানালেন উদ্যোক্তারা। এইটুকু বাদ দিলে, কোন রাজনৈতিক দলীয় পতাকা ছাড়া অরাজনৈতিক সংগঠন থেকে নাগরিক আইনের বিরোধিতা ইঙ্গিতপূর্ণ বটে।

First published: 03:46:17 PM Dec 30, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर