corona virus btn
corona virus btn
Loading

শহরের সুপ্রসিদ্ধ চায়ের দোকানে রাজনৈতিক আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা, এও কি সম্ভব!

শহরের সুপ্রসিদ্ধ চায়ের দোকানে রাজনৈতিক আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা, এও কি সম্ভব!

কমিউনিস্টদের একপ্রকার ঘাঁটি ছিল এই চায়ের দোকান।

  • Share this:

#কলকাতা: বেলেঘাটা রাসমণি বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গমগম করে গোটা এলাকা। সেখানেই তপু'দার চায়ের দোকান। তাঁকে এক ডাকে সকলেই চেনে। সকাল ছ'টা থেকে দুপুর দু'টো, আবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা। সকাল থেকে রাত, খদ্দেরের বিরাম নেই। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলত রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু, রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে যে দোকান তৈরির পর থেকে ছিল রাজনীতি চর্চার আখড়া, সেই দোকানেই আজ রাজনৈতিক আলোচনায় নিষেধাজ্ঞার কথা পোস্টার সেঁটে জানিয়েছেন তপু'দা।

১৯৫৯ সালে খাদ্য আন্দোলনের পর টালমাটাল অবস্থায় বেলেঘাটা রাসমণি বাজারে একটা ছোট্ট চায়ের দোকান খুলে বসেন স্বপন মল্লিক। তার কয়েকবছর আগেই ঢাকা বিক্রমপুর থেকে একপ্রকার নিঃসম্বল অবস্থাতেই আসেন বেলেঘাটায়। অনেক কষ্টে অর্থ জমিয়ে চায়ের দোকান খোলেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি,  কমিউনিস্টদের একপ্রকার ঘাঁটি ছিল সেই চায়ের দোকান। ৬২ সালের চিন-ভারত যুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে যাওয়া, ৬৭ সালে নকশালবাড়ি আন্দোলন, সবকিছুর সাক্ষী এই চায়ের দোকান। স্বপন বাবুর বড় ছেলে তপন তখন অনেকটাই ছোট। তবে সবকিছু তাঁর দিব্যি মনে আছে। ৭০ সালে অল্প বয়সী নকশাল ছেলেদের কীভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, ৭২ সালের পর সিপিএম কংগ্রেসের ঝামেলা লেগে থাকত। ৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়েও এই চায়ের দোকান বন্ধ হয়নি। ৮২ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর দোকানের ভার তপন মল্লিকের উপর পড়ে। আর সেই থেকেই এই দোকান হয়ে ওঠে এলাকার বামপন্থী কর্মীদের ভরসার জায়গা।

তবে ৯৮ সালে আবার চিত্র বদল। আনাগোনা বাড়তে থাকে তৃণমূল কর্মীদের। তবে কোন সময়েই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বড় আকার ধারণ করেনি।কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় বিজেপির দাপট বাড়তে থাকে। নিত্যদিন ঝামেলা লেগেই থাকছে গোটা এলাকায়। আর তপু'দার চায়ের দোকানেও তার আঁচ পড়ে। প্রায়দিনই গণ্ডগোল, হাতাহাতি, ঝামেলা লেগেই থাকে দু'পক্ষের।বহু পরিচিত খদ্দের আসা বন্ধ করে দেয়। ব্যবসা ও সুনাম মার খেতে থাকে তপুদার চায়ের দোকানে।

সামনে কলকাতা পুরসভার ভোট গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে রকম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে তপু'দা এই মাসের শুরু থেকে দোকানে রীতিমত পোস্টার লাগিয়েছেন। যেখানে লেখা আছে, দোকানে রাজনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে তাতে দোকানের বিক্রিতে খুব ভাটা পড়েনি। বরং অনেক নিয়মিত খদ্দের, যাঁরা দোকানের ধার মারাত না বেশ কিছুকাল, তাঁরা আবারও লাল বা দুধ চা খেতে ঢুঁ মারছেন দোকানে। আর তপু'দার কথায়, "কিছুদিন হল পরিবেশটা বিষিয়ে গিয়েছে, চেনা মুখগুলো বড্ড অচেনা হয়ে যাচ্ছিল। একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই পোস্টার লাগিয়েছি। আবার যদি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে, তবে আবার এই দোকানে পুরনো তর্ক-বিতর্ক ফিরে আসবে।

ABHIJIT CHANDA

Published by: Shubhagata Dey
First published: March 8, 2020, 4:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर