‘‘ সাংবিধানিক পদগুলি থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না ’’: রাজ্যপাল

‘‘ সাংবিধানিক পদগুলি থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না ’’: রাজ্যপাল
  • Share this:

Somraj Banerjee

#কলকাতা: এবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর আচার্যের ক্ষমতা কমানো নিয়ে সরব হলেন খোদ রাজ্যপাল-ই। আজ, বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কিছু কিছু পদ সাংবিধানিক হওয়ার জন্য সেগুলি রাজ্যপালের জন্য স্থির থাকছে। এগুলো দেখে আমার ভাল লাগছে। আমি চ্যান্সেলর আমাকে ওখান থেকে সরানোর প্রয়াস চলছে।’’ যদিও এই বক্তব্য তিনি কেন রাখলেন সে বিষয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে চাননি রাজ্যপাল।

সম্প্রতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য ক্ষমতা নিয়ে নয়া বিধি জারি করেছে। যে বিডিতে আচার্যের ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব করা হয়েছে অন্তত এমনটাই অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। তারপর থেকে অবশ্য এ বিষয়ে মুখ খোলেননি আচার্য তথা রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার সে নিয়ে মুখ খোলায় বিতর্ক আবারও শুরু হল বলেই মত একাংশের।

এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজ্য রাজ্যপাল চলছেই। তারই মাঝে এবার চলে এল রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর আচার্যের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ। যা এই সংঘাতে নয়া মাত্রা যোগ করল বলেই নেহাত কম নয়। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভার অধিবেশনে ২০১৭-তে আইনে পরিণত হওয়া রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ আইনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর আচার্যের ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য ক্ষমতা কি থাকবে তা নিয়ে বিধি জারির পরপরই বিরোধীদের অভিযোগ উঠে এসেছে আচার্যের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। সম্প্রতি এই বিধির জারির পর পর কিছু না বললেও অবশেষে সেই বিধি নিয়ে খোঁচা দিলেন রাজ্যপাল।

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে কিছু সাংবিধানিক পদ আমার জন্য স্থিরতায় আছে। এটা আমার ভাল লাগে। শুনে ভাল লাগে ওখান থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না। আমি চ্যান্সেলার আছি। ওখান থেকে প্রয়াস চলছে। এগুলো নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, এশিয়াটিক সোসাইটি,ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এর মত পাট্রন এর পদ থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না। এগুলো সাংবিধানিক পদ।" মূলত রাজ্য আচার্যের ক্ষমতা নিয়ে 9bd জারির পর পর এদিন তার উত্তর দিয়ে দিলেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার বলেই মনে করা হচ্ছে।

উচ্চ শিক্ষা দফতর আচার্যের ক্ষমতা নিয়ে যে নয়া বিধি জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে:

১) রাজ্যপাল আচার্য চাইলেই কোনও উপাচার্য-কে ফোন করতে বা কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না।

২) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না আচার্য। শিক্ষা দফতরকে তা জানিয়ে করতে হবে। ৩) কোন কমিটিতে আচার্যের মনোনীত সদস্য কে হবেন, তার জন্য শিক্ষা মন্ত্রী তিনজনের নাম দেবেন। তার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হবে আচার্যকে। ৪) কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সেনেট এবং সিন্ডিকেটের বৈঠক হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা মন্ত্রী বা উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। আচার্য-কে শুধু তা জানিয়ে দিলেই হবে।

উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে এই বিধি জারীর পর পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বশাসন এ এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে রাজ্য। বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের এই হল মন্তব্যের পর এই বিধি নিয়ে বিতর্ক আরও মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন একাংশ।

First published: December 19, 2019, 3:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर