কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে ছুটি নেই একদিনও, রবিবারেও রেশন ব্যবস্থা সামলালেন খাদ্যমন্ত্রী

লকডাউনে ছুটি নেই একদিনও, রবিবারেও রেশন ব্যবস্থা সামলালেন খাদ্যমন্ত্রী
File Photo

যেহেতু শনিবার থেকে রমজান মাস শুরু হয়ে গিয়েছে তাই রেশন নিয়ে বাড়তি নজর দিচ্ছে সরকার।

  • Share this:

#কলকাতা: রেশন সমস্যা মেটাতে আধিকারিকদের সাথে ছুটির দিনেও আলোচনা  চালিয়ে গেলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে রবিবার সকালেও খাদ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে রেশন নিয়ে নানা অভিযোগের ফোন এসেছে। বহু জায়গায় রেশন না দেওয়ার যে সব অভিযোগ এসেছে তা রবিবার ছুটির দিনেও সমাধান করলেন খাদ্যমন্ত্রী। যেহেতু শনিবার থেকে রমজান মাস শুরু হয়ে গিয়েছে তাই রেশন নিয়ে বাড়তি নজর দিচ্ছে সরকার।

গত কয়েকদিনে রেশনে খাদ্যশস্য কম দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়, সবং, মেদিনীপুর সদর ব্লক, পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন এলাকা ও মালদহ থেকে নানা অভিযোগ এসেছে গত কয়েক দিন ধরে। মূল অভিযোগ ছিল, নিম্ন মানের চাল, আটা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে মালদহ, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে।

অভিযোগ রেশন দোকানে ঠিকঠাক ‘বিল’ না দেওয়া, দোকানের বাইরে কোন শ্রেণির উপভোক্তা, কী খাদ্যসামগ্রী পাবেন, তা টাঙানো এখনও পর্যন্ত থাকছে না। এমন অভিযোগ এসেছে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গা থেকে। দুর্নীতির অভিযোগে গত সপ্তাহেই সমস্যা হয়েছে হুগলিতে। পুরশুড়ার এক ডিলারকে মারধর এবং তাঁর বাড়ি-গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল গ্রাহকদের একাংশের বিরুদ্ধে।রবিবার অবধি অভিযোগ এসেছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, জামুড়িয়ার কিছু বাসিন্দার কার্ড নেই। এই সব বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকার রেশন ডিলারের কাছে ‘ফুড কুপন’ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু লকডাউনের সময়ে দূরের রেশন দোকানে তাঁরা যেতে পারছেন না।

একই ধরণের সমস্যা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা, হুগলি, মালদহের বেশ কিছু জায়গায়। সেই সব সমস্যা রবিবার দুপুর অবধি বাড়িতে বসে মেটানোর চেষ্টা করেছেন খাদ্য মন্ত্রী।  খাদ্য দফতর সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই  শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে ২৩০ জন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ডিলারদের একাংশের অভিযোগ, সরকারের কাছ থেকে সময়ে রেশনের জিনিস মিলছে না। তাই তারা জিনিস দিতে পারেননি।  রেশন ডিলারদের সংগঠনের নেতা বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘যে সব ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত জিনিস পৌঁছয়নি, তাদের কাছে সেই সব খাদ্যশস্য পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত।’’এই সমস্যা মেটাতে একাধিক পদক্ষেপ করছে প্রশাসন। যেমন, অনেক পরিবারের সদস্যের তুলনায় কম রেশন কার্ড থাকায় তাঁরা পর্যাপ্ত রেশন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এসেছিল পুরুলিয়া জেলা থেকে। জেলা প্রশাসন এই সব পরিবার-সহ সহায়সম্বলহীন, অক্ষম মানুষদের চিহ্নিত করতে মানচিত্র তৈরি করেছে। যাঁদের খাবারের অভাব হতে পারে, তাঁদের ব্লক থেকে ত্রাণ-সাহায্য দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। গত রবিবার চলতি মাসের খাদ্যশস্য বিলির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এ বার মে মাসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। দেখা হচ্ছে যেন কোনও ফাঁক ফোকর না থাকে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘সবাই এক মাসের চাল এক বারে পেয়েছেন। ডিজিটাল কার্ড যাঁদের নেই, তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ত্রাণও পাবেন। খাবার পেতে কারও কোনও অসুবিধা হবেনা। কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে  গন্ডগোল বাধানো হয়েছে। এই বিপদের সময়ে রাজনীতি করতে চাই না। এই সময় সবাই মানুষের পাশে থাকুন। তাহলে সবার ভাল হবে।"

Abir Ghoshal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: April 26, 2020, 6:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर