Home /News /kolkata /
একটানা লকডাউন, ঘরে নেই দানা, খিদের জ্বালায় কোলের বাচ্চা বিক্রি করে পেট ভরাচ্ছেন মঙ্গলি

একটানা লকডাউন, ঘরে নেই দানা, খিদের জ্বালায় কোলের বাচ্চা বিক্রি করে পেট ভরাচ্ছেন মঙ্গলি

ওকে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিল,বাচ্চা বিক্রি করেছে,১ হাজার টাকা পেয়েছিল।কিন্তু খবর ছিল,১০ হাজার টাকা দর হয়েছিল।এক হাজার টাকা পাবার পর আর কোনও টাকা পায়নি,সেটা স্বীকার করে নেয়।

  • Last Updated :
  • Share this:
#কলকাতা:   লকডাউন ২২শে  মার্চ শুরু হয়।একমাস যেতে না যেতেই নারকেল ডাঙ্গা খালপাড়ে টাকার অভাবে সদ্যজাত বাচ্চা বিক্রি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমাদের কাছে অনেকদিন থেকেই একটি বাচ্চা বিক্রির খবর ছিল।শিয়ালদহ স্বরস্বতী প্রেসের সামনে বসে মুচির কাজ করে মঙ্গলি ওরফে দুর্গা দাস।   দুর্গার স্বামী অনেক দিন আগে মারা গেছে।এক ছেলে ও দুই মেয়ে।ছেলে বছর কয়েক আগে অসুখে মারা যায়।এখন দুই মেয়েই আছে।মঙ্গলির কথায়,মেয়েরা রাস্তায় যাদের দেখে তাদেরই বিয়ে করে। মেয়েরা দশটা বিয়ে করবে ,দশটা বাচ্চা বিয়বে! রোজগার নেই ,খাওয়াবে কি?   লকডাউন এর সময় ওর একটি মেয়ের বাচ্চা হয়।বাচ্চাটি শিশু কন্যা।সেই বাচ্চাটিকে এপ্রিল মাসে বিক্রি করে দেয়,বলে খবর ছিল।প্রথমদিন ওকে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিল,বাচ্চা বিক্রি করেছে,১ হাজার টাকা পেয়েছিল।কিন্তু খবর ছিল,১০ হাজার টাকা দর হয়েছিল।এক হাজার টাকা পাবার পর আর কোনও টাকা পায়নি,সেটা স্বীকার করে নেয়।তবে খুব চতুর এই মঙ্গলী। ৪০ বছরের বেশি ওই জায়গাতেই জুতো সেলাই এর কাজ করছে।প্রথম থেকেই বলছিল ,ওর এক ননদের কাছে মানুষ করতে দিয়েছে বাচ্চাটিকে।তার বাড়ি ট্যাংরাতে।চেপে ধরাতে নিজের কথা বদল করে বলে - কাল আসুন বাচ্চা দেখাব।তার পর আবার পাল্টি খেয়ে যায়,বলে ননদের বৌমার কাছে বাচ্চাটি আছে।প্রথমে বলেছিল,ননদের দুটি মেয়ে দুটি ছেলে,তার পরেই বলে ননদের বৌমার কোনও ছেলে ছেলে মেয়ে নেই।প্রতিটি কথা ছিল অসংলগ্নতা ।মঙ্গলি প্রথম দিন বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল,ওর বাড়িতে বাচ্চা আছে।সেই থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, এই অবধি এসেছে। খাল পাড়ে ওর ঝুপড়ি ঘরে গিয়েও বাচ্চাটিকে দেখা যায়নি।   তবে খাল পাড়ের,বাসিন্দাদের দাবী, মঙ্গলির কোনো মেয়ে, কোনদিন বিয়ে করেনি। কিন্তু প্রতিবছরই দুটি মেয়ের সন্তান হয়। বড় মেয়ের দুখিনী গত বছর একটি সন্তান বিক্রি করেছে। এবছরও ওদের কথায়,৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে।এখানে প্রচুর বাচ্চা পাচারের দালাল আছে।তারাই জোগাড় খরিদ্দার জোগাড় করে দেয়।   তবে খুব বড়ো চক্রের পান্ডা এই মঙ্গলি,সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছিল, স্বরস্বতী প্রেসের পাশের এর একজন মহিলা দোকান দারের কথায়।ওরাই বাচ্চা পয়দা করে, আর বিক্রি করে।   বাচ্চার বিষয়টি মোটামুটি এলাকার লোক সবাই জানে।জেরার মতো একের পর এক প্রশ্ন , শোনার পর মঙ্গলি রীতিমত ভেঙে পড়ে জিজ্ঞাসা করেন,আমাকে জেল খাটাবেন ?চোখের কোণায় জল চলে এসেছিল ওর।   তবে সারাদিনে, কোনো ভাবে ৫০-৬০ টাকা রোজগার হয় ওর।দুটি মেয়ে,চারটে নাতনি,তাদের খাবার জোগানো, প্রতিদিন কোনো ভাবে সম্ভব হয়না।স্বাভাবিক ভাবেই, মঙ্গলি বলেন, ' আমার ষাট বছর বয়স হয়ে গেছে। লকডাউনে ১০ টাকাও রোজগার নেই, মেয়েরা যদি,এতগুলো করে বাচ্চা জন্ম দেয়,তাদের কি ভাবে বাঁচাবো '।যুক্তিটি যদিও ঠিক।তবুও কেন নজর নেই, পরিবার কল্যাণ দপ্তরের? প্রশ্ন স্থানীয় দোকানদারদের।
Shanku Santra
Published by:Elina Datta
First published:

Tags: Child Trafficking