কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ক্ষুধার্ত শিশুকে বাঁচার তাগিদেই কাজ দিলেই, শিশু শ্রমিক আইনে পড়বেন

ক্ষুধার্ত শিশুকে বাঁচার তাগিদেই কাজ দিলেই, শিশু শ্রমিক আইনে পড়বেন

জানা গেল লকডাউন এর সময় থেকে বাবার কাজ না থাকার ফলে, ১২ বছরের ওই ছেলেটি এইভাবে কিছু লেবু দোকান থেকে কিনে প্রত্যেককে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, বিক্রি করে।

  • Share this:

#কলকাতা: ষষ্ঠীর দিন সকাল সকাল। গাড়িটা নিয়ে গড়িয়া স্টেশন এলাকাতে সবে দাঁড়িয়েছি।এমন সময় ছোট্ট একটি কচি হাতে পাঁচটি পাতিলেবু আমার সামনে এগিয়ে দিয়ে একটি ছোট্ট ছেলে অনুরোধ করল, ৫টি লেবু ১০টাকা ,নিন না! সকালের আরষ্ঠতা তখনও আমার ঠিকমত কাটেনি। ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, নাকে সর্দি ,চোখ দুটো ছল ছল করছে।    মনটা খুব খারাপ লাগল। ছেলেটির কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকার লেবু কিনলাম কুড়িটি। তারপরে ছেলেটির বাহানা টিফিন করবে ১০ টাকা দাও। তাও দিলাম। তারপরে দেখলাম এই ৬০ টাকা নিয়ে সোজা চলল পাশের একটি দোকানে । দেখলাম সেখানে চল্লিশ টাকার একটি কোলড্রিংস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকেই হয়তো ভাববেন ছেলেটি মিথ্যে কথা বলে টাকাটা নিল। কিন্তু না ,সব শিশুরই একটু ভাল খেতে, ঝকঝকে জিনিস দেখতে ,হাতে নিতে ইচ্ছে হয়। সেই বাসনা ওর মনের মধ্যে অনেকক্ষণ ছিল, আমার কাছ থেকে টাকাটা পাওয়ার পর হয়তো সেটা মিটলো।

আমি আর  ওগুলোর দাম ওকে দিতে দিলাম না। ওকে বললাম পরের দিন আসতে। পরেরদিন আসতে জানা গেল,ওই ছোট্ট ছেলেটির নাম বুবাই নস্কর, ডাকনাম হাসা। বাবা তপন নস্কর লোকের বাড়িতে গাছ কাটার কাজ করেন। বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকার কারণে ,ওই পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছে না কেউ। থাকে গড়িয়ার গড়াগাছা এলাকার, ভারত মাতা মন্দির এর পেছনে স্কুলের পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে।

সপ্তমীর দিন সকালবেলা ছেলেটি আসার পর সবাই তাকে একটি জামা প্যান্ট কিনে দেওয়া হল। জানা গেল লকডাউন এর সময় থেকে বাবার কাজ না থাকার ফলে, ১২ বছরের ওই ছেলেটি এইভাবে কিছু লেবু দোকান থেকে কিনে প্রত্যেককে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, বিক্রি করে।    শৈশব চুরি হচ্ছে প্রতিদিন । এই লকডাউনে কত শৈশব চুরি হয়ে গেল তার হিসেব নেই। রাস্তায় বেরোলেই সমাজকর্মীদের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে। কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়ার শৈশবের শিশুদের নিয়ে সেরকম কোনও উদ্যোগ ইদানীংকালে আর চোখে পড়ছে না।কারণ সামাজিক দূরত্ব নামে একটি প্রথা তৈরি হয়েছে সরকারের । তার দোহাই দিয়ে সমাজকল্যাণের বহু প্রকল্প বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।

বাড়িতে বাবা-মা ছোট ভাই তাদের দায়িত্ব নিয়েছে ও। অকালে ঝরে যাওয়ার থেকে যদি কোন জায়গায় অর্থের বিনিময়ে শ্রম দেয় এই শিশুটি, তাও আমাদের দেশে আইন রয়েছে শিশু শ্রমিক আইন। যথারীতি যিনি কাজ দেবেন ,তার জেল পর্যন্ত হতে পারে। এই বুবাইরা তাহলে বাঁচবে কোন পথ দিয়ে?

Published by: Pooja Basu
First published: October 23, 2020, 11:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर