সাংসদই থাকছেন, বিধানসভায় গিয়ে ইস্তফা দিলেন নিশীথ- জগন্নাথ

বিধানসভায় নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার৷

দিনহাটা আসনে তৃণমূলের উদয়ন গুহকে মাত্র ৫৯ ভোটে হারিয়ে বিধানসভায় জয়ী হন নিশীথ প্রামাণিক। শান্তিপুর আসনে ১৫৮৭৮ ভোটে জয়ী হন জগন্নাথ সরকার।

  • Share this:

#কলকাতা: সাংসদ পদেই বহাল থাকবেন নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। নিশীথ প্রামাণিক ছাড়বেন দিনহাটার বিধায়ক পদ৷ জগন্নাথ সরকার ছাড়লেন শান্তিপুরের বিধায়ক পদ। এ দিন বিধানসভায় এসে দুই সাংসদ তাঁদের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দু'জনেই জানিয়েছেন, দলের নির্দেশেই বিধায়ক পদ ছাড়লেন তাঁরা৷

 বিধানসভা ভোটে রাজ্যের দুই বিজেপি সাংসদ ভোটে লড়ে জিতে আসলেও তাঁরা শপথ গ্রহণ করেননি৷ কিন্তু বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁরা নিয়মানুযায়ী বিধানসভায় তাঁদের ইস্তফা দিলেন। বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাদের চার লোকসভার সাংসদকে টিকিট দেয়। এর মধ্যে দুই তারকা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় হেরে যান টালিগঞ্জ আসন থেকে। তিনি হেরে যান অরুপ বিশ্বাসের কাছে। হেরে যান আর এক তারকা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। হুগলির সাংসদ চুচুঁড়া বিধানসভায় হেরে যান অসিত মজুমদারের কাছে। সাংসদদের মধ্যে জিতে আসেন নিশীথ ও জগন্নাথ।

দিনহাটা আসনে তৃণমূলের উদয়ন গুহকে মাত্র ৫৯ ভোটে হারিয়ে বিধানসভায় জয়ী হন নিশীথ প্রামাণিক। শান্তিপুর আসনে ১৫৮৭৮ ভোটে জয়ী হন জগন্নাথ সরকার। ইতিমধ্যেই বিজেপির ৭৭ জন বিধায়কের অধিকাংশ তাঁদের শপথ গ্রহণ করেছেন। নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকারকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে তাঁরা ইস্তফা দিলেন বিধায়ক পদ থেকে।সাংসদ পদেই থাকতে চেয়েছিলেন কোচবিহারের নিশীথ প্রামাণিক ও নদিয়ার জগন্নাথ সরকার।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা সাংসদ হিসাবেই পেতে চান নিশীথ ও জগন্নাথকে। এই অবস্থায় দিনহাটা ও শান্তিপুর দুই বিধানসভা আসনেই উপনির্বাচন হবে। যার জন্যে দুই রাজনৈতিক দলই এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শপথ নিলে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসের মধ্যে যে কোনও একটা পদ ছাড়তেই হত দুই সাংসদকে।উপনির্বাচনে বিজেপি-ই জয়ী হবে বলে আশাবাদী দুই সাংসদ। দু'জনেই জানিয়েছেন, তাঁরা মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছেন। মানুষ তাঁদের আশীর্বাদ করেছিলেন। আগামী দিনেও বিজেপি-র পক্ষেই মানুষ রায় দেবে বলে আশাবাদী দু' জনেই। প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলায় ৯ আসনের মধ্যে ৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি৷ নদিয়া জেলায় ১৭ আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির৷

প্রার্থীর মৃত্যুতে সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গীপুর কেন্দ্রে নির্বাচন বাকি৷ খড়দহ কেন্দ্রে তৃণমূল জিতলেও জয়ী প্রার্থী কাজল সিনহার মৃত্যুতে সেখানেও উপনির্বাচন হওয়ার কথা৷ নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার ইস্তফা দেওয়ায় দিনহাটা এবং শান্তিপুর কেন্দ্রেও ফের উপনির্বাচন হবে৷ পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অমিত মিত্রকেও দু'টি আসন থেকে জিতে আসতে হবে৷ তাঁরা কোন কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ সবমিলিয়ে আগামী কয়েকমাসের মধ্যে ফের রাজ্যের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে৷

Abir Ghosal

Published by:Debamoy Ghosh
First published: