চেহারায় ফুটে উঠছেন কবিগুরু, বিজেপি বলছে বাংলায় রবীন্দ্র আদর্শই পাথেয় মোদির

চেহারায় ফুটে উঠছেন কবিগুরু, বিজেপি বলছে বাংলায় রবীন্দ্র আদর্শই পাথেয় মোদির
প্রদানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন অবতার৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি : পহলে দর্শনধারী...৷ রাজনীতিতেও এই প্রবাদ এবার সত্যি হতে চলেছে৷ বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন৷ আর যিনি সেই পথ দেখাচ্ছেন, তাঁর নাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷

    বাংলায় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাঙালি মণীষীদের নাম শোনা প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপি নেতাদের মুখে৷ সবথেকে বেশি যাঁকে নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের শাসক দলের মধ্যে টানাটানি শুরু হয়েছে, তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, তাঁর জীবনের নানার কাহিনি৷ যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে৷ এরই মধ্যে গত কয়েক মাসে প্রধানমন্ত্রীর সাজগোজেও বাঙালি ছাপ দেখা গিয়েছে৷ বাঙালি আদলে পাঞ্জাবি, শাল যেন একটু ঘন ঘনই পরছেন প্রধানমন্ত্রী৷ একই সঙ্গে আরও একটি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চেহারায়৷ সম্প্রতি লম্বা দাড়ি রাখতে শুরু করেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ পাঞ্জাবি, শালের সঙ্গে লম্বা শ্বেতশুভ্র দাড়ি- নিন্দুকরা বলছেন ভোটের আগে সচেতন ভাবেই কবিগুরুকেই অনুকরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী৷

    প্রত্যাশিত ভাবেই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি বিজেপি নেতা বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আধিকারিকই৷ সচেতন ভাবেই প্রধানমন্ত্রী নিজের সাজ, চেহারাতেও রবীন্দ্রনাথকে ফুটিয়ে তুলতে চাইছেন কি না, এই বিতর্কিত বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরাও৷ কয়েকদিন আগে লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তোলা নরেন্দ্র মোদির একটি ছবি ভাইরাল হয়৷ সিঁড়িতে বসে ময়ূরদের খাওয়ানোর সময় তোলা প্রধানমন্ত্রীর সেই ছবির সঙ্গে অনেকেই শান্তিনিকেতনে নিজের বাসস্থানের সিঁড়িতে বসে তোলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির মিল খুঁজে পেয়েছেন৷


    তবে লম্বা দাড়ি বা চুল রাখার প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা কিন্তু বেশ কয়েকমাস পুরোন৷ লকডাউনের শুরুর সময় থেকেই দাড়ি রাখতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী, কাটেননি চুলও৷ প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন, হয়তো করোনা পরিস্থিতির জন্যই চুল- দাড়ি কাটা এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি৷ কিন্তু সময় গড়িয়েছে, কবিগুরুর চেহারার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির নতুন সাজের মিল প্রকট হয়েছে৷ তৃণমূল বার বারই মোদির এই রবীন্দ্র অনুরাগকে ভোটকেন্দ্রিক এবং সাময়িক বলে আক্রমণ করেছে৷ বিজেপি নেতাদের বহিরাগত বলেও আক্রমণ করা হয়েছে৷ যদিও বিজেপি নেতারা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলছেন, কবিগুরু আসলে সবার৷ বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের কথায়, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন সব বাঙালির, তেমনই তিনি সব ভারতীয়েরও৷ তাঁদের রাজনৈতিক আনুগত্য বা পছন্দ যাই হোক না কেন৷ কবিগুরু তো কোনও দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না৷'

    দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতা নিয়ে চর্চা করা কবি সুদীপ সেনের কথায়, 'বাংলার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজও প্রবল ভাবে প্রাসঙ্গিক৷ বয়স্ক এবং প্রবাসী বাঙালিদের ক্ষেত্রে তিনিই হলেন শিক্ষিত, সুদর্শন, ভদ্র, সাম্যবাদী এবং দূরদৃষ্টির অধিকারী একজন মানুষ৷ আর নবীন বাঙালি প্রজন্মের জন্য তিনি অতীত হয়ে গেলেও বাস্তবে বিরাজ করছেন৷ কবিগুরুর দৃষ্টিভঙ্গিকে অকৃত্রিম রেখেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে সহজ ভাষায় কী ভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেটাই আসল৷'

    কয়েকদিন আগে যখন বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী, তখনই তৃণমূলের তোলা বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টার কসুর রাখেননি তিনি৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে গুজরাতের কী যোগ, তাও বিশদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷ কবিগুরু যে দীর্ঘদিন গুজরাতে গিয়ে থেকেছেন, সেকথারও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷

    বিজেপি নেতা অমিত মালব্যও বলেন, 'ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আদর্শগত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন৷ আজ বাংলায় আরও একটি রেনেসাঁর প্রয়োজন৷ দুর্নীতি, তোষণ আর স্বজনপোষণ থেকে মুক্তি চাইছে বাংলা৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই হারানো গরিমা পুনরুদ্ধার করে সোনার বাংলা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বাংলার মানুষ৷'

    শুধুমাত্র কবিতা, গল্প বা গান নয়, আত্মনির্ভরতার মতো কবিগুরুর স্বাধীন ভাবনাচিন্তাগুলিকেও সরকারি নীতি এবং কাজে লাগাতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ উদাহরণ হিসেবে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের কথা বলা যায়৷ সূত্রের খবর, বাংলায় প্রচার পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে আরও বেশি করে চর্চায় নিয়ে আসবেন নরেন্দ্র মোদি৷ একই সঙ্গে সোনার বাংলার পক্ষে তাঁর সওয়ালও জোরাল করবেন৷ এর সঙ্গে নিজের চেহারা এবং সাজের মধ্যে কবিগুরুকে ফুটিয়ে তুলে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষকে বার্তা দিতে চান, তিনি তাঁদেরই একজন৷ কারণ কোনও বাঙালির পক্ষেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উপেক্ষা করা যে সম্ভব নয়৷ আর সেটা নরেন্দ্র মোদিও ভাল ভাবেই জানেন৷

    Pallavi Ghosh

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: