কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার, তারপরেও ফড়েদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ! নজরদারি শুরু প্রশাসনের

কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার, তারপরেও ফড়েদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ! নজরদারি শুরু প্রশাসনের
  • Share this:

#কলকাতা: কৃষকদের থেকে সহায়ক মূল্যে সরাসরি ধান কিনছে রাজ্য সরকার। তা সত্ত্বেও ফড়েদের দৌরাত্ম্য কীভাবে বাড়ছে? কৃষকরা বলছেন, সরকারি নিয়মেই কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে। সেই ফাঁক দিয়েই ঢুকে পড়ছে ফড়েরা। কীভাবে তা বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন।

কুইন্টাল প্রতি ধানের সহায়ক দাম বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কৃষক বাজার বা কিষাণ মাণ্ডিতে গিয়ে সরাসরি ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা।

কুইন্টাল প্রতি ধানের সহায়ক মূল্য ১৭৫০ টাকা।

তবু ফড়েদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফড়েদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বুধবারই কৃষকদের চেকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কৃষকরা বলছেন, সরকারি নিয়মে কিছু গলদ আছে। আর তারই সুবিধা নিচ্ছে ফড়েরা। যেমন--

সমস্যা ১- প্রতি কিষাণ মাণ্ডিতে একজন করে পারচেজ অফিসার থাকছেন। ফড়েরা কৃষক পরিচয় দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ধান বিক্রি করছে। কে ফড়ে, কে কৃষক তা ঝোঝার কোনও উপায়ই নেই। তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ফড়েরাজ ধরা পড়েছে আরামবাগ, পুড়শুড়া, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ইসলামপুর, মেমারি, বাঁকুড়া ও নদিয়ার একাধিক কিষাণ মাণ্ডিতে।

সমস্যা ২- জনধন অ্যাকাউন্টে সমস্যা

- জনধন অ্যাকাউন্টে সবচেয়ে বেশি ৫০ হাজার টাকা রাখা যায়

- তার বেিশ টাকা পড়লেই ফেরত চলে যাচ্ছে

- ফড়েরা কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে দিচ্ছে না

- টাকা দিয়ে জনধন অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিচ্ছে ফড়েরা

সমস্যা ৩- দিন অমিল

- একবার ধান বিক্রির পরে ডেট মিলছে ৩ মাস পরে

- ফড়েরা অনেকসময় পারচেজ অফিসারের সঙ্গে যোগসাজশে ডেট নিয়ে রাখছে

সমস্যা ৪ - কাঁটা খারাপ

- কিষাণ মাণ্ডিতে সঠিক ওজন পরিমাপক যন্ত্র থাকছে না

সমস্যা ৫- পুরনো ধান বিক্রিতে সমস্যা

- পুরনো ধান কিনছে না কিষাণ মাণ্ডিগুলি

- তাই ফড়েদের ধান বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা

সমস্যা ৬ - বস্তা ফেরত পেতে সমস্যা

- কৃষকদের বিক্রি করা ধানের বস্তা রাইস মিলে চলে যাচ্ছে

- রাইস মিল থেকে বস্তা ফেরত আসছে না

- ফেরত এলেও বস্তা ব্যবহারযোগ্য হচ্ছে না

সমস্যা ৭- রাইস মিলগুলির সমস্যা

- কৃষক ১০০ কিলো ধান রাইসমিলে দিলে, রাইসমিলগুলি সরকারকে ৬৮ কিলো চাল দেবে

- অনেক ক্ষেত্রেই রাইসমিলগুলি দিচ্ছে ৬৪ কিলো চাল

- ৩৮ দিনের মধ্যে সরকারকে চাল ফেরত দেওয়ার কথা

- ৩ মাস পেরোলেও অনেক সময়ই চাল ফেরত দিচ্ছে না রাইসমিলগুলি

সমস্যার কথা জানে খাদ্য দফতরও। তাই বিভিন্ন জেলায় নজরদারিতে আধিকারিকদের পাঠানো হচ্ছে।

এদিন বর্ধমান এক, ভাতার-সহ একাধিক কৃষক বাজার ও রাইস মিলে যান পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব। বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 আরও পড়ুন-

First published: 03:40:56 PM Dec 21, 2018
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर