হাসপাতালে দালালচক্র চালাচ্ছে সেখানকারই কিছু কর্মী ! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

 হাসপাতালে দালালচক্র চালাচ্ছে সেখানকারই কিছু কর্মী ! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জোবেদারা হাসপাতালের বাইরে রোগী ধরে এবং যোগাযোগ করিয়ে টাকা নেয়।যোগাযোগ করিয়ে দেয় ,হাসপাতালের ভেতরে ওয়ার্ড মাস্টার, বা সিনিয়রদের সঙ্গে !

  • Share this:

 #কলকাতা: হাসপাতালে দালাল চক্রের খোঁজে নেমে প্রথমে পাওয়া গিয়েছিল নাগরী মাসি বা ব্যান্ডেল মাসির খোঁজ।এই ব্যান্ডেল মাসি ২২থেকে ২৩ বছর ধরে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো থেকে আরম্ভ করে সবকিছুই টাকার বিনিময় করে আসছেন।এসব জানাজানির হওয়ার পরও প্রশাসনিকভাবে কোন কিছুই পদক্ষেপ নেয়নি কলকাতা পুলিশ প্রশাসন।  চৌঠা মার্চ সকালবেলা নাগরীকে ফোন করলে তিনি জানান হাসপাতাল চত্বরে মোট, মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ৬থেকে ৭জনের দালাল চক্র কাজ করে। তার মধ্যে অন্যতম দালাল, যার নাম খুকুমণি। ওই হাসপাতালে পাঁচ নম্বর গেটের বাইরে ,তার একটি ছোট্ট খাবারের হোটেল রয়েছে।

খবর পেয়ে খুকুমণি অর্থাৎ জোবেদা বেগমের হোটেলে গিয়ে উপস্থিত হতে হল। জোবেদা রোগী ভর্তি করানো কিংবা দালালের কথা বলতেই তিনি তো একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। একেবারে ভগবানের দিব্যি খেয়ে বলতে চাইলেন, তিনি এইসব কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। আগে মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগে আয়ার কাজ করতেন। এখন ছেড়ে দিয়েছেন। এত কথা শোনার পরও, বিশ্বাস না করে কি আর পারা যায়!  খুকুমণির হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় দেখা গেল ,ডান দিকে এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা, হাতে কিছু হাসপাতালে কাগজপত্র নিয়ে বসে রয়েছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতেই পুরোটাই পরিষ্কার হয়ে গেল । এই খুকুমণি তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে দেওয়া কিংবা ভর্তি করিয়ে দেওয়ার।  যেহেতু খুকুমণি সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। সেহেতু ওই বৃদ্ধা সীমা সাহানা,  টাকা লেনদেনের কথা  বলতে চাইলেন না।

জোবেদা বেগম জোবেদা বেগম

তবে প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে দালালচক্র নিয়ে বহু খবর হলেও ,কেন এখনো বন্ধ হয়নি এই চক্র? একটি কারণ শহর থেকে অনেক দূর দূরান্তের লোক এসে পৌঁছান, কলকাতার বড় হাসপাতালগুলোতে। সেখানে এসে দীর্ঘ লাইন দেওয়া ।তারপর সময় পেরিয়ে গিয়ে, ডাক্তার না দেখাতে পেরে হয়রানি হওযা। সেগুলো থেকে বাঁচতে, এই দালালদের খপ্পরে পড়ে, রোগীর বাড়ির লোকেরা কিংবা রোগীরা।  জোবেদা কিংবা নাগরী, এরা যে পুরো দোষী এটা বলা যায়না। কারণ এরাও খুব প্রান্তিক পরিবার থেকে এসেছে। আবার হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় থেকে আরম্ভ করে যারা, ডি গ্রুপের কর্মী রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ঠিকাদার সংস্থার হয়ে কাজ করে।তারা মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে।    এদের সারাদিনের ১০ থেকে ১২ ঘন্টা সময় এই চাকরির পেছনে চলে যায়।ওদের সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই যদি কিছুটা উপকার পাওয়া যায় সহজে উপরই রোজগারে,সেই জন্য তারাও চেষ্টা চালায়। কথাটি বলছিলেন হাসপাতালের এক কর্মী।  সূত্রের খবর, এই পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা, হাসপাতালের প্রশাসনিক লোকেরা সবাই জানেন। যার পেছনে প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে ডাক্তারবাবুদের। এই সুযোগে নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক, রীতিমত হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিটের লাইন জ্যাম করা হয়। যাতে সহজে সবাই টিকিট না পায় এবং ডাক্তার দেখানোটা সহজ না হয় রোগীদের পক্ষে। এই ভাবেই অসাধু চক্রের ব্যবসা চলছে সরকারি মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলোতে।  আমরা যাওয়ার পর জবেদা কোনভাবে কিছুক্ষণ ওখানে থাকে। তারপর পরিস্থিতি আঁচ উপলব্ধি করতে পেরে, দোকানপাট গুছিয়ে পালিয়ে যায়।  জোবেদা ওই দোকানের ভাড়া প্রতিদিন ২০০ টাকা ও যে ছেলেটি কে রেখেছে, সেই স্বপন হালদার ।তার মজুরি প্রতিদিন ৩০০ টাকা, সঙ্গে আনুষঙ্গিক। তাহলে ধরেই নেওয়া যাক , জোবেদার প্রতিদিন বারোশো থেকে দেড় হাজার টাকার প্রয়োজন।   ওই ছোট্ট হোটেলের মত দোকানটি থেকে প্রতিদিন ওই টাকা আসা সম্ভব নয়। যার জন্য এটা পরিস্কার জোবেদা  হাসপাতালে দালাল চক্রের সঙ্গে মিলে কাজ করে। আর দোকানটা , রোগীর বাড়ির পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি জায়গা করে রেখেছে।  যার ফলে সিঙ্গুর থেকে আসা অসুস্থ, সীমা সাহানা ও মদন সাহানার সঙ্গে আমাদের দেখা হল।  অনেকেই মনে করছেন, এই চক্র ধ্বংস করতে গেলে প্রশাসনকে শুধু এই দালালকে ধরা কিংবা জেলে পাঠালে সমাধান হবে না। তদন্ত হাসপাতালের ভেতরেও করতে হবে।   তবে রাজনৈতিক মদতে চলে, এগুলোর বেশির ভাগ কান্ড।যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে,তাদের লোকজনই এই সব চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।অভিযোগ রোগীর বাড়ির আত্মীয়দের।

SHANKU SANTRA
First published: March 4, 2020, 11:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर