Narada Scam Update: বহু চেষ্টাতেও 'ব্যর্থ' তুষার, নারদে ফিরহাদদের 'স্বস্তি' ছিনিয়ে আনলেন সিংভি-কল্যাণরা!

হাইকোর্টে জোর সওয়াল

Narada Scam Case-এ শর্তসাপেক্ষে অন্তবর্তী জামিন পেলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee) এবং তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)।

  • Share this:

    কলকাতা: Narada Scam Case-এ অনেক টালবাহানার পর অন্তবর্তী জামিন পেলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। দু'লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার (Tushar Mehta) আবেদন মেনে ওই চার অভিযুক্ত সমস্ত কাজকর্ম করতে পারলেও, এমনকী গৃহবন্দি দশা কেটে গেলেও এখন থেকে তাঁরা ওই মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে বা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে পারবেন না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।

    তবে, বরাবরের মতো এদিনের শুনানিতেও বাকযুদ্ধ চলে দু'পক্ষের। কী চলছে হাইকোর্টে, কে কী যুক্তি সাজাচ্ছেন? দেখে নিন...

    সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা: আমি নিবেদন করছি চার অভিযুক্তকে জামিন দেবেন না। ওই ৪ নেতা-মন্ত্রী প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিন হলে মানুষের ভাবাবেগকে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে যাবেন। আর জামিন হলে মূল বিষয়টিও ঠান্ডা ঘরে চলে যাবে।

    এরপর হালকা চালে মেহেতা ফের বলেন: গুজরাটিতে একটা কথা আছে, আপনি তলোয়ার দিয়ে নখ কাটতে পারেন না। এখানে তো পাঁচটা তলোয়ার আছে। (পাঁচ বিচারপতির উদ্দেশে)

    বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়: ২০১৭ সাল থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এতদিন যখন গ্রেফতার করা হয়নি। আগেও তো প্রভাবশালী ছিলেন। তখন তাঁদের গ্রেফতার করেননি কেন? এখন গৃহবন্দি করে রাখার মানে হয় না। বিপর্যয়ের সময় মানুষ জন্য তাঁদের কাজ করা দরকার।

    তুষার মেহেতা: আমি অন্তবর্তী জামিনের বিরোধিতা করছি। তবু যদি দিতেই হয় অন্তবর্তী জামিন, আমার দুটি অনুরোধ আছে। চূড়ান্ত রায়ের সঙ্গে অন্তবর্তী জামিনকে জুড়ে দেওয়া হোক। আমি যদি জয়ী হই, তাহলে অন্তবর্তী জামিন বাতিল হবে। অপরটি হল, অভিযুক্তরা এই মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে পারবেন না। আদালতে হাজির দিতে আসতে হলে ওই চার অভিযুক্ত সঙ্গে অনুগামীদের আনতে পারবেন না।

    অভিষেক মনু সিংভি: প্রেসের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা না বলার ক্ষেত্রে যে আবেদন করেছেন সলিসিটর জেনারেল, তা নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো তাঁদের ঘিরে ছিল না। তাই এ বিষয়ে নির্দেশ মেনে নেওয়া যায় না।

    তুষার মেহেতা: কেউ বলতে পারবেন না এই বেঞ্চ কারও কথা শোনেনি। সম্ভবত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শুনেছে এই বেঞ্চ।

    প্রধান বিচারপতি: শর্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া যেতে পারে। মামলা কিন্তু ঠাণ্ডা ঘরে যাবে না। চূড়ান্ত রায়ের পরও জামিন খারিজ করা যেতে পারে।

    এরপরই জামিনের শর্ত ঠিক করতে পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নেন বিচারপতিরা। পরে অন্তবর্তী জামিনের নির্দেশ দিয়ে দুটি শর্ত দেয় বৃহত্তর বেঞ্চ। ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন। নারদ মামলার বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না ৪ নেতা-মন্ত্রী। মামলার তথ্য প্রমাণ বিকৃত করা যাবে না।

    Published by:Suman Biswas
    First published: