নৈহাটিতে বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর শব্দ, ভয়ে খাটের তোলা থেকে বেড়চ্ছে না ম্যাক্স ও ববি

নৈহাটিতে বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর শব্দ, ভয়ে খাটের তোলা থেকে বেড়চ্ছে না ম্যাক্স ও ববি

ঘটনার ২ দিন পরেও তারা ঘরে মুখ লুকিয়ে বসে আছে। কোনও আওয়াজ পেলেই ভয় পাচ্ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: কারও বাড়ির দেওয়ালে চওড়া ফাটল। কারও বাড়ির জানালার কাঁচ নেই। কারও আবার জানালার ফ্রেম খুলে হাতে চলে এসেছে। নিজেদের সাধের সাজানো ঘরের এই দশা দেখে কারই বা মন ভাল থাকতে পারে? তা সত্ত্বেও সবাই একবার করে এসে ঘুরে যাচ্ছেন ম্যাক্স ও ববি’র কাছে। কারণ আওয়াজের জেরে ঘর ছেড়ে পাড়ায় একবারও ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়নি তাদের। সকালে গঙ্গার পাড়ে বসে হাওয়া খেতে বেরোয় দু’জনে। সেখানেও বেড়াতে যায়নি তারা। বকুলবাগানের বাসিন্দাদের তাই মন খারাপ। কিন্তু ম্যাক্স ও ববি এদের দুজন কারা? কেন এদের নিয়ে এত চিন্তা সবার?

দু’জনেই হল ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর। বকুলতলার কোলে বাড়িতে তারা থাকে। আর এই দুই পোষ্য শুধু এই বাড়ির নয়। গোটা পাড়ার প্রিয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ যখন নৈহাটিতে বাজি বিস্ফোরণ করানো হয় তার তীব্রতায় কেঁপে ওঠে গঙ্গার এপারের চুঁচুড়া। তখন অবশ্য বাড়িতে ছিলেন না বিক্রম কোলে ও তাঁর স্ত্রী গীতা কোলে। তারা এক আত্নীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। প্রতিবেশীদের থেকে ফোন মারফত খবর পান এই দুর্ঘটনার। তড়িঘড়ি তারা ফিরে আসেন বাড়িতে। ততক্ষণে অবশ্য পাড়ার লোকেরা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় এসে অপেক্ষা করছিলেন ভয়ের চোটে। তারা দুই সারমেয়কে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা শুধু ভিতর থেকে চিৎকার করে যায়। ঘন্টা খানেকের মধ্যে বাড়ি ফেরত আসেন বিক্রম বাবুরা। তাঁর স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গেই দুই পোষ্যকে বাইরে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। যদিও বের করা তো সম্ভব হয়নি। তারা একটা ঘরে ভয়ে খাটের তলায় লুকিয়ে রয়েছে। এমনকি খাবার পর্যন্ত মুখে তোলেনি ববি ও ম্যাক্স।

3161_IMG-20200109-WA0000

গীতাদেবী বলেন, “ওরা ভীষণ ভয় পেয়েছে। নাহলে একদিন পরেও এত চেনা লোককে পেয়েও ওরা কেউ বেরিয়ে আসে নি। কাউকে আদর করল নি।” পাড়ার দুই প্রিয় পোষ্যদের এই হাল মেনে নিতে পার ন না কেউই। বিক্রমের তিন তলা বাড়ির সমস্ত জানলা ও আয়নার কাঁচ ভেঙে গেছে। জানালার ফ্রেম ভেঙে বেরিয়ে গেছে। গোটা ঘর দেখে মনে হচ্ছে যেন কেউ এসে ভাঙচুর চালিয়ে গেছে। তাদের বাড়ির সামনেই গঙ্গার ঘাট। সেই ঘাটের বিপরীত দিকেই নৈহাটির সেই বিস্ফোরণ স্খল। ফলে বিস্ফোরণের ছাপ পড়েছে এই বাড়ির ভিতরে বেশি। তারই মধ্যে তাদের প্রিয় দুই পোষ্যদের এই চেহারা দেখে চোখে জল বিক্রমেরও। তিনি বলেন, “কালী পুজোর সময় ওদের সাবধানে রাখা হয়। যাতে বাজির আওয়াজ কানে না পৌছয়। আর এতো একেবারে ভয়ঙ্কর এক অবস্থা।” পশু চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, এমনটাই হয় শব্দের থেকে। দুই পোষ্য এতটাই শক পেয়েছে যে তারা তাদের জন্য ওই খাটের তলাটাই নিরাপদ আশ্রয় মনে করছে।"

একই দশা অবশ্য গোটা এলাকারও। পাড়ার নেডিদেরও দেখা গেল না শুক্রবার সকাল থেকে।

First published: 02:39:42 PM Jan 11, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर