মতুয়া মন বড় বালাই, অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে শান্তনু ঠাকুরকেও?

মতুয়া মন বড় বালাই, অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে শান্তনু ঠাকুরকেও?

বিধানসভায় লড়তে চলেছেন শান্তনু ঠাকুরও।

তিনিও হবেন স্বপন দাশগুপ্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিওদের পথের পথিক, অর্থাৎ সাংসদ যাকে দিল্লি নয় রাজ্য বিধানসভার কোনও একটি আসনের জন্য নতুন অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হবে।

  • Share this:

    #কলকাতা: মতুয়া ভোট বড় বালাই। এই গোষ্ঠীর মন পেতে একাধিকবার ঠাকুরনগর ঘুরে গিয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। কিন্তু প্রার্থী হবেন কে, কাকে টিকিট দিলে ভোটবাক্স সুরক্ষিত থাকবে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেগ পেতে হয়েছে বিজেপিকে। এই অবস্থাতেই দল মনে করছে আরও এক সাংসদকে নামিয়ে আনা জরুরি। মতুয়া মন পেতে তাই হয়তো হাবড়ায় লড়বেন শান্তনু ঠাকুর। সেক্ষেত্রে তিনিও হবেন স্বপন দাশগুপ্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিওদের পথের পথিক, অর্থাৎ সাংসদ যাকে দিল্লি নয় রাজ্য বিধানসভার কোনও একটি আসনের জন্য নতুন অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হবে।

    মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে গড়িমসিতে দিন কয়েক আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর মন গলাতে বিজেপি নেতারা বারংবার শান্তনু ঠাকুরের সকাশে গিয়েছেন। মতুয়া সমাজের মুখ শান্তনু যে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতেই, সেটা লুকোতে পারেননি। শেষ কয়েক মাসে সাংগঠনিক ভাবে শান্তনুর ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে এলাকায়। এই আবহেই শোনা যায়, শান্তনুকে মন্ত্রীত্ব দিতে পারে বিজেপি। কিন্তু এই টালবাহানার মধ্যেই এসে পড়ে ভোট। সেক্ষেত্রে কি শান্তনুকে রাজ্যের মন্ত্রীই করতে চাইছে বিজেপি ? শান্তনু নিজে এই সিদ্ধান্তে কতটা সন্তুষ্ট হবেন, এই নিয়েও কিছু জানা যায়নি।  আরও একটি প্রশ্ন থাকছে, গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর বা বনগাঁয় মতুয়া ভোটই  নির্ণায়ক ফ্যাক্টর। হাবড়ায় মতুয়া ভোট থাকলেও তাই শুধু নির্ণায়ক নয়।

    এই অবস্থায় মূল প্রশ্নটা হল কেন হাবড়ায় শান্তনু ঠাকুরকে ভাবছে বিজেপি? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত বিধানসভা ভোটে এই আসনে ধরাশায়ী হয়েছিল বিজেপি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১ লক্ষ ১ হাজার ২৪৬ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ দাস সেখানে পান মাত্র ২২ হাজার ৯৪৯ টি ভোট। এই ধরাশায়ী ছবিটাও বদলাতে শুরু করে শান্তনু বিজেপির মুখ হয়ে ওঠার পর থেকেই। লোকসভা ভোটে এই হাবড়া বিধানসভাতেই পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। কাজেই মতুয়া মন পেতে ঠাকুরনগরের অদূরে হাবড়া কেন্দ্রটিতে তাঁকেই ভাবছে বিজেপি।

    তৃণমূল অবশ্য বলছে, লোকসভায় মোদি হাওয়া কাজ করেছিল। যা এবার কাজ করবে না। তাছাড়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। পাশাপাশি এই এলাকায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও রয়েছে। সেক্ষেত্রে শান্তনুকে কি এবার রাজ্য বিজেপির মুখরক্ষা করতে পারবেন? উত্তর আসবে ২ মে।

    Published by:Arka Deb
    First published: