corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে মা, খিদের জ্বালায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এখন কলা বিক্রেতা

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে মা, খিদের জ্বালায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এখন কলা বিক্রেতা

ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়ে অফিসার হতে চায় তন্ময়

  • Share this:

#কলকাতা: রাজ্য জুড়ে চলছে লকডাউন। তার জেরে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। কিন্তু এবার নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শেষমেষ দিতে পরীক্ষা পারবে নাকি তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণটা অবশ্য লকডাউনের জেরে সংসার চালানো। নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র তন্ময় দাস গত এক সপ্তাহ ধরেই হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফল বিক্রি করছেন। তার বাবা নেই। মা হোস্টেলগুলোতে রান্নার কাজ করেন। কিন্তু এখন হোস্টেলে কোন আবাসিক না থাকায় রোজগার বন্ধ রয়েছে মা লিপি দাস এর। তাই শেষমেষ পরীক্ষাকে বাদ রেখে এখন কলা বিক্রি করেই জীবনে বাঁচার রসদটুকু খোঁজার চেষ্টা করছে এই তন্ময়। একটি অস্থায়ী ছাউনি দিয়ে বাজার থেকে কলা কিনে বিক্রি করছে এই তন্ময়।

মাধ্যমিকে ইংরেজিতে ১০০তে পেয়েছে ৮২ নম্বর। মাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি নম্বর পেয়েছে তন্ময়। সায়েন্স নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও কলা বিভাগ টাই বেশি পছন্দের জায়গা করে নিয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র তন্ময় দাস-এর কাছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের জেরে এখনও পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি রয়েছে। জুন মাসে সেই পরীক্ষাগুলি নেওয়ার কথা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের ছাত্র আদেও বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারবে নাকি সেটাই এখন সংশয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদয়পুরের বাসিন্দা তন্ময় দাসের কাছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তন্ময় জানাচ্ছে, " আমি নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশোনা করি। আমার মা-র কাজ চলে গেছে। তাই আমি কলা বিক্রি করছি।" পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও আগামী দিনে সংসার চালানোই তার কাছে এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই বলছে তন্ময়। সোমবার তন্ময় জানাচ্ছে, "আমি ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়তে চাই। অফিসার হতে চাই। কিন্তু এখন টাকা রোজগার টাই আমার কাছে সবথেকে আসল। মনোকামনা গুলি আপাতত আমার মনের মধ্যেই রেখেছি।"

ছেলের এই অবস্থা দেখে চিন্তিত তার মা লিপি দাস। কাঁদতে কাঁদতে লিপি দাস বলেন, "আমি হোস্টেলগুলোতে রান্না করি। কিন্তু এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছেলে বাধ্য হয়েই কলা বিক্রি করছে। ও খুব ভাল পড়াশোনাতে। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছে।"

কথা বলতে বলতে জানা গেল এক ব্যবসায়ী থেকে ধারে কলা কিনে হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তন্ময় বিক্রি করছে। বিক্রি হওয়ার পরেই টাকা ব্যবসায়ীকে দিচ্ছে। দিনে বেশি হলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা রোজগার হচ্ছে তন্ময়ের। তন্ময়ের এই পরিস্থিতিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না পাড়া প্রতিবেশীরাও। তন্ময় যাতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাটা দিতে পারে তার জন্য কিছু আর্থিক সুবিধা করা যায় নাকি সেই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদনও করছে। যদিও শেষ পর্যন্ত নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের এই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়া হবে নাকি সেটাই এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 11, 2020, 7:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर