সন্তান জন্মের পর সুস্থ, রাতেই আচমকা মৃত্যু! হাসপাতালে তুলকালাম মৃতার পরিবারের

সন্তান জন্মের পর সুস্থ, রাতেই আচমকা মৃত্যু! হাসপাতালে তুলকালাম মৃতার পরিবারের

আলিপুর থানায় মৃতার পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দুই পক্ষই পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

  • Share this:

ABHIJIT CHANDA

#কলকাতা: হাওড়া তাঁতি পাড়ার বাসিন্দা পিঙ্কি ভট্টাচার্য। বয়স ৩০ বছর। প্রসব বেদনা নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোমিনপুরের সিএমআরআই হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার সকালে সিজার করে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল বলে জানানো হয়েছিল হাসপাতালের তরফে। এমনকি বিকালে ভিজিটিং টাইমে পিঙ্কি দেবীর সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন পরিবারের লোকজন।

পরিবারের অভিযোগ, বুধবার সিজার করে সন্তান প্রসবের পর মা ও সদ্যোজাত দু’জনেই সুস্থ আছে বলে দাবি করেছিল মোমিনপুরের সিএমআরআই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ভোরে হাসপাতাল থেকে বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। এরপর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে দেখেন মৃত্যু হয়েছে পিঙ্কির। এরপরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন মৃতার পরিবার। আলিপুর থানায় অভিযোগ জানানো  হয়েছে পরিবারের তরফ থেকে।

এদিন সকাল থেকেই সিএমআরআই হাসপাতালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।মৃতার পরিবার, পরিজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, আইসিইউ-তে এসে তাঁরা দেখেন কোনও চিকিৎসক ছিল না সেখানে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তার কোনও সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি হাসপাতাল।

মৃতার স্বামী তপেন ভট্টাচার্য ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, সম্পূর্ণ গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীর। হাসপাতালের ভিতরে দফায় দফায় হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গেও বচসা, কথা কাটাকাটি হয় মৃতার পরিজনদের । এমনকি কর্তব্যরত চিকিৎসক বাসব মুখোপাধ্যায়কে সপাটে চড় মারে মৃতার পরিবারের লোকদের। এমনকি, মৃতার স্বামী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন যে, মারা যাওয়ার পর আইসিইউ-এর কর্তব্যরত দুই নার্স তাঁদের কাছে টাকা চায়। কিভাবে এই রকম অমানবিক ঘটনা ঘটতে পারলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৃতার পরিবার। হাসপাতালে উত্তেজনা সামাল দেওয়ার জন্য আলিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। মৃতার পরিবারকে যথাসাধ্য বোঝানোর চেষ্টা করে পুলিশ। যদিও মৃতার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতি আড়াল করতেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে এসেছে পুলিশ। এমনকি তাঁদের এফআইআর বা অভিযোগ নিতেও গড়িমসি করে পুলিশ। তবে স্বভাবতই এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পিঙ্কি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। প্রসবের পর তিনি সুস্থই ছিলেন ৷ আচমকা রাতে অবস্তার অবনতি হতে থাকে ৷ যাবতীয় ব্যবস্থা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি ৷ হাসপাতালের তরফে মৃতার ময়নাতদন্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁর পরিবারকে ৷ আলিপুর থানায় মৃতার পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দুই পক্ষই পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

First published: February 20, 2020, 12:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर