রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষাধিক আধাসেনা? জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষাধিক আধাসেনা? জল্পনা তুঙ্গে
শুক্রবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্লোজড কোঅর্ডিনেশন থাকবে।

শুক্রবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্লোজড কোঅর্ডিনেশন থাকবে।

  • Share this:

#কলকাতা: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হতে চলেছে? অন্তত তেমনটাই জোরালো সম্ভাবনা বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। গত শনিবার কলকাতা থেকে ফিরে গিয়ে দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চ একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে।যে বৈঠকে উপস্থিত ছিল এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও। সেই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। শেষ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ৭৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া, রাজ্যে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা সব মিলিয়ে এই কারণের জন্যই এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন করা হতে পারে বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

এক্ষেত্রে গত শুক্রবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী কতটা পাওয়া যাবে তার ওপর নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। সূত্রের খবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাহিনী পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের এই বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা জোরকদমে চলছে।

রাজ্যে ইতিমধ্যেই মূল বুথের সংখ্যা ৭৮৯০৩টি। কিন্তু কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে অনেক বেশি ভোটারের সংখ্যা হবার কারণে একই জায়গায় তৈরি করা হবে অক্সিলারি বুথ। যার ফলে একদিকে ভোটারের সংখ্যা কমবে অন্যদিকে কোভিড প্রটোকল মেনে তাড়াতাড়ি কাজ করা যাবে। আর তাই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বুথের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১৭৯০টি। আর তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়বে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই অন্তত কমিশন তেমনটাই মনে করছে। গত শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা জানিয়েছিলেন " কেন্দ্রীয় বাহিনী কতটা মোতায়েন করা হবে তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত।" যদিও ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে কোন রাজ্য পুলিশ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোতায়ন করা থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি সমন্বয়ে তৈরি করে কাজ করবে।


গত শুক্রবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্লোজড কোঅর্ডিনেশন থাকবে। যা নিয়ে রীতিমতো জল্পনা শুরু হয় তাহলে কি এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না?

প্রসঙ্গত এ রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেনট আসার আগেই রাজ্যের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার রাজ্যে এসে বিভিন্ন স্তরে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করে বার্তা দিয়েছিলেন এবার কেবলমাত্র বিহারের নির্বাচনকেই তারা রোল মডেল করবেন না। এবারের বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হবে। যদিও গত শুক্রবার ই কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা জানিয়েছিলেন রাজ্যের আইন শৃংখলার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে কমিশনের। মূলত এবারের ভোটকে শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত করা এই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। যদিও নির্বাচনের আগেই রাজ্যে আধা সেনা মোতায়েন করা হবে নাকি সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর