সকাল থেকে দুপুর, মহা ব্রিগেড সফল করে হিরো হলেন ওঁরা

সকাল থেকে দুপুর, মহা ব্রিগেড সফল করে হিরো হলেন ওঁরা

রবিবারের আপাত শান্ত বাইপাস থেকে মাঝে মাঝেই ভেসে আসছিল 'জয় শ্রীরাম', 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি। আর ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছিল ব্রিগেডের দিকে।

রবিবারের আপাত শান্ত বাইপাস থেকে মাঝে মাঝেই ভেসে আসছিল 'জয় শ্রীরাম', 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি। আর ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছিল ব্রিগেডের দিকে।

  • Share this:

    #কলকাতা: সকাল তখন দশটা। রবিবারের আপাত শান্ত বাইপাস থেকে মাঝে মাঝেই ভেসে আসছিল 'জয় শ্রীরাম', 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি। আর ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছিল ব্রিগেডের দিকে। ছোট হাতি, ম্যাটাডোর, টাটা সুমো, মায় বাসও। ঠিক তখনই গেরুয়া পতাকা উড়ছিল ব্রিগেড আকাশে। যার ঘন্টাখানেক পরেই দিল্লি থেকে দমদম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বিমানে রওনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    এদিকে তখন ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজে মঞ্চে এসে গিয়েছেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি নেতারা উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নিয়েছেন 'বাঙালিবাবু'কে। আর ব্রিগেড? কাতারে কাতারে মানুষ। মঞ্চের কাছাকাছি আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আপ্রাণ। এতটুকু জমি দেখা যাচ্ছে না সেখানে। কারও মাথায় গেরুয়া টুপি, কারও হাতে পতাকা, কারও জাফরানি দোপাট্টা উড়ছে বসন্ত বাতাসে।

    মঞ্চ থেকে নিজস্ব ঢঙে মিঠুন বললেন "আমি জলঢোড়া, নই, আমি জাত গোখড়ো"। কলকাতার তাপমাত্রা তখন সেলসিয়াসে ৩৬ ডিগ্রি। ব্রিগেডের? নিঃসন্দেহে আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি। 'মোদিজি জিন্দাবাদ' ভুলে ব্রিগেডের ভিড়ের মুখে তখন 'মিঠুন চক্রবর্তী জিন্দাবাদ'।

    "এতো বড় ব্রিগেড আমি দেখিনি" বললেন প্রধানমন্ত্রী। সত্যিই যেন রবিবার দুপুরে আরও ব্যাপক আকার নিয়েছিল ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে এদিন মোদি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের আশা কখনও ছাড়েননি। দিদি ও তাঁর সঙ্গীরা বিশ্বাস ভেঙেছেন। বাংলার মানুষকে অপমানিত করেছেন, মা বোনেদের অত্যাচার করেছেন। কিন্তু আশা ভরসা ভাঙতে পারেননি। আজ যে এত মানুষ এসেছেন, তাঁরা সেই বিশ্বাস থেকেই এসেছে যে বাংলায় পরিবর্তন আসবে।" মোদির সঙ্গে স্লোগানে কেঁপে কেঁপে উঠছিলো কল্লোলিনীর বাতাস।

    মোদি বললেন, "দিদি, শুনছেন তো?"

    দিদি শুনলেন কিনা জানা নেই। এই হুঙ্কারের প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে কিনা তাও জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২রা মে পর্যন্ত। তবে আসানসোল, ডোমজুর, খড়গপুর থেকে ট্রাকে, বাসে, ম্যাটাডোরে চড়ে কলকাতায় আসা মানুষগুলো, ভিড় ঠেলে দেড়ঘন্টা হেঁটে ঘরে ফিরে যাওয়ার গাড়ি খোঁজা মানুষগুলোই যে এই মহাব্রিগেডের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি সেকথা বেশ স্পষ্ট।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published:

    লেটেস্ট খবর