corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে প্রতিদিন রাত জাগছেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী, করছেন মুশকিল আসান

লকডাউনে প্রতিদিন রাত জাগছেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী, করছেন মুশকিল আসান

লকডাউন না হলে উত্তর কলকাতার বর্ধন পরিবারের জানাই হত না সীমানার এপার-ওপারের মধ্যে তফাত কী। লকডাউন না হলে কলকাতার রূপশ্রী বর্ধন জানতেই পারতেন না রাত গভীর রাতেও রাজ্যের মন্ত্রীরা ফোনে সচল থাকেন।

  • Share this:

#কলকাতাঃ হ্যালো, সুজিত বসু বলছি...।

ফোনের অন্যপারে আসানসোলের উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা। এক সমস্যার সমাধানে রাত এক'টায় মন্ত্রীর ফোনে কিছুটা থতমত খেয়ে যান ওই আইপিএস। এত রাতে মন্ত্রী জেগে!  ফোনের এপার থেকে মন্ত্রীর প্রশ্ন, নথিপত্র সঠিক থাকলে পুলিশ কারও রাজ্যে প্রবেশে বাধা দিতে পারে? প্রশ্ন শুনেই ওই আধিকারিক আসানসোল বর্ডারে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন। আর তাতেই হয় মুস্কিল আসান।

লকডাউন না হলে উত্তর কলকাতার বর্ধন পরিবারের জানাই হত না সীমানার এপার-ওপারের মধ্যে তফাত কী। লকডাউন না হলে কলকাতার রূপশ্রী বর্ধন জানতেই পারতেন না রাত গভীর রাতেও রাজ্যের মন্ত্রীরা ফোনে সচল থাকেন। উত্তর কলকাতার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বর্ধন পরিবার। বিহারের জমুই জেলার শিমুলতলায় তাঁদের একটি বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়ির কিছু কাজ দেখভালের জন্য ১৭ মার্চ সেখানে যান তাঁরা। কাজ শেষ করে ২৫ মার্চের আগেই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কারণ ২৫ মার্চ ছিল রুপশ্রীর জন্মদিন। কলকাতায় ফিরে হবে সেলিব্রেশন।

কিন্তু করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন শুরু ওইদিন থেকেই। তাই আর ফেরা হয়নি। ১ মাস কেটে যাওয়ার পর রসদের জোগান শূন্য হয়ে পড়ে। বিহার সরকার রেশন সামগ্রী পৌঁছে দিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না।  লকডাউনে কলকাতায় বসে  পরিজনেরা চিন্তায় পড়েন। অনেক কসরতের পর বিহারের জমুই প্রশাসন সবুজ সঙ্কেত দেয় রুপশ্রীদের কলকাতায় ফেরার। জমুই জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ৩ মে বিকেলে বাবা, মাকে নিয়ে ২টি গাড়িতে রওনা দেন রূপশ্রী। রাত সাড়ে বারো'টা নাগাদ এসে পৌঁছন আসানসোল বর্ডারে। সেখানেই শুরু সমস্যার। পুলিশ কোনও কথা না শুনেই বিহার ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন বর্ধন পরিবারকে। মাঝরাস্তায়  পরিবার নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়তেই থাকে।  রাত ১'টায় সটান ফোন মন্ত্রী সুজিত বসুকে।

রূপশ্রী বর্ধনের কথায়, "রাত এক'টায় মন্ত্রী ফোন ধরবেন, সাহায্য করবেন বিশ্বাস করতে পারিনি। ৫ মিনিট আমাদের সমস্যা মন দিয়ে শোনার পর উনি আামাদের মুস্কিল আসান করেন। উনি আামাদের কাছে ভগবান।" মন্ত্রীর ফোনের পর নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই পুলিশ বুঝতে পারে প্রকৃত ঘটনা। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রাত ৩টে নাগাদ আসানসোল থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন রূপশ্রীরা। রাত দু'টো তে ফোন করে একবার খোঁজও নেন মন্ত্রী,  জানিয়েছেন রূপশ্রী। এদিকে সুজিত বসু বলেন, "মানুষ বিপদে পড়েই ফোন করে। সেগুলো ধরি সমস্যা খতিয়ে দেখে সমাধানের চেষ্টা করি। লকডাউনে প্রতিদিনই অনেক ফোন আসছে রাতে। রাতজাগা আমার অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। এই অসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কাজ।"

সব বাধা পেরিয়ে উত্তর কলকাতার বাড়িতে যখন পৌঁছেছেন রূপশ্রীরা। গাড়িতেই দেখা লকডাউনের নতুন ভোর। নিকষ অন্ধকার কাটানো ভোরের আকাশ। আপাতত ১৪ দিনের গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকবেন বর্ধন পরিবার।

ARNAB HAZRA

First published: May 6, 2020, 8:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर