corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে শ্রমিকদের গ্রামে ফেরাতে দালাল চক্র সক্রিয়

লকডাউনে শ্রমিকদের গ্রামে ফেরাতে দালাল চক্র সক্রিয়

সেই সুযোগে দালালরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে। সুযোগ বুঝে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে সেই দালালরা।

  • Share this:

কলকাতা  সারাদেশ লকডাউন এর ফলে শ্রমজীবী মানুষেরা খুবই বিপদে পড়েছেন।যাদের প্রতিদিন রোজগার করলে দু'বেলা অন্ন জোটে । তারা আটকে পড়েছেন বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে। বর্তমানে তাদের কাজ বন্ধ। বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকে ব্যাকুল। ট্রেন থেকে আরম্ভ করে বাস সমস্ত কিছুই বন্ধ ।উপায় নেই কোথাও যাওয়ার।   দেশের বহু শ্রমিক শ'য়ে শ'য়ে মাইল হেঁটে পাড়ি দিয়েছে নিজের গ্রামের উদ্দেশ্যে। সে ছবি মনে রাখার মত। শিশু সন্তান কাঁধে।পিঠে বড় বোঝা নিয়ে চলছেন রাস্তা ধরে। এমনও অনেকে আছেন যাদের খাওয়ার কোন টাকা পয়সা নেই। এমন কী ,মোবাইল ফোনে গ্রামের খবর দেবেন ,সেই রকম পরিস্থিতি ও নেই।   সেই সুযোগে দালালরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে। সুযোগ বুঝে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে সেই দালালরা।

কলকাতায় বিভিন্ন জেলা থেকে বহু শ্রমিক এসে কাজ করেন। বিশেষ করে নির্মাণকাজ ,রাস্তার কাজ ইত্যাদি।    লকডাউন ঘোষণার পর দীর্ঘ ৭ দিন কাজ বন্ধ। যা  টাকা ছিল, সেই টাকা প্রায় খরচ হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকে চাইছে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে। সেই সুযোগটা নিচ্ছে দালালরা।  সোমবার সকালে দক্ষিণ ২৪পরগনার গদখালি থেকে একটি বাস মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসটির নাম মামা ভাগ্নে। ওই বাসে ২৯টি বসার সিট রয়েছে। মোট ৬০জনকে নিয়ে রওনা দিয়েছে বাসটি। ভাড়া ও সমস্ত কিছু নিয়ে, এক লক্ষ টাকা আদায় করেছে।   সমস্ত কিছু কী?   গোসাবা বিডিও র  কাছ থেকে ,একটি সার্টিফিকেট বা রোড পাস করিয়ে দিয়েছে দালালরা। তারপর পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সম্পূর্ণ ফিটফাট করে ছাড়ছে বাসগুলো। এমনি সময় গদখালি থেকে মুর্শিদাবাদ বাস ভাড়া হয় ,সব থেকে বেশি হলে কুড়ি হাজার টাকা। সেখানে এক লক্ষ টাকা নিচ্ছে দালালরা।   মুর্শিদাবাদ ও অন্যান্য জেলার, যে সমস্ত শ্রমিক রয়েছে। তাদের কাছে দালালের নম্বর ৭৬৭৯৫১১৮৯২ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই নম্বরে ফোন করলেই হল । তাহলে মুর্শিদাবাদ বর্ধমান বাঁকুড়া ইত্যাদি যে সব জেলায় যাবে ,সেই জেলাতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেবে এই দালালরা।

সরকার থেকে যখন ঘোষণা করা হয়েছিল ,যে যেখানে আছেন ।সেখানেই থাকবেন ।কোন ভাবে, স্থানান্তরিত করা যাবেনা ১৪ই এপ্রিলের আগে অবধি। সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং এনজিওর তরফ থেকে প্রত্যেকের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাকুল শ্রমিকরা, তারা যতটা না নিজেরা যেতে চাইছে ।এই দালালরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছে। যার ফলে বাড়ি যেতে চাইছে শ্রমিকেরা।   এক একজন জন শ্রমিকের কাছ থেকে ,সুযোগ বুঝে দেড় থেকে দু'হাজার । আবার কারও কাছ থেকে তিন থেকে চার হাজার  টাকা নিচ্ছে, তার গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।    ওই শ্রমিকদের, এই টাকাটা থেকে গেলে সংসারের কাজে লাগতো ।কিন্তু যেভাবে দালালরা ব্যবসা করতে নেমেছে। তাতে এই মহামারী ব্যাপক আকারে ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

রাস্তায় নাকা চেকিংয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বললে, পুলিশ জানায় তারা দেখছেন গাড়িগুলো পাস নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে সেই মর্মে কোন আদেশ নেই। যে, তারা বাস গুলোকে আটকে দেবে।   সবার উপরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাস  নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা দৃঢ় হয়নি।    নেতারা বাড়িতে বাড়িতে যখন খিচুড়ি কিম্বা চালডাল নিয়ে বিলি করতে যাচ্ছেন। সঙ্গে ৫০ জনের দল, গায়ে গা ঘেষাঘেষি করে দাঁড়িয়ে বিলি করছেন। সেখানেও সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকছেই।তাহলে সাধারণ মানুষ কাকে দেখে শিখবে?   বড়ো আকারে মহামারী না ঘটলে,এই রাজ্য শিক্ষা নেবে না।

Published by: Pooja Basu
First published: March 31, 2020, 12:38 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर