কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ফেসবুকে ডাক্তারি ছাত্রীর ভুয়ো অ্যাকাউন্টে নগ্ন ছবি পোস্ট, শ্রীঘরে যুবক

ফেসবুকে ডাক্তারি ছাত্রীর ভুয়ো অ্যাকাউন্টে নগ্ন ছবি পোস্ট, শ্রীঘরে যুবক

ফেসবুকে ডাক্তারি ছাত্রীর ভুয়ো অ্যাকাউন্টে নগ্ন ছবি পোস্ট, শ্রীঘরে যুবক

  • Share this:

#কলকাতা: প্রথমে ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতানো। তারপর নিয়মিত চ্যাট করা। এইভাবে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে শেষমেষ কুপ্রস্তাব ডাক্তারির দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে। রাজী না হলে সেই ছাত্রীর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তাতে ওই ছাত্রী মুখ বসানো নগ্ন ছবি পোস্ট। এখানেই শেষ নয় সব কিছু বোঝার পরে ছাত্রীটি সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে বললে আবার টাকা চেয়ে হুমকি দিতে থাকে অভিযুক্ত যুবক শাকিল হোসেন। শেষমেষ বৃহস্পতিবার পুলিশের জালে পড়ে অভিযুক্ত যুবক শাকিল। তাকে গ্রেফতার করে টালা থানার পুলিশ।

কয়েক মাস আগে কলকাতার এক নামি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারির দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতায় শাকিল। নিয়মিত কথোপকথনের পরে দুজনের মধ্যে মোবাইল নম্বর অদল বদল হয়। তারপর ফোন আর হোয়াটসঅ্যাপে কথা বার্তা চলতে থাকে। এভাবেই বন্ধুত্ব এগিয়ে চলছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ওই ছাত্রী বুঝে যায় এই বন্ধুর উদ্দেশ্য সৎ নয়। যথারীতি ফোনেই ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বসে পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালির বাসিন্দা শাকিল।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে শাকিলকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দেন ছাত্রীটি। তার কিছুদিন পরেই তার কাছে আরও কিছু অজানা নম্বর থেকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ফোন আসতে শুরু করে। ফোনের ওপার থেকে যে ধরনের কথাবার্তা তাকে বলা হয় তাতে সন্দেহ হয় ছাত্রীর। পরে বুঝতে পারেন তারই নামে খোলা হয়েছে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট।

তারপর ফেসবুকে গিয়ে দেখেন শুধু অ্যাকাউন্টটিই নয়, একটি নগ্ন ছবির উপরে তার মুখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে যোগাযোগের উপায় হিসেবে তার নম্বরটাই দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই তার কাছে লাগাতার ফোন আসতে শুরু করেছে।

তারপর সেই ফেসবুকের বন্ধুকে ফোন করে অ্যাকাউন্ট ও ছবি মুছে দিতে বলেন ছাত্রীটি। তখন শাকিল হুমকি দিতে থাকে। জানায়, একটা শর্তেই সবকিছু ডিলিট করতে পারে যদি তাকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। টাকা দিতে রাজি না হলেও চলতে থাকে লাগাতার হুমকি। কলকাতায় এসেও টাকা চাইতে থাকে শাকিল। টাকা না দিলে ছাত্রীর গায়ে হাত তোলা হয় বলে অভিযোগ। এরপর বুধবার ফের ছাত্রীর কলেজে আসে শাকিল এবং টাকা চাইতে থাকে। সে সময়ই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় এবং তুলে দেওয়া হয় টালা থানা পুলিশের হাতে।

শাকিলকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, হুমকি, পিছু নেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে বিচারক ২৮ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

শাকিলের জামিন আটকাতে সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী বিচারককে বলেন, "সদ্যই আন্তর্জাতিক নারী দিবস সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে। সেখানে মেয়েদের সঙ্গে এ ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই জামিন পাওয়ার যোগ্য নয়। তদন্ত খুব প্রাথমিক পর্যায়ে আছে তাই তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।" প্রসঙ্গত এদিনই শিয়ালদহ আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন ওই ছাত্রী। এই ঘটনায় শাকিলের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে টালা থানার পুলিশ।

Published by: Akash Misra
First published: March 12, 2020, 11:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर